ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

মাহতাব সাহেব নতুন একটি সংগঠন গড়ে তোলার বিষয়ে একজন শিল্প বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে গেলেন। শিল্প বিশেষজ্ঞ এমন একটি সংগঠনের ধারণা দেন যেখানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল তৈরি করা অপরিহার্য। প্রথম দলিলে প্রতিষ্ঠানের নাম, নিবন্ধিত অফিস, উদ্দেশ্য, মূলধন ও সদস্যদের দায় লিপিবদ্ধ থাকে। দ্বিতীয় দলিলে দৈনন্দিন কার্য পরিচালনা, পরিচালক সংক্রান্ত নিয়মাবলি এবং শেয়ার মালিক সংক্রান্ত বিষয়ের উল্লেখ থাকে।

  1. ক)

    শেয়ার কী?

    (1)
  2. খ)

    কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র কোন ধরনের কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য এবং কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে শিল্প বিশেষজ্ঞ কোন ধরনের সংগঠন গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছিলেন? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত “প্রথম দলিলের শর্তভঙ্গ করা আইনগত অপরাধ”- দলিলের নাম উল্লেখপূর্বক উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোম্পানির মোট মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমান একককে শেয়ার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য।

    পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে আইন অনুযায়ী জনসাধারণের কাছ থেকে শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে হয় এবং ন্যূনতম মূলধন বা চাঁদাদানের শর্ত পূরণ নিশ্চিত করতে হয়। নিবন্ধক এই সংক্রান্ত সমস্ত প্রমাণাদি ও বিবরণপত্র যাচাই-বাছাই করে সন্তুষ্ট হয়ে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র ইস্যু করেন। এই অনুমতিপত্র ছাড়া পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি আইনগতভাবে তার আনুষ্ঠানিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে পারে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শিল্প বিশেষজ্ঞ ‘যৌথ মূলধনী কোম্পানি’ বা ‘কোম্পানি সংগঠন’ গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

    কোম্পানি সংগঠন হলো আইন দ্বারা সৃষ্ট কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তার অধিকারী এবং চিরন্তন অস্তিত্বসম্পন্ন এমন এক ব্যবসায় সংগঠন, যার গঠনে দুটি প্রধান দলিল প্রণয়ন করা বাধ্যতামূলক। দলিল দুটি হলো—স্মারকলিপি বা পরিমেল বন্ধ (Memorandum of Association) এবং পরিমেল নিয়মাবলি (Articles of Association)।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম দলিলের বিষয়বস্তু (নাম, নিবন্ধিত অফিস, উদ্দেশ্য, মূলধন ও সদস্যদের দায়) হুবহু কোম্পানির স্মারকলিপির বিভিন্ন ধারাকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে দ্বিতীয় দলিলে অভ্যন্তরীণ দৈনন্দিন কার্য পরিচালনা, পরিচালক ও শেয়ার মালিকদের নিয়মাবলি অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা পরিমেল নিয়মাবলির বৈশিষ্ট্য। এই দুটি দলিল কেবল যৌথ মূলধনী কোম্পানি সংগঠনের ক্ষেত্রেই অপরিহার্য। সুতরাং, শিল্প বিশেষজ্ঞ একটি যৌথ মূলধনী কোম্পানি গঠনের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম দলিলটির নাম হলো ‘স্মারকলিপি’ বা ‘পরিমেল বন্ধ’ (Memorandum of Association)। “প্রথম দলিলের শর্তভঙ্গ করা আইনগত অপরাধ”—উক্তিটি যথার্থ ও আইনসম্মত।

    স্মারকলিপি হলো কোম্পানির মূল বা প্রধান দলিল, যাকে কোম্পানির সংবিধান বা সনদ বলা হয়। এই দলিলে কোম্পানির নাম, নিবন্ধিত কার্যালয়ের ঠিকানা, উদ্দেশ্য, মূলধন ও সদস্যদের সীমিত দায়ের পরিধি নির্দিষ্ট থাকে। বিশেষ করে উদ্দেশ্য ধারায় কোম্পানি কী কী কাজ করতে পারবে তা সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকে।

    কোম্পানি আইনের বিধান অনুযায়ী, স্মারকলিপিতে নির্ধারিত সীমার বাইরে কোম্পানি কোনো কাজ করতে পারে না। যদি কোনো কোম্পানি স্মারকলিপির শর্ত বা উদ্দেশ্য ধারার বাইরে গিয়ে কোনো লেনদেন বা কার্যক্রম সম্পাদন করে, তবে আইন অনুযায়ী তা ‘ক্ষমতাবহির্ভূত কাজ’ (Ultra Vires) বলে গণ্য হয়। এই ধরনের কার্যক্রমের কোনো আইনগত বৈধতা থাকে না এবং তা বাতিল বলে গণ্য হয়। শুধু তাই নয়, এর ফলে সংশ্লিষ্ট পরিচালকমণ্ডলী ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হন এবং কোম্পানি আইন অনুযায়ী তা শাস্তিযোগ্য বা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

    অতএব, কোম্পানির ভিত্তিপ্রস্তরস্বরূপ দলিল হওয়ার কারণে এর শর্ত ও উদ্দেশ্য অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং বলা যায়, স্মারকলিপির শর্ত লঙ্ঘন করা কোম্পানি আইনের দৃষ্টিতে বেআইনি ও অপরাধ—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন