জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

কোষ অঙ্গাণু 'J' উদ্ভিদ কোষে বর্তমান এবং আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। কোষ অঙ্গাণু 'K' সকল কোষে বর্তমান এবং এক প্রকার জৈব এসিডের ছাঁচ অনুযায়ী অ্যামিনো এসিড দ্বারা বৃহদাকার জৈব অণু তৈরি করে।

  1. ক)

    সাইটোপ্লাজম কী?

    (1)
  2. খ)

    নিউট্রাল লিপিড বলতে কী বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'J' কোষ অঙ্গাণুর গঠন চিহ্নিত চিত্রসহ বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    মানবদেহে উদ্দীপকের জৈব অণুর গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিউক্লিয়াস ব্যতীত প্রোটোপ্লাজমের বাকি অর্ধতরল ও জেলির মতো অংশকে সাইটোপ্লাজম বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    এক অণু গ্লিসারলের সাথে এক থেকে তিন অণু ফ্যাটি এসিডের এস্টার বন্ধন সৃষ্টির মাধ্যমে গঠিত লিপিডকে নিউট্রাল লিপিড বা ট্রাইগ্লিসারাইড বলে। এটি অ্যাসিড বা ক্ষারীয় কোনো ধর্ম প্রদর্শন করে না বলে একে নিউট্রাল লিপিড বা নিরপেক্ষ চর্বি বলা হয়। উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহে এটি প্রধানত শক্তি সঞ্চয়কারী উপাদান হিসেবে কাজ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'J' কোষ অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট, যা আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।

    ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন:
    ১. আবরণী ঝিল্লি: এটি লিপোপ্রোটিন নির্মিত দ্বিস্তরী ঝিল্লি দ্বারা আবৃত।
    ২. স্ট্রোমা: ঝিল্লি দ্বারা পরিবেষ্টিত সমসত্ব, তরল ও দানাদার ম্যাট্রিক্সকে স্ট্রোমা বলে। এতে সালোকসংশ্লেষণের অন্ধকার পর্যায়ের এনজাইম থাকে।
    ৩. থাইলাকয়েড ও গ্রানাম: স্ট্রোমার মধ্যে অসংখ্য থলে আকৃতির চ্যাপ্টা থলি থাকে, যাদের থাইলাকয়েড বলে। কতগুলো থাইলাকয়েড স্তূপাকারে সাজানো থেকে গ্রানাম গঠন করে। গ্রানামের থাইলাকয়েড ঝিল্লিতে ক্লোরোফিল অণু থাকে।
    ৪. স্ট্রোমা ল্যামেলি: দুটি পাশাপাশি গ্রানার মধ্যে সংযোগকারী সূক্ষ্ম নালিকাকে স্ট্রোমা ল্যামেলি বলে।
    ৫. নিজস্ব DNA ও রাইবোজোম: স্ট্রোমাতে বৃত্তাকার DNA এবং ৭০S প্রকৃতির রাইবোজোম থাকে, যার মাধ্যমে এটি নিজস্ব প্রোটিন সংশ্লেষণ করতে পারে।
    (পরীক্ষায় চিহ্নিত চিত্র: আবরণী, স্ট্রোমা, গ্রানাম, থাইলাকয়েড, স্ট্রোমা ল্যামেলি ও DNA চিহ্নিত করতে হবে।)

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত বৃহদাকার জৈব অণুটি হলো 'প্রোটিন', যা রাইবোজোমে সংশ্লেষিত হয়। মানবদেহে প্রোটিনের গুরুত্ব অপরিসীম:

    ১. গঠনগত উপাদান: মানবদেহের কোষঝিল্লি, পেশি, অস্থি, ত্বক, চুল ও নখ ইত্যাদি গঠনের প্রধান উপাদান হলো প্রোটিন (যেমন- কোলাজেন, কেরাটিন)।
    ২. জৈব অনুঘটক বা এনজাইম: মানবদেহের সকল বিপাকীয় ক্রিয়া নিয়ন্ত্রক এনজাইমসমূহ মূলত প্রোটিন দ্বারা গঠিত।
    ৩. হরমোন উৎপাদন: বহু অপরিহার্য হরমোন (যেমন- ইনসুলিন, গ্রোথ হরমোন) প্রোটিন দ্বারা তৈরি, যা শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
    ৪. রোগ প্রতিরোধ: মানবদেহে রোগ প্রতিরোধকারী অ্যান্টিবডি প্রোটিন দিয়েই গঠিত, যা বাহ্যিক জীবাণু ধ্বংস করে।
    ৫. পরিবহন: রক্তের হিমোগ্লোবিন নামক প্রোটিন অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহনে অংশ নেয়।
    ৬. ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি: দৈহিক বৃদ্ধি এবং কোষের ক্ষয়পূরণে প্রোটিন মৌলিক ভূমিকা রাখে।

    সুতরাং, মানবদেহের গঠন ও সুষ্ঠু জীবনধারণে প্রোটিনের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন