‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের জনসংখ্যা ও পরিধি বৃদ্ধির কারণে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উক্ত এলাকাকে উত্তর ও দক্ষিণ নামে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। সুশীল সমাজের কিছু অংশ সরকারকে সাধুবাদ জানালেও আবার অনেকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

  1. ক)

    ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    দ্বি-জাতিতত্ত্ব কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বিব্রত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের কোন ঘটনার মিল পাওয়া যায়? তার কারণ গুলো ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার ফলাফল বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বি-জাতিতত্ত্ব হলো এমন একটি রাজনৈতিক দর্শন, যেখানে বলা হয়েছে ভারতের হিন্দু ও মুসলমান দুটি পৃথক ও স্বতন্ত্র জাতি। ১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ লাহোর অধিবেশনে এই তত্ত্ব উত্থাপন করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, হিন্দু ও মুসলমানদের ধর্ম, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও জীবনদর্শন সম্পূর্ণ ভিন্ন; তাই তারা এক জাতি নয়, বরং দুটি স্বতন্ত্র জাতি। এ তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের ১৯০৫ সালের 'বঙ্গভঙ্গ' ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।

    বঙ্গভঙ্গের মূল কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. প্রশাসনিক কারণ: তৎকালীন অবিভক্ত বাংলা প্রদেশ ছিল অত্যন্ত বিশাল, যার আয়তন ছিল প্রায় ১,৮৯,০০০ বর্গমাইল এবং জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৮৫ লক্ষ। একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পক্ষে কলকাতা থেকে সুদূর পূর্ব বাংলা ও আসামের মতো বিশাল অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা ও শাসনকাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
    ২. অর্থনৈতিক কারণ: ব্রিটিশ সরকারের প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক নজর মূলত কলকাতাকেন্দ্রিক হওয়ায় পূর্ব বাংলা অর্থনৈতিকভাবে চরম অবহেলিত ও অনুন্নত ছিল।
    ৩. রাজনৈতিক কারণ (ভাগ কর ও শাসন কর নীতি): জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রধান কেন্দ্র ছিল বাংলা। ব্রিটিশ সরকার হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করতে বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করার পরিকল্পনা করে।

    সুতরাং, প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাতে পরিচালিত হলেও বঙ্গভঙ্গের পেছনে একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণ কার্যকর ছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটির সাথে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক ঘটনাটি হলো ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ। এর সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ফলাফল ছিল নিম্নরূপ:

    ১. পূর্ব বাংলার মুসলমানদের ইতিবাচক মনোভাব ও জাগরণ: বঙ্গভঙ্গের ফলে ঢাকা নতুন গঠিত 'পূর্ব বাংলা ও আসাম' প্রদেশের রাজধানী হয়। এতে পূর্ব বাংলার মুসলিম সমাজ শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ পায়, যা তাদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
    ২. হিন্দু সম্প্রদায়ের তীব্র বিরোধিতা ও স্বদেশী আন্দোলন: উচ্চবিত্ত হিন্দু ও কলকাতার বুদ্ধিজীবী মহল মনে করেছিলেন এটি বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করার এবং ভারতীয় ঐক্য নষ্ট করার ষড়যন্ত্র। ফলে সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীসহ জাতীয়তাবাদী নেতারা তীব্র বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলন এবং বিদেশী পণ্য বর্জনের স্বদেশী আন্দোলন গড়ে তোলেন।
    ৩. মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা: হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং বঙ্গভঙ্গ রদের আশঙ্কায় মুসলিম নেতৃবৃন্দ নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এর ফলশ্রুতিতে ১৯০৬ সালে ঢাকায় 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' গঠিত হয়।
    ৪. সাম্প্রদায়িক বিভাজন বৃদ্ধি: বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্কে চিড় ধরে, যা ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতে স্থায়ী সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরি করে।
    ৫. ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ: আন্দোলনের তীব্রতা ও চরমপন্থী সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের মুখে বাধ্য হয়ে ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার রাজা পঞ্চম জর্জের দিল্লি দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করে, যা পরবর্তীতে মুসলিম সম্প্রদায়কে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তোলে।

    পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গভঙ্গ ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ধারার সূচনা করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তির পথ উন্মুক্ত করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন