উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
জুয়েল সাহেব একটি প্রতিষ্ঠানের মান ব্যবস্থাপক। তিনি পণ্যের মান নির্ধারণে ভোক্তাদের প্রত্যাশার বিষয়টি বিবেচনা করেন এবং তা পূরণের চেষ্টা চালান। কিন্তু উৎপাদনকার্যে কর্মীদের মতামতকে কোনো গুরুত্ব না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক মান ব্যবস্থাপনার কাজটি অসম্পূর্ণ থাকে ।
- ক)(1)
মান ব্যবস্থাপনা কী?
- খ)(2)
“মান নিয়ন্ত্রণ পণ্যের আদর্শমান নিশ্চিত করে”- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
জুয়েল সাহেব কোন নীতিটি অনুসরণ করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“সার্বিক মান ব্যবস্থাপনায় কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা প্রয়োজন”- উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মান ব্যবস্থাপনা হলো একটি সামগ্রিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া যা পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও ক্রেতার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ ও ধারাবাহিক মানোন্নয়ন কার্যক্রমের সাথে জড়িত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মান নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত আদর্শ মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিচ্যুতি দূর করে আদর্শ মান নিশ্চিত করে।
মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় প্রথমে পণ্যের একটি কাঙ্ক্ষিত বা আদর্শ মান নির্দিষ্ট করা হয়। এরপর প্রকৃত উৎপাদনকে সেই আদর্শ মানের সাথে তুলনা করে দেখা হয় কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি আছে কি না। বিচ্যুতি ধরা পড়লে তা সংশোধনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যার ফলে চূড়ান্ত পণ্যটি সবসময় পূর্বনির্ধারিত আদর্শ মানসম্পন্ন হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জুয়েল সাহেব সার্বিক মান ব্যবস্থাপনার (TQM) 'গ্রাহক বা ভোক্তা কেন্দ্রিকতা' (Customer Focus) নীতিটি অনুসরণ করেছেন।
সার্বিক মান ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হলো ভোক্তাদের সন্তুষ্টি অর্জন। ভোক্তা কেন্দ্রিকতা নীতি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কর্মকাণ্ড এমনভাবে পরিচালিত হয় যাতে পণ্যের ডিজাইন ও মান নির্ধারণে ক্রেতাদের প্রয়োজন, প্রত্যাশা ও পছন্দকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জুয়েল সাহেব একজন মান ব্যবস্থাপক হিসেবে পণ্যের মান নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের প্রত্যাশার বিষয়টি বিবেচনা করেন এবং সেই অনুযায়ী তা পূরণের চেষ্টা চালান। ভোক্তাদের মতামত ও চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে মান নির্ধারণের এই উদ্যোগ সার্বিক মান ব্যবস্থাপনার 'গ্রাহক কেন্দ্রিকতা' নীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“সার্বিক মান ব্যবস্থাপনায় কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা প্রয়োজন”—উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।
সার্বিক মান ব্যবস্থাপনা (TQM) হলো প্রতিষ্ঠানের একটি সর্বাত্মক দর্শন, যার সফল বাস্তবায়নের জন্য উচ্চস্তর থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সকল কর্মীর সক্রিয় অংশগ্রহণ, ক্ষমতায়ন এবং মতামত প্রদান আবশ্যক। কর্মীরাই সরাসরি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকেন, ফলে তাদের সম্পৃক্ততা ছাড়া মানের সার্বিক উন্নয়ন অসম্ভব।
উদ্দীপকে লক্ষ্য করা যায়, জুয়েল সাহেব পণ্যের মান নির্ধারণে ক্রেতাদের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিলেও উৎপাদনকার্যে কর্মীদের মতামত বা অংশগ্রহণকে কোনো গুরুত্ব দেননি। এর ফলস্বরূপ প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক মান ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কর্মীরা নিজেদের অবহেলিত মনে করায় মান উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে পারছে না।
উৎপাদন কাজে নিয়োজিত কর্মীরা যন্ত্র ও প্রক্রিয়ার সমস্যাগুলো সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন। কর্মীদের মতামত গ্রহণ, মানোন্নয়নে তাদের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের সম্পৃক্ত করা গেলে অপচয় হ্রাস পায় এবং পণ্যের নিখুঁত মান নিশ্চিত হয়। তাই কর্মীদের মতামত ও অংশগ্রহণ ছাড়া কেবল বাহ্যিক নীতি নির্ধারণ করে সার্বিক মান অর্জন সম্ভব নয়। সুতরাং, সার্বিক মান ব্যবস্থাপনার সফল রূপায়ণে কর্মীদের পূর্ণ সংশ্লিষ্টতা অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও