পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব কামরুল দ্বাদশ শ্রেণীর ক্লাসে একটি দেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, লিখিত সংবিধান, মৌলিক অধিকার, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
- ক)(1)
বাংলাদেশ সংবিধানে সর্বমোট কতটি সংশোধনী গৃহীত হয়েছে?
- খ)(2)
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানের সাথে তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন সংবিধানের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত সংবিধানে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্য ছাড়া আর কী কী বৈশিষ্ট্য আছে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ সংবিধানে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১৭টি সংশোধনী গৃহীত হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব প্রতিষ্ঠান দেশের সর্বোচ্চ আইন বা সংবিধানের প্রত্যক্ষ বিধান বা নির্দেশের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়, সেগুলোকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলা হয়। যেমন- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন (PSC), মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক ইত্যাদি। সংবিধান কর্তৃক এদের দায়িত্ব, ক্ষমতা ও গঠন নির্ধারিত থাকে এবং এদের মর্যাদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে আলোচিত 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান'-এর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে জনাব কামরুল দ্বাদশ শ্রেণীর ক্লাসে যে সংবিধানের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন, তাতে লিখিত সংবিধান, মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির কথা বলা হয়েছে।
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গৃহীত এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া বাংলাদেশের সংবিধানেও এই বৈশিষ্ট্যগুলো সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান। বাংলাদেশ সংবিধান একটি বিস্তারিত ও লিখিত দলিল। এর দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ (জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা) এবং তৃতীয় ভাগে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহ সুস্পষ্টভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে। কাজেই উদ্দীপকের বিবরণটি বাংলাদেশ সংবিধানকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত লিখিত রূপ, মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ছাড়াও বাংলাদেশ সংবিধানের আরও বহু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নিম্নে সেগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান: বাংলাদেশের সংবিধান পরিবর্তন করতে হলে জাতীয় সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হয়।
২. সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র ও এককেন্দ্রিক সরকার: বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যেখানে এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা চালু রয়েছে।
৩. সংসদীয় পদ্ধতির সরকার: সংবিধানে মন্ত্রীপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা সংসদের নিকট দায়ী থাকে।
৪. সংবিধানের প্রাধান্য: সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানে বলা হয়েছে, এই সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন হলে সেই আইন বাতিল বলে গণ্য হবে।
৫. এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: বাংলাদেশ সংবিধানে 'জাতীয় সংসদ' নামে ৩৫০ সদস্যবিশিষ্ট একটি এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভার বিধান রাখা হয়েছে।
৬. স্বাধীন বিচার বিভাগ: সংবিধানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
৭. সর্বজনীন ভোটাধিকার: কোনো রকম বৈষম্য ছাড়া ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।সুতরাং, উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ সংবিধান একটি পূর্ণাঙ্গ, আধুনিক ও গণমুখী সংবিধান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও