ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
রাজীব কুমার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও আজ বড় কর্মকর্তা হয়েছে। রাজীব ভাবে তার বাবা নরম কাদামাটি থেকে কলস, হাঁড়ি ও বিভিন্ন রকমের পাত্র তৈরি করতো। তার বন্ধু জয়নাল কোনো কাজ ঘৃণা করে না। সে দশটি পুকুরে মাছ চাষ করে। আর ঐ পুকুর পাড়ে ফলায় নানা রকমের গোলাপ। এতে তার আয়ও হয় প্রচুর।
- ক)(1)
সমুদ্র হতে মৎস্য শিকার কোন শিল্পের অন্তর্গত?
- খ)(2)
শিল্প বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
রাজীবের বাবার আয় কোন উপযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে হয়েছে? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
জয়নাল কীভাবে তার ব্যবসায়ের প্রসার ঘটাতে পারে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমুদ্র হতে মৎস্য শিকার নিষ্কাশন শিল্পের অন্তর্গত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে কাঁচামালকে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী পণ্যে রূপান্তর করার কর্মপ্রচেষ্টাকে শিল্প বলে।
শিল্পকে উৎপাদনের বাহন বিবেচনা করা হয়। এটি কাঁচামালের রূপগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন উপযোগ সৃষ্টি করে মানুষের অভাব মোচন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাজীবের বাবার আয় রূপগত উপযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে হয়েছে।
প্রকৃতিপ্রদত্ত কোনো বস্তুর আকার বা রূপ পরিবর্তন করে নতুন যে কার্যকারিতা বা উপযোগ সৃষ্টি করা হয়, তাকে রূপগত উপযোগ বলে। শিল্প মূলত রূপগত উপযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের অভাব মেটায় ও ব্যবসায়িক আয় নিশ্চিত করে।
উদ্দীপকে রাজীবের বাবা একজন কুমার ছিলেন। তিনি প্রকৃতিপ্রদত্ত নরম কাদামাটির বাহ্যিক রূপ ও আকৃতি পরিবর্তন করে কলস, হাঁড়ি ও বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারযোগ্য মাটির পাত্র তৈরি করতেন। কাদামাটিকে পাত্রে রূপান্তরের মাধ্যমে তিনি পাত্রসমূহের রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করেছিলেন এবং তা বিক্রয় করেই জীবিকা নির্বাহ ও আয় করতেন। সুতরাং, তাঁর আয় রূপগত উপযোগ সৃষ্টির ফলেই সম্ভব হয়েছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জয়নাল আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগ, বহুমুখীকরণ, সঠিক বাজারজাতকরণ এবং বাণিজ্যিক প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তার ব্যবসায়ের প্রসার ঘটাতে পারে।
যেকোনো উৎপাদনমূলক ব্যবসায়ের সম্প্রসারণের জন্য উন্নত ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তির সংযোজন, বিকল্প পণ্যের উদ্ভাবন এবং সুষ্ঠু বণ্টন প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জয়নাল দশটি পুকুরে মাছ চাষ করে এবং পুকুর পাড়ে বিভিন্ন জাতের গোলাপ চাষ করে প্রচুর আয় করছে। সে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে ব্যবসায়ের অধিক প্রসার ঘটাতে পারে:
১. বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার: সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক মৎস্যচাষ প্রযুক্তি (যেমন- বায়োফ্লক, উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত পানির গুণমান পরীক্ষা) ব্যবহার করে মাছের উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।
২. ফুল চাষের আধুনিকায়ন ও বিপণন: গ্রিনহাউস বা শেড নেট ব্যবহার করে উন্নত জাতের গোলাপ চাষ এবং দেশের বড় শহরগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
৩. প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ভ্যালু অ্যাডিশন: মাছ সংরক্ষণাগার (কোল্ড স্টোরেজ) স্থাপন, শুঁটকি তৈরি বা প্যাকেজিং করে বাজারজাত করা এবং গোলাপ ফুল থেকে গোলাপজল ও সুগন্ধি তেল তৈরির মতো সহায়ক ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তোলা যায়।
৪. ঋণ সুবিধা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ: ব্যবসায়ের পরিধি বাড়াতে বাণিজ্যিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ গ্রহণ করে ব্যবসার প্রাতিষ্ঠানিক বিস্তার ঘটানো যায়।অতএব, যথাযথ পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিপণন কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জয়নাল তার বর্তমান কার্যক্রমকে এক বিশাল বাণিজ্যিক উদ্যোগে পরিণত করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও