জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

মানুষের প্রশ্বাস-নিশ্বাস প্রক্রিয়া একটি বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। প্রক্রিয়াটির সাথে স্নায়ু উদ্দীপনা জড়িত।

  1. ক)

    ওটিটিস মিডিয়া কী?

    (1)
  2. খ)

    শ্বাসরঞ্জক বলতে কী বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের অঙ্গটির এককের গঠন সচিত্র বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষোক্ত বাক্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মধ্যকর্ণের সংক্রমণ বা প্রদাহজনিত রোগকে ওটিটিস মিডিয়া (Otitis media) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব রঞ্জক পদার্থ রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহনে অংশ নেয়, তাদের শ্বাসরঞ্জক (Respiratory pigment) বলে। যেমন— মানুষের রক্তের হিমোগ্লোবিন। হিমোগ্লোবিনে 'হিম' নামক লৌহযুক্ত অংশ এবং 'গ্লোবিন' নামক প্রোটিন থাকে, যা অক্সিজেনের সাথে অস্থায়ী যৌগ অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে কোষে অক্সিজেন পরিবহন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো ফুসফুস এবং ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যকর একক হলো অ্যালভিওলাস (Alveolus)।

    অ্যালভিওলাসের গঠন বর্ণনা:
    ১. আকার ও প্রাচীর: অ্যালভিওলাস দেখতে ছোট বায়ুথলির মতো, যার ব্যাস প্রায় ০.২ মিলিমিটার। এর প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা (প্রায় ০.১ মাইক্রোমিটার) এবং একস্তরবিশিষ্ট আইশাকার বা স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াল কোষে গঠিত।
    ২. কৈশিক জালক: প্রাচীরের বাইরের দিকে ঘন রক্তজালক বা কৈশিক জালিকার বিস্তার থাকে, যা পালমোনারি ধমনি ও শিরার সাথে যুক্ত।
    ৩. সারফেকট্যান্ট ক্ষরণকারী কোষ: অ্যালভিওলাসের অন্তঃপ্রাচীরে 'টাইপ-২ নিউমোসাইট' নামক বিশেষ কোষ থাকে, যা ফসফোলিপিড জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ 'সারফেকট্যান্ট' (Surfactant) ক্ষরণ করে। এটি তরলের পৃষ্ঠটান হ্রাস করে শ্বাসত্যাগের সময় অ্যালভিওলাসকে চুপসে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
    ৪. অ্যালভিওলার ম্যাক্রোফেজ: ফুসফুসে প্রবেশ করা ধূলিকণা ও জীবাণু ধ্বংস করার জন্য এতে ফ্যাগোসাইটিক ম্যাক্রোফেজ কোষ উপস্থিত থাকে।

    (পরীক্ষার খাতায় অ্যালভিওলাসের একটি চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে হবে, যাতে স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াম, সারফেকট্যান্ট স্তর, কৈশিক জালক, শ্বেত রক্তকণিকা ইত্যাদি নির্দেশিত থাকবে।)

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষোক্ত বাক্যটি হলো— "প্রক্রিয়াটির সাথে স্নায়ু উদ্দীপনা জড়িত"। এটি শ্বাসক্রিয়ার স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণকে নির্দেশ করে, যা মানবদেহের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    তাৎপর্য বিশ্লেষণ:
    ১. শ্বসনকেন্দ্রের ভূমিকা: মানুষের প্রশ্বাস-নিশ্বাস প্রধানত মস্তিষ্কের মেডুলা অবলংগাটা ও পনসে অবস্থিত শ্বসনকেন্দ্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই কেন্দ্রে চারটি প্রধান অংশ রয়েছে— ডরসাল রেসপিরেটরি গ্রুপ (প্রশ্বাস কেন্দ্র), ভেন্ট্রাল রেসপিরেটরি গ্রুপ (নিশ্বাস কেন্দ্র), নিউমোট্যাক্সিক কেন্দ্র এবং অ্যাপনিউস্টিক কেন্দ্র।
    ২. প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ: রক্তের কার্বন ডাই-অক্সাইড মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশ্বাস কেন্দ্র উদ্দীপিত হয়। এখান থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা ফ্রেনিক স্নায়ুর (Phrenic nerve) মাধ্যমে মধ্যচ্ছদা (Diaphragm) এবং ইন্টারকোস্টাল স্নায়ুর মাধ্যমে ইন্টারকোস্টাল পেশিতে পৌঁছায়। ফলে পেশি সংকুচিত হয়, বক্ষগহ্বরের আয়তন বাড়ে এবং ফুসফুসে বায়ু প্রবেশ করে (প্রশ্বাস)।
    ৩. নিশ্বাস নিয়ন্ত্রণ ও হেরিং-ব্রুয়ের প্রতিবর্তী ক্রিয়া: অতিরিক্ত বায়ু প্রবেশের ফলে ফুসফুস প্রসারিত হলে ফুসফুসের প্রাচীরের টান গ্রাহক (Stretch receptors) উদ্দীপিত হয়। এই উদ্দীপনা ভেগাস স্নায়ুর মাধ্যমে নিউমোট্যাক্সিক কেন্দ্রে পৌঁছায়, যা প্রশ্বাস কেন্দ্রকে বাধা দেয়। ফলে মধ্যচ্ছদা ও ইন্টারকোস্টাল পেশি শিথিল হয় এবং ফুসফুস সংকুচিত হয়ে বাতাস বাইরে বের হয়ে যায় (নিশ্বাস)।

    সুতরাং, স্নায়বিক উদ্দীপনা ও নিয়ন্ত্রণের কারণেই মানুষের শ্বাসক্রিয়া অবিরাম, ছন্দোময় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন