ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. আবির দেখতে পেলেন তার বন্ধুর একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় কবলিত হওয়ার পর বিমা কোম্পানি গাড়ির মোট ক্ষতি বাবদ ৩ লক্ষ টাকা প্রদান করে এবং গাড়িটি বিমা কোম্পানি নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মি. আবির তার কাছে থাকা ২০১৫ সালের প্রথম রেজিস্ট্রিকৃত গাড়ি ২০১৯ সালে প্রথম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে দেখিয়ে বিমাপত্র গ্রহণ করে। পরবর্তীতে গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়লে বিমা কোম্পানি বিমাদাবি যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে অতীত সকল তথ্য তাদের কাছে চলে আসে। তাই বিমা কোম্পানি বিমাদাবি প্রত্যাখ্যান করে।

  1. ক)

    ঝুঁকি কী?

    (1)
  2. খ)

    “বিমাচুক্তি বাজি ধরার চুক্তি নয়” ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিমার কোন নীতির বলে আবিরের বন্ধুর গাড়িটি নিয়ে যেতে সক্ষম? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বিমা কোম্পানি কর্তৃক আবিরের ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যানের কারণ বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আর্থিক ক্ষতির অনিশ্চয়তা বা কোনো প্রতিকূল ঘটনা ঘটার আশঙ্কাই হলো ঝুঁকি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিমাচুক্তি কোনো বাজি ধরার চুক্তি নয়, কারণ বিমাচুক্তিতে বিমাযোগ্য স্বার্থের উপস্থিতি এবং ক্ষতির প্রকৃত ক্ষতিপূরণের উদ্দেশ্য বিদ্যমান থাকে।

    বাজি ধরার চুক্তিতে পক্ষসমূহের মূল উদ্দেশ্য থাকে শুধু অর্থ লাভ করা এবং এতে কোনো বিমাযোগ্য স্বার্থ থাকে না; কেবল ভাগ্যের ওপর ভিত্তি করে হার-জিত নির্ধারিত হয়। পক্ষান্তরে, বিমাচুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো বিমাগ্রহীতার আকস্মিক আর্থিক ক্ষতি হলে তাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা (ক্ষতিপূরণ করা), কোনো অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন নয়। তাই বিমাচুক্তিকে বাজি ধরার চুক্তি বলা যায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিমা কোম্পানি বিমার 'স্থলাভিষিক্ততার নীতি'র (Principle of Subrogation) বলে আবিরের বন্ধুর গাড়িটি নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

    স্থলাভিষিক্ততার নীতি অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণের বিমাচুক্তির ক্ষেত্রে বিমাকৃত বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমা কোম্পানি যদি বিমাগ্রহীতাকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির ওপর বিমাগ্রহীতার যাবতীয় মালিকানা ও দাবি বিমা কোম্পানির নিকট বর্তায়। বিমাগ্রহীতা একই সাথে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ এবং উদ্ধারকৃত সম্পত্তির অবশিষ্টাংশ নিজের কাছে রাখতে পারেন না, কারণ এতে তিনি চুক্তির উদ্দেশ্য লঙ্ঘন করে অন্যায্য লাভবান হবেন।

    উদ্দীপকে মি. আবিরের বন্ধুর গাড়িটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিমা কোম্পানি সম্পূর্ণ ক্ষতি বাবদ ৩ লক্ষ টাকা পরিশোধ করে। ফলে উক্ত গাড়ির ওপর বন্ধুর মালিকানা বাতিল হয়ে বিমা কোম্পানি তার স্থলাভিষিক্ত হয়। তাই স্থলাভিষিক্ততার নীতির বলেই বিমা কোম্পানি গাড়িটির অবশিষ্টাংশ নিজেদের দখলে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিমা কোম্পানি কর্তৃক আবিরের ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যানের মূল কারণ হলো বিমার অন্যতম প্রধান মৌলিক নীতি—'পরম সদ্বিশ্বাসের নীতি' (Principle of Utmost Good Faith) লঙ্ঘন করা।

    পরম সদ্বিশ্বাসের নীতি অনুসারে, বিমাচুক্তি সম্পাদনের সময় বিমাকারী এবং বিমাগ্রহীতা উভয় পক্ষকেই বিমাকৃত বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সব সত্য এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরস্পরের কাছে সম্পূর্ণ সততা ও স্বচ্ছতার সাথে প্রকাশ করতে হয়। বিমাগ্রহীতা কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা মিথ্যা উপস্থাপন করলে চুক্তিটি বাতিলযোগ্য হয় এবং বিমাকারী কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকে না।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. আবিরের গাড়িটি মূলত ২০১৫ সালে রেজিস্ট্রিকৃত হলেও তিনি অসদুপায় অবলম্বন করে ২০১৯ সালে প্রথম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে দেখিয়ে বিমাপত্র গ্রহণ করেছিলেন। অর্থাৎ তিনি গাড়ির প্রকৃত বয়স এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিথ্যা উপস্থাপন করে বিমা কোম্পানিকে বিভ্রান্ত করেছেন। গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হলে বিমা কোম্পানি অতীত সকল সঠিক তথ্য উদঘাটন করে এবং আবিরের মিথ্যা তথ্য প্রদানের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

    যেহেতু মি. আবির পরম সদ্বিশ্বাসের নীতি ভঙ্গ করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিমাচুক্তি সম্পাদন করেছিলেন, তাই বিমা আইনের বিধান অনুযায়ী কোম্পানিটি তার বিমাদাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং কোম্পানির এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ যুক্তিসংগত ও আইনসম্মত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন