গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • রাজশাহী মহিলা কলেজ • রাজশাহী মহিলা কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
নিচের ছক দুটি লক্ষ করো:
ছক-A: বেনজিন, গ্লিসারিন, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
ছক-B: কেরোসিন, তারপিন, অ্যালকোহল
- ক)(1)
অ্যাপ্লিক কী?
- খ)(2)
রিফু পোশাককে ব্যবহারযোগ্য করে। বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
ছক-A এর দ্রব্যগুলো কোন ধরনের দাগ অপসারক? এগুলোর সুতি বস্ত্রের পরিষ্কারক হিসেবে অধিক উপযোগী-ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রেশম বস্ত্রের সকল প্রকার দাগ অপসারণে ছক A এবং ছক -B এর দ্রব্যগুলো সমভাবে কার্যকরী- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এক টুকরো কাপড়ের ওপর অন্য কাপড়ের নকশা কেটে বসিয়ে সুই-সুতা দিয়ে সেলাই করে ফুটিয়ে তোলার শিল্পকর্মকে অ্যাপ্লিক বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পোশাকের কোনো অংশ ছিঁড়ে বা ফেঁসে গেলে তা সুতা দিয়ে বিশেষ বুননের মাধ্যমে এমনভাবে মেরামত করা হয় যাতে তা সহজে বোঝা না যায়— একে রিফু বলে।
পোশাক ব্যবহারের ফলে কখনো কখনো কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় টান লেগে বা ঘর্ষণে কাপড় ছিঁড়ে যেতে পারে। সম্পূর্ণ ভালো একটি পোশাক সামান্য ছেঁড়ার কারণে অব্যবহারযোগ্য হয়ে পড়া অপচয়ের শামিল। সূক্ষ্মভাবে রিফুকর্মের মাধ্যমে ছেঁড়া অংশটি নিখুঁতভাবে ঢেকে দেওয়া হয়, ফলে পোশাকটির ক্ষতি পূরণ হয় এবং তা পুনরায় দীর্ঘদিন ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছক-A এর দ্রব্যগুলো হলো রাসায়নিক দাগ অপসারক (যার মধ্যে বেনজিন দ্রাবক, গ্লিসারিন পিচ্ছিলকারক/নমনীয়কারক এবং হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড মৃদু ব্লিচিং বা বর্ণনাশক পদার্থ হিসেবে ব্যবহৃত হয়)।
সুতি বস্ত্র সেলুলোজ জাতীয় তন্তু দিয়ে তৈরি হওয়ায় এটি অত্যন্ত শক্ত, মজবুত এবং তাপ ও বিভিন্ন রাসায়নিকের প্রতি যথেষ্ট সহনশীল। সুতি কাপড়ে দাগ লাগলে তা দূর করার জন্য ব্লিচিং এজেন্ট (যেমন: হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড) কিংবা দাগ দ্রবীভূতকারী উপাদান (যেমন: গ্লিসারিন ও বেনজিন) ব্যবহার করলে তন্তুর কোনো ক্ষতি হয় না। হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড মৃদু ব্লিচ হওয়ায় এটি সুতি কাপড়ের তন্তুকে দুর্বল না করেই চা, কফি, রক্ত ইত্যাদির জেদি দাগ সহজেই তুলে ফেলে এবং বস্ত্রের ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখে। অন্যদিকে বেনজিন ও গ্লিসারিন তেল, চর্বি ও রঙের দাগ দূর করতে সুতি বস্ত্রে অত্যন্ত কার্যকরভাবে কাজ করে। তাই উপাদানগুলো সুতি বস্ত্রের পরিষ্কারক হিসেবে অধিক উপযোগী।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের উক্তিটি যথার্থ নয়; অর্থাৎ রেশম বস্ত্রের সকল প্রকার দাগ অপসারণে ছক-A এবং ছক-B এর দ্রব্যগুলো সমভাবে কার্যকরী নয়।
রেশম হলো প্রাণিজ বা প্রোটিন জাতীয় তন্তু। এই তন্তু অত্যন্ত সূক্ষ্ম, সংবেদনশীল এবং তীব্র ক্ষার বা শক্তিশালী ব্লিচিং উপাদানের সংস্পর্শে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে।
ছক-A এর দ্রব্যগুলোর মধ্যে গ্লিসারিন এবং বেনজিন রেশমের তন্তুর ক্ষতি না করে দাগ দূর করতে সহায়ক হলেও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড একটি ব্লিচিং এজেন্ট। হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রেশমি বস্ত্রের ক্ষেত্রে খুব সতর্কতার সাথে এবং মৃদু মাত্রায় ব্যবহার করতে হয়; অতিরিক্ত বা অসাবধান ব্যবহারে রেশমি কাপড়ের রঙ নষ্ট বা তন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, ছক-B এর দ্রব্যগুলো (কেরোসিন, তারপিন, অ্যালকোহল) হলো প্রধানত জৈব দ্রাবক। এগুলো তেল, চর্বি, গ্রিজ বা রঙের দাগ দ্রবীভূত করে রেশম বস্ত্র থেকে দাগ অপসারক হিসেবে কাজ করে। তবে অ্যালকোহল রঙিন রেশমি কাপড়ের রঙ নষ্ট বা চটা করতে পারে এবং কেরোসিন বা তারপিনের তীব্র গন্ধ ও অবশিষ্টাংশ রেশমি কাপড় থেকে পুরোপুরি ধুয়ে ফেলা কঠিন হতে পারে।
তাছাড়া বিভিন্ন প্রকার দাগের রাসায়নিক প্রকৃতি আলাদা (যেমন: প্রোটিন দাগ, অম্লীয় দাগ, চর্বিজাতীয় দাগ)। দ্রাবকগুলো কেবল চর্বি বা রঙের মতো দাগের ওপর কাজ করে, কিন্তু প্রোটিন বা উদ্ভিজ্জ দাগের ওপর কার্যকর নয়। অতএব, দাগের প্রকৃতি ও তন্তুর সংবেদনশীলতার কারণে ছক-A এবং ছক-B এর দ্রব্যগুলো রেশম বস্ত্রের সকল প্রকার দাগ অপসারণে সমভাবে কার্যকরী নয়; বরং দাগভেদে নির্দিষ্ট দ্রব্য সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও