‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ একটি ঐতিহাসিক দিন। এ দিনে ভারতের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থার সম্পর্কে 'ক' নামক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব একটি প্রস্তাব পেশ করেন।

  1. ক)

    পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত সালে?

    (1)
  2. খ)

    দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রস্তাবটির বৈশিষ্ট্য লেখ।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত প্রস্তাবের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ কর্তৃক বাংলায় প্রবর্তিত দ্বিমুখী শাসনব্যবস্থাকে দ্বৈতশাসন বলা হয়। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লাভ করে রাজস্ব আদায় ও সামরিক কর্তৃত্ব তথা দায়িত্বহীন ক্ষমতা এবং বাংলার নবাবের হাতে ন্যস্ত থাকে শাসনকাজ পরিচালনার দায়িত্ব তথা ক্ষমতাহীন দায়িত্ব। ক্ষমতার এই বিভাজনকেই দ্বৈতশাসন বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রস্তাবটি হলো ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব'। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক এ প্রস্তাব পেশ করেন।

    লাহোর প্রস্তাবের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. ভৌগোলিক দিক থেকে সংলগ্ন এলাকাগুলোকে পৃথক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।
    ২. ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ (Independent States) গঠন করতে হবে।
    ৩. এসব স্বাধীন রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।
    ৪. সংখ্যালঘুদের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষার জন্য শাসনতন্ত্রে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দিতে হবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল— উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।

    মূল লাহোর প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহ নিয়ে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠনের কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। অর্থাৎ পূর্ব বাংলাকে নিয়ে একটি পৃথক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের ধারণাই এখানে অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও মুসলিম লীগ নেতৃত্ব চক্রান্তমূলকভাবে 'States' শব্দের বহুবচনের স্থলে 'State' বা একবচন ব্যবহার করে কেবল পাকিস্তান রাষ্ট্রের রূপ দেন।

    বাঙালিরা বুঝতে পেরেছিল যে মূল লাহোর প্রস্তাব লঙ্ঘনের মাধ্যমেই পূর্ব বাংলার মানুষের স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে অবদমিত করে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। লাহোর প্রস্তাবের এই স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌমত্বের চেতনা থেকেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে এবং পরবর্তীতে ছয় দফা আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। সুতরাং বলা যায়, লাহোর প্রস্তাবেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন