জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ্য কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

- ক)(1)
সিলোম কী
- খ)(2)
জীব বৈচিত্র্য বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'A' প্রাণীটিকে মাছ নামে জানলেও প্রকৃতপক্ষে মাছ নয়— ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'B' ও 'C' প্রানী দুটি একই উপপর্বের হলেও একই শ্রেণিভুক্ত নয়— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে সৃষ্ট এবং মেসোডার্মাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত দেহপ্রাচীর ও পৌষ্টিকনালির মধ্যবর্তী তরলপূর্ণ গহ্বরকে সিলোম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৃথিবীর বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রে বসবাসকারী জলজ, স্থলজ ও অন্যান্য পরিবেশের সকল জীবের মধ্যে বিদ্যমান জিনগত, প্রজাতিগত ও বাস্তুতান্ত্রিক ভিন্নতা বা বৈচিত্র্যকে জীববৈচিত্র্য বলে।
জীববৈচিত্র্য সাধারণত তিন প্রকার হয়ে থাকে— জিনগত বৈচিত্র্য, প্রজাতি বৈচিত্র্য এবং বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক জীবমণ্ডলের স্থায়িত্বের জন্য অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত 'A' প্রাণীটি হলো তারামাছ (Starfish)। একে লোকমুখে 'মাছ' বলা হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে কোনো মাছ নয়।
প্রকৃত মাছ হতে হলে প্রাণীটিকে কর্ডাটা পর্বের ভার্টিব্রাটা উপপর্বভুক্ত হতে হয়। মাছের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো— এরা শীতল রক্তবিশিষ্ট জলজ মেরুদণ্ডী প্রাণী, এদের শ্বসন অঙ্গ হিসেবে ফুলকা এবং চলন অঙ্গ হিসেবে জোড় ও বিজোড় পাখনা থাকে এবং ত্বক সাধারণত আঁইশে ঢাকা থাকে।
অন্যদিকে, তারামাছ হলো নন-কর্ডাটা অর্থাৎ অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত একাইনোডার্মাটা (Echinodermata) পর্বের প্রাণী। এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—
১. দেহ পঞ্চ-অরীয় প্রতিসম এবং কোনো মেরুদণ্ড নেই।
২. এদের দেহে অনন্য পানিসংবহন তন্ত্র (Water vascular system) এবং নালিকা পদ (Tube feet) বিদ্যমান, যা চলনে সাহায্য করে; কোনো পাখনা নেই।
৩. ত্বক স্পাইন ও পেডিসিলেরি দ্বারা আবৃত, কোনো আঁইশ নেই।
৪. শ্বসন ঘটে ডার্মাল ব্রাঙ্কি বা ত্বকের ফুলকা দ্বারা, যা প্রকৃত মাছের ফুলকা থেকে ভিন্ন।অতএব, মাছের কোনো মৌলিক বৈশিষ্ট্য (যেমন— মেরুদণ্ড, পাখনা, ফুলকা ছিদ্র ইত্যাদি) বিদ্যমান না থাকায় তারামাছকে মাছ নামে ডাকা হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে মাছ নয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত 'B' প্রাণীটি হলো হাঙর (Shark) এবং 'C' প্রাণীটি হলো অস্থিময় মাছ (Bony fish)। এরা উভয়ই কর্ডাটা পর্বের ভার্টিব্রাটা (Vertebrata) উপপর্বের অন্তর্ভুক্ত হলেও গাঠনিক ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যের কারণে একই শ্রেণিভুক্ত নয়। নিম্নে এদের শ্রেণিগত ভিন্নতা বিশ্লেষণ করা হলো:
প্রাণী 'B' (হাঙর) কনড্রিকথিস (Chondrichthyes) শ্রেণির এবং প্রাণী 'C' অ্যাক্টিনোপটেরিজি (Actinopterygii) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এদের মধ্যকার তুলনামূলক পার্থক্যসমূহ:
১. অন্তকঙ্কাল: হাঙরের ('B') অন্তকঙ্কাল সম্পূর্ণভাবে তরুণাস্থিময় (Cartilaginous)। অন্যদিকে, 'C' প্রাণীর অন্তকঙ্কাল প্রধানত অস্থিময় (Bony)।
২. ত্বকের আঁইশ: 'B'-এর ত্বক প্লাকয়েড (Placoid) ধরনের ক্ষুদ্র কাঁটার মতো আঁইশে ঢাকা থাকে। অপরদিকে, 'C'-এর ত্বক সাইক্লয়েড (Cycloid) বা টিনয়েড (Ctenoid) আঁইশে আবৃত অথবা আঁইশহীন।
৩. ফুলকারন্ধ্র ও কানকো: 'B'-এর ক্ষেত্রে দেহের দুপাশে ৫-৭ জোড়া উন্মুক্ত ফুলকারন্ধ্র থাকে এবং কানকো (Operculum) অনুপস্থিত। কিন্তু 'C'-এর ক্ষেত্রে ৪ জোড়া ফুলকা থাকে যা কানকো দ্বারা আবৃত থাকে।
৪. পুচ্ছ পাখনা: হাঙরের পুচ্ছ পাখনা হেটারোসার্কাল (Heterocercal) ধরনের, যার দুটি খণ্ডক অসমান। অপরপক্ষে, 'C'-এর পুচ্ছ পাখনা হোমোসার্কাল (Homocercal) প্রকৃতির, যার দুটি খণ্ডক সমান।
৫. পটকা বা বায়ুথলি: 'B' প্রাণীতে পটকা বা বায়ুকুঠুরি থাকে না, ফলে পানিতে ভেসে থাকার জন্য একে অবিরাম সাঁতার কাটতে হয়। কিন্তু 'C' প্রাণীতে বায়বীয় থলি বা পটকা (Swim bladder) বিদ্যমান, যা প্লবতা রক্ষায় সাহায্য করে।
৬. মুখছিদ্রের অবস্থান: 'B'-এর মুখছিদ্র মস্তকের অঙ্কীয়দেশে অবস্থিত, কিন্তু 'C'-এর মুখছিদ্র সাধারণত মস্তকের অগ্রপ্রান্তে অবস্থিত।উপর্যুক্ত বৈশিষ্ট্যাবলীর কারণে উদ্দীপকের 'B' এবং 'C' প্রাণী দুটি একই উপপর্ব (Vertebrata)-ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও যথাক্রমে Chondrichthyes ও Actinopterygii নামক দুটি পৃথক শ্রেণিতে বিন্যস্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও