যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: মান্নান সাহেব বলেন, "মানুষ হয় সৃষ্টির সেরা এ জীব। এছাড়াও জগতের অন্যান্য জীব আছে যারা জীবন যাপন করে এবং মরেও যায়।"দৃশ্যকল্প-২: শফিক সাহেব বলেন, "মানুষ নিজস্ব চিন্তাশক্তি, বিচারশস্তি দিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে।"দৃশ্যকল্প-৩: সাবের সাহেব বলেন, "এছাড়াও মানুষ বন্ধুবৎসল, বুচিশীল এবং সামাজিক জীবও বটে।"

  1. ক)

    বিধেয় কী?

    (1)
  2. খ)

    'বিধেয়ক একটি সম্পর্কের নাম'- বুঝিয়ে বলো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ মান্নান সাহেবের বক্তব্যে কোন ধরনের বিধেয়ক রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ শফিক সাহেবের বক্তব্য থেকে দৃশ্যকল্প-৩ এর সাবের সাহেবের বক্তব্য পৃথক কেন? বিধেয়কের আলোকে আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়, তাকে বিধেয় বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সদর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যকার যে সম্বন্ধ বা সম্পর্ক বিরাজ করে, তাকে বিধেয়ক বলে। বিধেয় কোনো পদ নয়, বরং এটি উদ্দেশ্য ও বিধেয়র সম্পর্কের একটি রূপ বা প্রকৃতি নির্দেশ করে। কেবল সদর্থক যুক্তিবাক্যেই এই সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে, কারণ নঞর্থক বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়র মধ্যে বিচ্ছেদ বা অস্বীকৃতি থাকে। তাই বলা হয়, 'বিধেয়ক একটি সম্পর্কের নাম'—যা উদ্দেশ্য ও বিধেয়র পারস্পরিক সম্বন্ধকে প্রকাশ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ মান্নান সাহেবের বক্তব্যে বিধেয়কের 'উপজাতি' ও 'জাতি' সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে।

    মান্নান সাহেব বলেছেন, "মানুষ হয় সৃষ্টির সেরা এ জীব। এছাড়াও জগতের অন্যান্য জীব আছে যারা জীবন যাপন করে এবং মরেও যায়।" এখানে 'মানুষ' একটি উপজাতি এবং 'জীব' হলো তার আসন্নতম বা ব্যাপকতর জাতি।

    যুক্তিবিদ্যায় যখন দুটি শ্রেণিবাচক পদের মধ্যে একটি শ্রেণি অপর অপেক্ষাকৃত সংকীর্ণ শ্রেণিকে নিজের অন্তর্ভুক্ত করে, তখন ব্যাপক শ্রেণিটিকে 'জাতি' (Genus) এবং সংকীর্ণ শ্রেণিটিকে 'উপজাতি' (Species) বলা হয়। এখানে 'জীব' শ্রেণির বিস্তার বেশি হওয়ায় তা জাতি এবং জীবের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মানুষ একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিরাজ করায় তা 'উপজাতি'। অতএব, দৃশ্যকল্প-১ এ জাতি ও উপজাতির বিধেয়ক সম্পর্ক প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ শফিক সাহেবের বক্তব্য এবং দৃশ্যকল্প-৩ এ সাবের সাহেবের বক্তব্য যথাক্রমে বিধেয়কের 'বিভেদক লক্ষণ' ও 'উপলক্ষণ/অবান্তর লক্ষণ' নির্দেশ করার কারণে পরস্পর পৃথক।

    দৃশ্যকল্প-২ এ শফিক সাহেব বলেন, "মানুষ নিজস্ব চিন্তাশক্তি, বিচারশক্তি দিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে।" এটি মানুষের 'বুদ্ধিবৃত্তি'কে নির্দেশ করে। একটি উপজাতিকে তার সমগোত্রীয় অন্যান্য উপজাতি থেকে যে মৌলিক ও আবশ্যিক গুণ আলাদা করে, তাকে 'বিভেদক লক্ষণ' (Differentia) বলে। মানুষের ক্ষেত্রে চিন্তাশক্তি বা বুদ্ধিবৃত্তি হলো বিভেদক লক্ষণ, যা মানুষকে অন্যান্য জীব থেকে পৃথক করে।

    অপরদিকে, দৃশ্যকল্প-৩ এ সাবের সাহেব বলেন, "এছাড়াও মানুষ বন্ধুবৎসল, রুচিশীল এবং সামাজিক জীবও বটে।" এই গুণগুলো মানুষের মূল জাত্যর্থ (প্রাণিত্ব ও বুদ্ধিবৃত্তি) না হলেও, বুদ্ধিবৃত্তি থেকে নিঃসৃত কিংবা আনুষঙ্গিক গুণ। যুক্তিবিদ্যায় যে গুণ জাত্যর্থের অংশ নয় কিন্তু জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে 'উপলক্ষণ' (Proprium) বলে (যেমন: রুচিশীলতা, সামাজিকতা) এবং যা জাত্যর্থ নয় বা তা থেকে নিঃসৃতও নয় তাকে অবান্তর লক্ষণ বলে।

    সুতরাং, শফিক সাহেবের বক্তব্যটি মানুষের আবশ্যিক ও মৌলিক গুণ অর্থাৎ 'বিভেদক লক্ষণ'কে প্রকাশ করে এবং সাবের সাহেবের বক্তব্যটি মানুষের জাত্যর্থজাত গুণ অর্থাৎ 'উপলক্ষণ/অবান্তর লক্ষণ'কে নির্দেশ করে। এই বিধেয়কগত পার্থক্যের কারণেই বক্তব্য দুটি পরস্পর পৃথক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন