যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
যুক্তিবিদ্যার ক্লাসে রায়হান স্যার বলেন, শ্রীলঙ্কার দ্রব্যমূল্য ব্যাপক হারে' বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষার্থী স্নেহা বললো, দ্রব্যের যোগান কমে গেলে দাম বাড়ে। আবার যোগান বেড়ে গেলে দাম কমে যায়। শিক্ষার্থী শ্রেয়সি বললো, কোনো কোনো সময় এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়।
- ক)(1)
শব্দ কত প্রকার ও কী কী?
- খ)(2)
'হায়' শব্দটি পদ নয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত রায়হান স্যার আর স্নেহার বক্তব্য তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়টিকে নির্দেশ করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত শিক্ষার্থী শ্রেয়সির বক্তব্যটি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যায় শব্দ প্রধানত ৩ প্রকার। যথা: ১. পদযোগ্য শব্দ (Categorematic words), ২. সহ-পদযোগ্য শব্দ (Syncategorematic words) এবং ৩. পদ-অযোগ্য শব্দ (Acategorematic words)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'হায়' শব্দটি একটি পদ-অযোগ্য শব্দ, কারণ এটি কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে নিজে নিজে বা অন্য কোনো শব্দের সাহায্যে ব্যবহৃত হতে পারে না।
যুক্তিবিদ্যায় যেসব শব্দ নিজে কিংবা অন্য কোনো শব্দের সাহায্য নিয়ে কখনোই কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না, সেগুলোকে পদ-অযোগ্য শব্দ বলে। 'হায়' একটি আবেগসূচক অব্যয়, যা কেবল মনের ভাব বা অনুভূতি প্রকাশ করে; কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে বসার যোগ্যতা এর নেই। তাই 'হায়' শব্দটি পদ নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত রায়হান স্যার ও স্নেহার বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার মিলের 'সহপরিবর্তন পদ্ধতি'কে (Method of Concomitant Variations) নির্দেশ করে।
যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, যদি কোনো একটি ঘটনা কোনো নির্দিষ্ট উপায়ে পরিবর্তিত হওয়ার সাথে সাথে অপর একটি ঘটনাও বিশেষভাবে পরিবর্তিত হতে দেখা যায়, তবে প্রথম ঘটনাটি দ্বিতীয় ঘটনাটির কারণ বা কার্য অথবা কোনো কার্যকারণ সম্পর্কের মাধ্যমে তার সাথে যুক্ত। এই নীতিই সহপরিবর্তন পদ্ধতি নামে পরিচিত। এটি সমমুখী বা বিপরীতমুখী উভয় প্রকারেই পরিবর্তিত হতে পারে।
উদ্দীপকে শ্রীলঙ্কার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্নেহা বলে, দ্রব্যের যোগান কমে গেলে দাম বাড়ে, আবার যোগান বেড়ে গেলে দাম কমে যায়। এখানে একটি বিষয়ের (যোগানের হ্রাস-বৃদ্ধি) পরিবর্তনের সাথে সাথে অপর একটি বিষয়ের (দ্রব্যমূল্য) বিপরীতমুখী পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যোগানের হ্রাস-বৃদ্ধির পরিমাণের সাথে দ্রব্যমূল্যের পরিমাণের এই হ্রাস-বৃদ্ধির পারস্পরিক সম্পর্ক সরাসরি যুক্তিবিদ্যার সহপরিবর্তন পদ্ধতির দৃষ্টান্তকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিক্ষার্থী শ্রেয়সির বক্তব্যটি যুক্তিবিদ্যায় সহপরিবর্তন পদ্ধতির ব্যতিক্রম বা সীমাবদ্ধতাকে নির্দেশ করে, যা অত্যন্ত যথার্থ।
মিলের সহপরিবর্তন পদ্ধতির মূল কথা হলো দুটি বিষয়ের পরিমাণের পারস্পরিক হ্রাস বা বৃদ্ধির ভিত্তিতে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা। তবে বাস্তবে এই পরিবর্তনের একটি নির্দিষ্ট সীমা বা ব্যতিক্রম রয়েছে। অনির্দিষ্টভাবে কোনো একটি ঘটনার পরিবর্তন ঘটলেই অপর ঘটনাটি একই অনুপাতে পরিবর্তিত হতে থাকে না। একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে গেলে এই সহপরিবর্তনের নিয়মে ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়।
শ্রেয়সি উল্লেখ করেছে যে, 'কোনো কোনো সময় এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়।' যুক্তিবিদ্যার আলোকে সহপরিবর্তন পদ্ধতির বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা বা ব্যতিক্রম রয়েছে। যেমন—
১. চরম সীমা অতিক্রম করলে সহপরিবর্তন নাও ঘটতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, দ্রব্যের যোগান অত্যধিক কমে গেলেও যদি জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বা চাহিদা শূন্য হয়ে যায়, তবে দাম আর বাড়ে না।
২. পারিপার্শ্বিক অন্যান্য বিষয়ের প্রভাব: বাজার ব্যবস্থায় সিন্ডিকেট, কৃত্রিম সংকট, সরকারি নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বাহ্যিক কারণ যুক্ত থাকলে যোগানের নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটে।
৩. আকস্মিক বা সহগামী ঘটনা: দুটি ঘটনা একসাথে পরিবর্তিত হলেই যে তাদের মধ্যে সরাসরি কার্যকারণ সম্পর্ক থাকবে এমন নয়; অনেক সময় তারা কোনো তৃতীয় সাধারণ কারণের সহকার্য হতে পারে।অতএব, শ্রেয়সির বক্তব্যটি পাঠ্যবইয়ে আলোচিত সহপরিবর্তন পদ্ধতির সীমারেখা বা ব্যতিক্রমী দিকের আলোকেই সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও