বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

বটতলী গ্রামের অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত, ধর্মান্ধ ও কুংসংস্কারাচ্ছন্ন। সেই গ্রামের ছেলে মুনির কলেজে লেখাপড়া করে। গ্রামের অশিক্ষিত মানুষকে শিক্ষিত করতে সে গ্রামে একটি নৈশবিদ্যালয় করতে চায়। এ বিষয়ে গ্রামে সভা বসলে, গ্রামের মাতব্বর এ প্রস্তাবে খুশি হয়ে মুনিরকে সহযোগিতা করতে আশ্বাস দেন।

  1. ক)

    খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    "শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মুনির চরিত্র 'লালসালু' উপন্যাসের কোন চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের মাতব্বর 'লালসালু' উপন্যাসের মাতব্বর চরিত্রের বিপরীত ভূমিকা পালন করেছে- তোমার যুক্তিসহ উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম তনু বিবি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি"—কথাটি দ্বারা মহব্বতনগর গ্রামে সাধারণ মানুষের মধ্যে শিক্ষার অভাব, অন্ধ কুসংস্কার এবং ধর্মান্ধতার আধিক্যকে বোঝানো হয়েছে।

    গ্রামের কৃষিজমিতে যে পরিমাণ ফসল বা শস্য উৎপাদিত হয়, তার তুলনায় মানুষের মাথায় টুপির সংখ্যা অর্থাৎ বাহ্যিক ধার্মিকতার প্রকাশ অনেক বেশি। সেখানে ধর্মের মূল মানবতাবাদী চেতনার বদলে কুসংস্কার, ভণ্ডামি, অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মীয় গোঁড়ামির মতো অপসংস্কৃতিই ধর্মের নাম দিয়ে সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে। মূলত অজ্ঞতা ও ভণ্ড ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রাদুর্ভাব বোঝাতেই লেখক এ মন্তব্য করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মুনির চরিত্রটি 'লালসালু' উপন্যাসের প্রতিবাদী ও সংস্কারমুক্ত তরুণ আক্কাস চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়।

    'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, গ্রামের ধর্মান্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন পরিবেশ দূর করে আলোর পথ দেখানোর জন্য শহরফেরত যুবক আক্কাস গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। সে চেয়েছিল গ্রামের মানুষকে শিক্ষিত ও সচেতন করে তুলতে।

    উদ্দীপকের মুনিরও বটতলী গ্রামের নিরক্ষরতা ও কুসংস্কার দূর করতে কলেজে পড়ার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গ্রামে একটি নৈশবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়। উভয়ের লক্ষ্যই এক—শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়ে সমাজ থেকে অজ্ঞতা দূর করা। সুতরাং, মহৎ শিক্ষামূলক সমাজসংস্কারের মনোভাবের দিক থেকে উদ্দীপকের মুনির সরাসরি আক্কাস চরিত্রের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মাতব্বর 'লালসালু' উপন্যাসের মাতব্বর খালেক ব্যাপারীর সম্পূর্ণ বিপরীত ভূমিকা পালন করেছে—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    'লালসালু' উপন্যাসে খালেক ব্যাপারী ছিল মহব্বতনগর গ্রামের প্রভাবশালী মাতব্বর। সে নিজের ক্ষমতা, আধিপত্য ও স্বার্থ রক্ষা করার জন্য ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী মজিদের সাথে এক অলিখিত আঁতাত গড়ে তোলে। যখন আক্কাস গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়, তখন মজিদ বুঝতে পারে শিক্ষার বিস্তার ঘটলে তার ভণ্ডামির ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। মজিদ আক্কাসের প্রস্তাবকে নস্যাৎ করার জন্য তার মুখে দাড়ি না থাকা নিয়ে ধর্মীয় গোঁড়ামি তৈরি করে। খালেক ব্যাপারীও মজিদের কথায় সায় দিয়ে গ্রামের মঙ্গলের কথা না ভেবে আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দেয় এবং তাকে অপদস্থ করে। সেখানে মাতব্বর ছিল প্রতিক্রিয়াশীল ও কুসংস্কারের পৃষ্ঠপোষক।

    কিন্তু উদ্দীপকের বটতলী গ্রামের মাতব্বর সম্পূর্ণ ভিন্ন মানসিকতার পরিচয় দেন। মুনির যখন অশিক্ষিত মানুষকে শিক্ষিত করার লক্ষ্যে নৈশবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয়, তখন তিনি কোনো বাধা সৃষ্টি না করে বরং অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে মুনিরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। তিনি শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রগতিশীল ও জনকল্যাণমুখী ভূমিকা গ্রহণ করেন।

    অতএব, খালেক ব্যাপারী যেখানে শিক্ষার বিস্তার রুখে দিয়ে কুসংস্কারকে টিকিয়ে রেখেছিল, উদ্দীপকের মাতব্বর সেখানে শিক্ষাকে স্বাগত জানিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করেছেন। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকের মাতব্বর 'লালসালু'র খালেক ব্যাপারীর বিপরীত চরিত্র।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন