ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

বিক্রয় ব্যবস্থাপক শামীম নিজের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করেন। প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়ের কাজ বারবার সম্পাদন করতে হয়। তাই শামীমকে সিদ্ধান্ত নিহে হয় তিনি নগদে না বাকিতে পণ্য বিক্রয় করবেন। অভিজ্ঞতার আলোকে পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করে তিনি বাকিতে পণ্য বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

  1. ক)

    লক্ষ্য কী?

    (1)
  2. খ)

    কার্যভিত্তিক পরিকল্পনা বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    জনাব শামীমের আচরণে ব্যবস্থাপনার কোন নীতিটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    শামীম বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যে ধরনের স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তার কার্যকারিতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিকল্পনার অভিপ্রেত বা প্রত্যাশিত ফলকে লক্ষ্য (Goal) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, তাকে কার্যভিত্তিক পরিকল্পনা বলে।
    সাধারণত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ—যেমন উৎপাদন, বিপণন, অর্থসংস্থান, মানবসম্পদ ইত্যাদির আলাদা কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে এ ধরনের পরিকল্পনা প্রণীত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি বিভাগের কার্যদক্ষতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনাব শামীমের আচরণে ব্যবস্থাপনার 'সাধারণ স্বার্থে ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ'-এর নীতিটি ফুটে উঠেছে।
    ব্যবস্থাপনার এই নীতি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রত্যেক ব্যক্তি বা বিভাগের নিজস্ব স্বার্থের চেয়ে সামগ্রিক বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকে সবসময় অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। ব্যক্তিস্বার্থের প্রাধান্য থাকলে প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হয়।
    উদ্দীপকে দেখা যায়, বিক্রয় ব্যবস্থাপক জনাব শামীম নিজের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করেন। অর্থাৎ তিনি নিজের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া বা সুবিধার চেয়ে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও কল্যাণকে বড় করে দেখছেন। ফলে হেনরি ফেয়ল বর্ণিত ব্যবস্থাপনার 'সাধারণ স্বার্থে ব্যক্তিস্বার্থ বিসর্জন' নীতিটি তার আচরণে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শামীম বিক্রয়ের ক্ষেত্রে স্থায়ী পরিকল্পনার অন্যতম রূপ 'নীতি' (Policy) গ্রহণ করেছেন। নিচে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হলো:
    যে পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানে বারবার বা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়, তাকে স্থায়ী পরিকল্পনা বলে। স্থায়ী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে 'নীতি' হলো এমন একটি সাধারণ নির্দেশিকা, যা ঊর্ধ্বতন বা ব্যবস্থাপকগণকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে পথনির্দেশ করে।
    উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় কাজ বারবার সম্পাদন করতে হয়। তাই পণ্য নগদে নাকি বাকিতে বিক্রয় করা হবে—এ বিষয়ে জনাব শামীম অভিজ্ঞতার আলোকে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে 'বাকিতে বিক্রয়' করার সাধারণ সিদ্ধান্ত বা বিক্রয় নীতি নির্ধারণ করেন।
    এই ধরনের স্থায়ী পরিকল্পনা বা বিক্রয় নীতির কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
    ১. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ: একই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতিবার নতুন করে চিন্তা করতে হয় না; পূর্বনির্ধারিত নীতির আলোকে কর্মীরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
    ২. কাজের ধারাবাহিকতা ও সমরূপতা: প্রতিষ্ঠানের সব পর্যায়ের বিক্রয় কার্যক্রমে একটি শৃঙ্খলা ও সামঞ্জস্য বজায় থাকে।
    ৩. বিক্রয় ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি: বাকিতে বিক্রয়ের নীতি গ্রহণের ফলে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে গ্রাহক আকর্ষণ ও মোট বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
    সুতরাং, বারবার পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের ক্ষেত্রে শামীমের গৃহীত নীতিধর্মী স্থায়ী পরিকল্পনাটি সময় বাঁচিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতিশীলতা ও কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন