সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
জমিলা বেগম যুদ্ধের পরের বছর প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠান থেকে সেলাই এর উপর প্রশিক্ষণ নেন। সংস্থাটি একজন ব্যক্তির উদ্যোগে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের উন্নয়নে গড়ে ওঠে। জমিলা বেগম গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি সেলাই কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার এলাকায় বহু লোক প্রশিক্ষণ ও ঋণ নিয়ে নিজে স্বাবলম্বী হচ্ছে এবং অনেক তরুণ- তরুণী তাদের কাজের সাথে যুক্ত হয়েছে। ছোট ছোট উদ্যোক্তা সমাজে অনেক ইতিবাচক প্রভাব রাখছে।
- ক)(1)
সরকারি সংস্থা কাকে বলে?
- খ)(2)
নারীর ক্ষমতায়নে গ্রামীণ ব্যাংক—ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জমিলা বেগমের প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী সংস্থাটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতি সমাজে যে ভূমিকা রাখছে তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকার কর্তৃক পরিচালিত, নিয়ন্ত্রিত এবং জনসাধারণের সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে সরকারি সংস্থা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রামীণ ব্যাংক জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের মাধ্যমে গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করে নারীর ক্ষমতায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এই ব্যাংক প্রধানত নারীদের সদস্য করে তাদের হাতে সরাসরি ঋণ ও সঞ্চয়ের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয়। এর ফলে নারীরা ক্ষুদ্র ব্যবসা, হাঁস-মুরগি পালন, কুটির শিল্প ইত্যাদিতে অংশ নিয়ে আয় উপার্জন করে এবং পরিবার ও সমাজে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জমিলা বেগমের প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী সংস্থাটি হলো বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'ব্র্যাক' (BRAC)।
ব্র্যাক মুক্তিযুদ্ধের পরপরই ১৯৭২ সালে স্যার ফজলে হাসান আবেদের উদ্যোগে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের শরণার্থী ও দরিদ্র মানুষের পুনর্বাসন এবং গ্রামীণ উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে এটি 'বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি' নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় রূপান্তরিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে, জমিলা বেগম যে প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তা যুদ্ধের পরের বছর অর্থাৎ ১৯৭২ সালে একজন ব্যক্তির একক উদ্যোগে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের উন্নয়নে গড়ে উঠেছিল। সংস্থাটি প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলে, যা ব্র্যাকের মূল কার্যক্রমের সাথে হুবহু মিলে যায়। সুতরাং, সংস্থাটি হলো 'ব্র্যাক'।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)-র মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রঋণ ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়নে অসাধারণ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। এর তাৎপর্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা: প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত নারীরা গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হচ্ছে, যা পারিবারিক দারিদ্র্য দূর করতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে।
২. নারীর ক্ষমতায়ন: সেলাই কাজ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নারীদের অর্থনৈতিক নির্ভরতা হ্রাস পাচ্ছে এবং পরিবার ও সমাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।
৩. তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি: নতুন নতুন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বেকার তরুণ-তরুণীদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, যা বেকারত্ব হ্রাস এবং যুবসমাজকে অপকর্ম থেকে দূরে রাখতে ভূমিকা রাখছে।
৪. গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা: ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসারের ফলে গ্রামীণ বাজারে অর্থের সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং সার্বিক সামাজিক জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
সুতরাং বলা যায়, তৃণমূল পর্যায়ের এ ধরনের উদ্যোগ দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিতের মাধ্যমে সমাজে টেকসই উন্নয়ন ঘটাতে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও