সমাজকর্ম ২য় পত্র • সামাজিক আইন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
আইন কি?
- খ)(2)
সামাজিক আইনের একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন সামাজিক আইন ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইন হলো সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ বা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত ও স্বীকৃত এমন কিছু নিয়ম-কানুন ও বিধিনিষেধের সমষ্টি, যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং যা অমান্য করলে শাস্তির বিধান রয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক আইনের একটি অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো সমাজের পিছিয়ে পড়া, দুর্বল ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা করা। সামাজিক কুপ্রথা, শোষণ ও বৈষম্য দূর করে সমাজের নারী, শিশু ও প্রান্তিক মানুষদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সুষম ও শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ আইনের লক্ষ্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে '১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ'-কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকের চিত্রটিতে সামাজিক আইনের শাখা হিসেবে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন, বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণ, তালাক, দেনমোহর, বিবাহ বিচ্ছেদ এবং উত্তরাধিকারের মতো বিষয়গুলোকে দেখানো হয়েছে। এ বিষয়গুলো ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের প্রধান ধারাসমূহকে নির্দেশ করে।
তৎকালীন সমাজে নারীদের প্রতি নানাবিধ বৈষম্য ও অবিচার দূরীকরণের লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার ১৯৬১ সালের ১৫ জুলাই 'মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ' জারি করে। এ আইনে প্রতিটি মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়, দেনমোহর পরিশোধের নিশ্চয়তা বিধান করা হয়, সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া বহুবিবাহ নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য করা হয়, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নোটিশ প্রদান ব্যতিরেকে মৌখিক ও একতরফা তালাক প্রদান রোধ করা হয় এবং এতিম পৌত্র-পৌত্রীদের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা হয়। উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত প্রতিটি বিষয় এই আইনের মূল ধারাগুলোর প্রতিচ্ছবি। অতএব, উদ্দীপকে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নারীর অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষায় উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত '১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ'-এর গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বিবাহ রেজিস্ট্রেশন ও আইনি নিশ্চয়তা: এ আইনে মুসলিম বিবাহ সরকারিভাবে বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের বিধান করায় নারীরা দাম্পত্য জীবনে আইনি স্বীকৃতি পায়, যা যৌতুক বা দেনমোহর আদায়ে আইনি ভিত্তি দেয়।
২. বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণ: পূর্ববর্তী সমাজে পুরুষরা অবাধে বহুবিবাহ করত, যা নারীর পারিবারিক মর্যাদা ধ্বংস করত। এ আইনের মাধ্যমে সালিশি পরিষদের পূর্বানুমতি ছাড়া পুনর্বিবাহ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় করা হয়েছে, ফলে নারীদের মর্যাদা ও অবস্থান সুরক্ষিত হয়েছে।
৩. দেনমোহরের সুরক্ষা: দেনমোহর স্ত্রীর একান্ত অধিকার। এ আইনে স্বামী কর্তৃক চাহিবামাত্র বা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ দেনমোহর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকায় নারীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
৪. একতরফা তালাক রোধ: পূর্বে স্বামী ইচ্ছামতো মৌখিকভাবে স্ত্রীকে তাৎক্ষণিক তালাক দিয়ে দিত। এই আইনে তালাক কার্যকর করার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা সালিশি কাউন্সিলে লিখিত নোটিশ প্রদান এবং ৯০ দিনের সমঝোতার সময়সীমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা নারীদের হঠকারী বিবাহ বিচ্ছেদের হাত থেকে রক্ষা করে।
৫. এতিম নাতি-নাতনির অধিকার ও উত্তরাধিকার সুরক্ষা: পিতার মৃত্যুর পর জীবিত পিতামহের সম্পত্তিতে সন্তানহারা নারীর সন্তান বা এতিমদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ বাংলাদেশের পারিবারিক পরিমণ্ডলে নারীদের শোষণ, বঞ্চনা ও অবহেলা থেকে মুক্ত করে তাদের আইনগত অধিকার, সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে আসছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও