‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

বীর যোদ্ধা, বিপ্লবী নেতা কদর আলী এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কুস্তি, অস্ত্রচালনা প্রভৃতির জন্য ছোট বেলাতেই তিনি সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। তিনি সমাজ ও ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি নীলকর বণিক ও সামন্ত জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্ছার। অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের হাত থেকে নির্যাতিত কৃষকদের রক্ষার জন্য একটি দুর্গও নির্মাণ করেন। তিনি কয়েকটি জেলা সংযুক্ত করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করেন।

  1. ক)

    খাদ্যে ভেজাল কী?

    (1)
  2. খ)

    ন্যায়পাল বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত কদর আলীর সাথে তোমার পঠিত কোন নেতার সাদৃশ্য আছে?' ব্যাখ্যা করো

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমিতে উক্ত নেতার অবদান বর্ণনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খাদ্যদ্রব্যের স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট করে বা অর্থনৈতিক লাভের উদ্দেশ্যে খাদ্যে কোনো অপদ্রব্য বা নিম্নমানের বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মেশানোকে খাদ্যে ভেজাল বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ন্যায়পাল (Ombudsman) হলেন এমন একজন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা, যিনি সরকারি কর্তৃপক্ষ ও আমলাদের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের আনীত অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা প্রশাসনিক অব্যবস্থার অভিযোগ তদন্ত করেন। ১৮০৯ সালে সুইডেনে প্রথম এই পদের সৃষ্টি হয়। ন্যায়পাল রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিপ্লবী নেতা কদর আলীর সাথে আমার পঠিত তিতুমীর (সৈয়দ মীর নিসার আলী)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    তিতুমীর ছিলেন উনিশ শতকের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এক অবিসংবাদিত নেতা। তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করার পাশাপাশি অত্যাচারী হিন্দু জমিদার এবং ইউরোপীয় নীলকরদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। কৃষকদের সুরক্ষার জন্য তিনি বারাসাতের নারিকেলবাড়িয়ায় একটি বিখ্যাত বাঁশের কেল্লা (দুর্গ) নির্মাণ করেছিলেন এবং নিজেকে স্বাধীন ঘোষণা করে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন।

    উদ্দীপকের কদর আলীও বাল্যকাল থেকেই অস্ত্রচালনায় পারদর্শী ছিলেন, অত্যাচারী জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে কৃষকদের রক্ষায় দুর্গ নির্মাণ করেন এবং স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করেন। এই বৈশিষ্ট্যগুলো ঐতিহাসিক তিতুমীরের জীবন ও সংগ্রামের সাথে হুবহু মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমি তৈরিতে মীর নিসার আলী তিতুমীরের অবদান অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল ও অনুপ্রেরণাদায়ী।

    প্রথমত, তিতুমীর স্থানীয় অত্যাচারী জমিদার ও ইংরেজ নীলকর বণিকদের শোষণের বিরুদ্ধে কৃষক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করেন। তিনি সাধারণ লাঠিয়াল ও কৃষকদের নিয়ে একটি সুসংগঠিত প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলেন, যা ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে এ অঞ্চলের মানুষের প্রথম সুসংগঠিত গণসংগ্রামগুলোর অন্যতম।

    দ্বিতীয়ত, নারিকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা নির্মাণ এবং ব্রিটিশ বাহিনীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে অন্যায় শাসনের বিরুদ্ধে আত্মত্যাগই মুক্তির পথ। ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর ব্রিটিশ বাহিনীর কামানের গোলায় তিনি বাঁশের কেল্লাতেই বীরত্বপূর্ণ শাহাদাত বরণ করেন।

    তিতুমীরের এই আত্মত্যাগ ও আপসহীন লড়াই পরবর্তীকালে বাঙালি জাতিকে যেকোনো অন্যায় ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রেরণা জুগিয়েছিল। কৃষক বিদ্রোহের এ চেতনা ধাপে ধাপে বিকশিত হয়ে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং চূড়ান্তভাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে রূপ নেয়। তাই স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ রোপণে তিতুমীরের অবদান চিরস্মরণীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন