বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল যাদের বিশ্বাসঘাতকতায় তাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান সেনাপতি মীরজাফর। প্রধান সেনাপতি হয়েও তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। শুধু মীরজাফরই নয় রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ, জগৎশেঠও যুদ্ধে চরম অসহযোগিতা করেছে। কিন্তু মোহনলাল ও মীরমর্দান বাঙালি জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে নি। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন এবং জীবন দিয়েছেন। পক্ষান্তরে মীরজাফর এবং তার দোসররা বাঙালি জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং বাঙালি জাতিকে প্রায় ২০০ বছর ইংরেজদের গোলামি করতে বাধ্য করেছে।
- ক)(1)
'বিধু' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
'চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে'- পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিশ্বাসঘাকতা 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বিষয়বস্তুতে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকটি 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার আংশিক রূপায়ণ মাত্র"- তোমার মতামতসহ উক্তিটি বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বিধু' শব্দের অর্থ চাঁদ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে'- পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে হীন ও নিচ প্রকৃতির মানুষকে সম্মানিত ও উচ্চ মর্যাদার স্থানে বসানোর তীব্র অনুযোগ প্রকাশ পেয়েছে।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কাব্যাংশে মেঘনাদ তার পিতৃব্য বিভীষণকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছে। বিভীষণ নিজ জাতি ও দেশকে পরিত্যাগ করে শত্রু রাম-লক্ষ্মণের পক্ষ নিয়েছিল। মেঘনাদের কাছে রাম-লক্ষ্মণ নিকৃষ্ট বা চণ্ডালতুল্য, অথচ বিভীষণ নিজ জন্মভূমি লঙ্কার প্রাসাদে তাদের আহ্বান করে রাজকীয় মর্যাদায় আসীন করেছে। ঘরের লোকের এহেন হীন বিশ্বাসঘাতকতাকে বোঝাতেই মেঘনাদ আক্ষেপ ও ক্ষোভের সাথে উক্ত চরণটি উচ্চারণ করেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বিশ্বাসঘাতকতা 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বিভীষণের দেশদ্রোহিতা ও স্বজাতিদ্রোহের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে প্রধান সেনাপতি মীরজাফর ও তার সহযোগীরা নবাব সিরাজউদ্দৌলা তথা স্বদেশের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। এর ফলে বাংলার স্বাধীনতা পর্যুদস্ত হয় এবং জাতি দীর্ঘ প্রায় দুশো বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় দেখা যায়, লঙ্কার রাজা রাবণের ভাই বিভীষণ নিজ বংশ ও দেশের চরম দুর্দিনে শত্রু পক্ষ রাম-লক্ষ্মণের পক্ষাবলম্বন করে। সে নিজ ভাগিনেয় মেঘনাদের বিরুদ্ধে রামের অনুজ লক্ষ্মণকে পথ দেখিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নিয়ে আসে। মীরজাফর যেমন বিদেশি শক্তির সাথে হাত মিলিয়ে নিজ দেশের পতন ডেকে এনেছিল, তেমনি বিভীষণও রামের দাসত্ব স্বীকার করে স্বজাতির সর্বনাশ নিশ্চিত করেছিল। তাই উদ্দীপকে বর্ণিত মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা কবিতার বিভীষণের চরিত্রে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকটি 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার আংশিক রূপায়ণ মাত্র"- মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে মূলত পলাশীর যুদ্ধে মীরজাফর ও তার দোসরদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং মোহনলাল ও মীরমর্দানের মতো দেশপ্রেমিকদের আত্মত্যাগের দিকটি সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। অন্যদিকে, মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতাটি দেশপ্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা, ভ্রাতৃপ্রেম, পারিবারিক ঐতিহ্য ও বীরত্বের এক জটিল এবং বিস্তৃত প্রেক্ষাপট ধারণ করে।
উদ্দীপকের সাথে কবিতার মিল রয়েছে কেবল বিশ্বাসঘাতকতা ও দেশপ্রেমের দ্বন্দ্বে। উদ্দীপকের মীরজাফরের দেশদ্রোহিতা যেমন কবিতায় বিভীষণের চরিত্রের সাথে তুলনীয়, তেমনি মোহনলাল ও মীরমর্দানের দেশপ্রেম কবিতায় মেঘনাদের চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কিন্তু কবিতার বিশাল পরিধিতে মেঘনাদের অসাধারণ বীরত্ব, মানবিক মর্যাদা, ধর্মের নামে ভণ্ডামির প্রতিবাদ, নিজ পিতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং রাক্ষসকুলের ঐতিহ্য রক্ষায় তার অনমনীয় সংগ্রাম গভীরভাবে চিত্রিত হয়েছে। তাছাড়া লক্ষ্মণের কাপুরুষোচিত আক্রমণ এবং মেঘনাদের নিরস্ত্র অবস্থায় যুদ্ধের ন্যায্যতা দাবি করার বিষয়টি কবিতার প্রধান এক নাটকীয় দিক, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
অতএব, উদ্দীপকে কেবল দেশদ্রোহিতার সাধারণ দিকটি স্থান পেলেও কবিতার মূল সুর—পৌরুষ, বীরত্ববোধ, ক্ষোভ, বেদনা ও পৌরাণিক দ্বন্দ্বের বহুমাত্রিক রূপায়ণ সেখানে নেই। তাই উদ্দীপকটি কবিতার সামগ্রিক নয়, বরং কেবল একটি বিশেষ দিকের আংশিক রূপায়ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও