জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    অ্যাটরেশিয়া কী?

    (1)
  2. খ)

    রুইমাছের বায়ুথলির কাজ লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে নির্দেশিত হৃদপিণ্ডের গঠন সচিত্র বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সাথে মানবদেহের রক্তসংবহন প্রক্রিয়ার তুলনামূলক আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ডিম্বাশয়ে প্রাথমিক ফলিকলগুলোর পূর্ণাঙ্গ ডিম্বাণুতে পরিণত না হয়ে বিনষ্ট বা অবলুপ্ত হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ফলিকুলার অ্যাটরেশিয়া (Atresia) বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রুইমাছের বায়ুথলি বা পটকার প্রধান কাজগুলো নিম্নরূপ:
    ১. হাইড্রোস্ট্যাটিক অঙ্গ হিসেবে কাজ করা: গ্যাস ধারণ ও মুক্ত করার মাধ্যমে এটি মাছের আপেক্ষিক গুরুত্ব নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে মাছ পানির বিভিন্ন গভীরতায় স্থিরভাবে ভেসে থাকতে পারে।
    ২. শ্বসন ও অক্সিজেন ভান্ডার: প্রতিকূল পরিবেশে বা পানিতে অক্সিজেনের অভাব হলে এটি কিছু মাত্রায় সম্পূরক শ্বসনে এবং অক্সিজেনের আধার হিসেবে ভূমিকা রাখে।
    ৩. শব্দ তৈরি ও গ্রহণ: ওয়েবেরিয়ান অসিকল (Weberian ossicles)-এর মাধ্যমে অন্তঃকর্ণের সাথে যুক্ত থেকে এটি শব্দ গ্রহণ ও অনুভূতির কাজ করে।
    ৪. সমতা রক্ষা: মাছের দেহের ভারসাম্য ও ভরকেন্দ্র ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত সংবহনতন্ত্রটি একচক্রী সংবহন নির্দেশ করে, যা মাছের (যেমন রুই মাছ) বৈশিষ্ট্য। সুতরাং, উদ্দীপকে নির্দেশিত হৃদপিণ্ডটি হলো রুইমাছের হৃদপিণ্ড।

    রুইমাছের হৃদপিণ্ডের গঠন:
    রুইমাছের হৃদপিণ্ড পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত এবং এটি দুটি প্রধান প্রকোষ্ঠ ও দুটি উপ-প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত:

    ১. সাইনাস ভেনোসাস (উপ-প্রকোষ্ঠ): এটি পাতলা প্রাচীরযুক্ত একটি উপ-প্রকোষ্ঠ। দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত ডাক্টাস কুভিয়ারির মাধ্যমে প্রথমে এই প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করে। এর মুখে সাইনো-অ্যাট্রিয়াল ছিদ্র ও কপাটিকা থাকে।
    ২. অলিন্দ বা অ্যাট্রিয়াম (প্রধান প্রকোষ্ঠ): সাইনাস ভেনোসাসের ঠিক সামনে অবস্থিত বড়, পাতলা প্রাচীরযুক্ত প্রকোষ্ঠ। সাইনাস ভেনোসাস থেকে রক্ত এতে আসে এবং অলিন্দ-নিলয় ছিদ্রের মাধ্যমে নিলয়ে প্রেরিত হয়। এ ছিদ্রে অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার কপাটিকা থাকে যা রক্তের বিপরীত প্রবাহ রোধ করে।
    ৩. নিলয় বা ভেন্ট্রিকল (প্রধান প্রকোষ্ঠ): এটি হৃদপিণ্ডের সবচেয়ে পুরু এবং পেশিবহুল প্রকোষ্ঠ। অলিন্দ থেকে রক্ত নিলয়ে আসে এবং নিলয়ের সংকোচনের ফলে রক্ত বাল্বাস আর্টারিওসাসে নিক্ষিপ্ত হয়।
    ৪. বাল্বাস আর্টারিওসাস (উপ-প্রকোষ্ঠ/স্ফীত অংশ): এটি ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টার গোড়ার স্ফীত অংশ। এর গোড়ায় কপাটিকা থাকে যা রক্তকে পুনরায় নিলয়ে ফিরে আসতে বাধা দেয়। এখান থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টার মাধ্যমে ফুলকায় প্রেরিত হয়।

    যেহেতু এই হৃদপিণ্ডের মধ্য দিয়ে সর্বদা শুধু CO2CO_2 সমৃদ্ধ রক্ত প্রবাহিত হয়, তাই একে 'শিরা হৃদপিণ্ড' বা 'ভেনাস হার্ট' বলা হয়।

    (পরীক্ষায় রুইমাছের হৃদপিণ্ডের অনুদৈর্ঘ্য ছেদের একটি চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে হবে, যাতে সাইনাস ভেনোসাস, অলিন্দ, নিলয়, বাল্বাস আর্টারিওসাস এবং কপাটিকাসমূহ প্রদর্শিত থাকে।)

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত সংবহনটি হলো মাছের (রুই মাছ) একচক্রী রক্তসংবহন এবং এর সাথে মানবদেহের দ্বিচক্রী রক্তসংবহন প্রক্রিয়ার তুলনামূলক আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. সংবহন চক্রের ধরন:

    • উদ্দীপকের সংবহন: এটি একচক্রী (Single circulation) রক্তসংবহন। এখানে দেহের এক পূর্ণ চক্রে রক্ত হৃদপিণ্ডের মধ্য দিয়ে কেবল একবার অতিক্রম করে (হৃদপিণ্ড → ফুলকা → দেহ → হৃদপিণ্ড)।
    • মানবদেহ: এটি দ্বিচক্রী (Double circulation) রক্তসংবহন। এক পূর্ণ চক্র সম্পন্ন করতে রক্ত হৃদপিণ্ডের মধ্য দিয়ে দুইবার অতিক্রম করে (সিস্টেমিক এবং পালমোনারি সংবহন)।

    ২. হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠ:

    • উদ্দীপকের হৃদপিণ্ড: দুটি প্রধান প্রকোষ্ঠ (একটি অলিন্দ ও একটি নিলয়) এবং দুটি সাহায্যকারী অংশ বিশিষ্ট।
    • মানবদেহের হৃদপিণ্ড: চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়)।

    ৩. প্রবাহিত রক্তের প্রকৃতি:

    • উদ্দীপকের হৃদপিণ্ড: এর মধ্য দিয়ে কেবল ডিঅক্সিজেনেটেড বা CO2CO_2 সমৃদ্ধ রক্ত প্রবাহিত হয়, তাই একে 'ভেনাস হার্ট' বলা হয়।
    • মানবদেহের হৃদপিণ্ড: এর ডান অংশে ডিঅক্সিজেনেটেড (CO2CO_2-সমৃদ্ধ) এবং বাম অংশে অক্সিজেনেটেড (O2O_2-সমৃদ্ধ) রক্ত সম্পূর্ণ পৃথকভাবে প্রবাহিত হয়।

    ৪. রক্তচাপ ও প্রবাহ:

    • উদ্দীপকের সংবহন: ফুলকার কৈশিক জালক অতিক্রম করার পর রক্তচাপ অত্যন্ত কমে যায়, ফলে দেহকোষে রক্ত তুলনামূলক কম চাপে ধীরে প্রবাহিত হয়।
    • মানবদেহ: ফুসফুস থেকে রক্ত পুনরায় হৃদপিণ্ডে ফিরে এসে নিলয়ের শক্তিশালী সংকোচনে উচ্চচাপে দ্রুত সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে, যা তুলনামূলক অনেক বেশি কার্যকর ও উন্নত।

    সুতরাং, গঠন ও শারীরবৃত্তীয় কার্যকারিতার দিক থেকে উদ্দীপকে নির্দেশিত মাছের রক্তসংবহনতন্ত্র অপেক্ষা মানবদেহের দ্বিচক্রী রক্তসংবহনতন্ত্র অনেক বেশি উন্নত এবং পৃথকীকৃত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন