অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
দিনু বাঁশের কুলা, ঢাকি তৈরি ও বিক্রি করে। তার বউ সোহাগী তার এই কাজে সাহায্য করে। দিনুর পুঁজি কম থাকায় সে ব্যাংকে ঋণের জন্য যায়। কিন্তু জামানত দিতে না পারায় ব্যাংক তাকে ঋণ দেয় না। ফলে তাকে অনেক কষ্টে সংসার চালাতে হয়।
- ক)(1)
রপ্তানিমুখী শিল্প কী?
- খ)(2)
কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে PPP এর ভূমিকা কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পের সমস্যাসমূহ কী কী?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পের উন্নয়নের জন্য তুমি কী কী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ কর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর বিদেশে পণ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে যেসব শিল্প গড়ে ওঠে, সেগুলোকে রপ্তানিমুখী শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্প-কারখানা স্থাপিত হয়। এতে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগের ফলে নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, উৎপাদনশীল কার্যক্রম বাড়ে এবং দেশে ব্যাপক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি হলো কুটির শিল্প (বাঁশজাত শিল্প)। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের শিল্পের প্রধান সমস্যাসমূহ নিম্নরূপ:
১. মূলধনের অভাব: উদ্দীপকে দেখা যায় দিনুর নিজস্ব পুঁজি অত্যন্ত কম এবং জামানতের অভাবে সে ব্যাংক থেকে ঋণ পায় না, যা কুটির শিল্পের প্রধান সীমাবদ্ধতা।
২. প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের জটিলতা: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জামানত নির্ভর ও জটিল ঋণদান পদ্ধতির কারণে প্রান্তিক কারিগররা ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।
৩. কাঁচামালের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি: বাঁশসহ প্রয়োজনীয় কাঁচামালের প্রাপ্যতা কমে যাওয়া ও মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ব্যাহত করে।
৪. আধুনিক প্রযুক্তির অভাব: সনাতন পদ্ধতিতে পরিবারের সদস্যদের দিয়ে হস্তচালিত কাজ করায় উৎপাদনশীলতা কম থাকে এবং বিপণনের সুষ্ঠু সুযোগ থাকে না। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত কুটির শিল্পের উন্নয়নের জন্য নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা যায়:
১. সহজ শর্তে ও জামানতবিহীন ঋণ প্রদান: দিনুর মতো ক্ষুদ্র কারিগরদের জন্য ব্যাংক ও বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে স্বল্প সুদে ও জামানত ছাড়া ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা।
২. কাঁচামালের সহজলভ্যতা: বাঁশ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যেন সুলভ মূল্যে নিয়মিত পাওয়া যায়, তার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা করা।
৩. আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সরবরাহ: কারিগরদের আধুনিক নকশা ও মানসম্মত পণ্য তৈরির কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা, যাতে পণ্যের আকর্ষণ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
৪. সুষ্ঠু বিপণন ব্যবস্থা: মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ রোধ করে উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য সমবায় ভিত্তিক বা সরকারি বিক্রয়কেন্দ্র (যেমন: কারুপণ্য মেলা, আড়ং ইত্যাদির মতো বিপণন কেন্দ্র) স্থাপন করা।
৫. সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রণোদনা: এ খাতের বিকাশে কর অবকাশ, ভর্তুকি এবং দেশীয় কুটির শিল্পের প্রচার ও প্রসার ঘটানো।উপর্যুক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করলে দিনুর মতো কারিগররা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে এবং দেশের কুটির শিল্প বিকশিত হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও