উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন
'মেট্রো টেইলরস অ্যান্ড ফেব্রিকস' গ্রীষ্মকালে কাপড়ের মূল্য ও মেকিং চার্জ পুনঃনির্ধারণ করে। প্রতিষ্ঠানটি স্যুট কাপড় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ১০% এবং মেকিং চার্জের উপর ২০% ছাড় দেয়। ফলে গ্রীষ্মকালেও তাদের বিক্রীত স্যুটের কাপড়ের চাহিদা বিদ্যমান থাকে। অন্যদিকে স্যুট তৈরির কারিগরদের অলস সময় কাটাতে হয় না।
- ক)(1)
লোভনীয় পণ্য কী?
- খ)(2)
ভারসাম্য বিন্দু বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
‘মেট্রো টেইলরস অ্যান্ড ফেরিকস' কর্তৃক বিক্রীত পণ্যটি কোন ধরনের ভোগ্যপণ্য? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির স্যুটের কাপড় বিক্রয় ও মেকিং চার্জের ক্ষেত্রে যে বাট্টা প্রদান করেছে তার যথার্থত! মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব পণ্য ভোক্তারা কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই দেখা মাত্রই প্রলুব্ধ হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ক্রয় করে, সেগুলোকে লোভনীয় পণ্য বলে (যেমন: আইসক্রিম, চকলেট, ম্যাগাজিন ইত্যাদি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারসাম্য বিন্দু বা ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট (Break-even Point) হলো বিক্রয়ের এমন একটি স্তর বা পরিমাণ, যেখানে প্রতিষ্ঠানের মোট আয় এবং মোট ব্যয় সমান হয়।
অর্থাৎ, এই বিক্রয় স্তরে প্রতিষ্ঠানের কোনো লাভও হয় না, আবার কোনো ক্ষতি বা লোকসানও হয় না। এটি এমন একটি বিন্দু যা নির্দেশ করে প্রতিষ্ঠানকে লোকসান এড়াতে ন্যূনতম কী পরিমাণ পণ্য বিক্রি করতে হবে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘মেট্রো টেইলরস অ্যান্ড ফেব্রিকস’ কর্তৃক বিক্রীত স্যুটের কাপড়টি হলো 'শপিং ভোগ্যপণ্য' (Shopping Goods)।
যেসব ভোগ্যপণ্য ক্রয়ের সময় ক্রেতারা পণ্যের উপযুক্ততা, মান, মূল্য, ডিজাইন ও স্থায়িত্ব ইত্যাদি বিষয়গুলো বিভিন্ন দোকান ঘুরে তুলনামূলক যাচাই-বাছাই করে ক্রয় করে, সেগুলোকে শপিং পণ্য বলে। এ ধরনের পণ্য ক্রয়ে ক্রেতারা যথেষ্ট সময় ও শ্রম ব্যয় করে থাকে।
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি স্যুটের কাপড় বিক্রি করে। স্যুটের কাপড় কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় বা নিয়মিত সুবিধা পণ্য নয়; বরং তা ক্রয়ের পূর্বে ক্রেতা কাপড়ের গুণগত মান, রং, দাম ও ফ্যাশন অন্যান্য কাপড়ের সাথে তুলনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অতএব, এটি শপিং পণ্যের আওতাভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির স্যুটের কাপড় বিক্রয় ও মেকিং চার্জের ক্ষেত্রে যে বাট্টা (মৌসুমি বাট্টা বা অফ-সিজন ডিসকাউন্ট) প্রদান করা হয়েছে, তা বিপণন ও ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ যথার্থ।
অসময়ে বা যে মৌসুমে পণ্যের চাহিদা কম থাকে, তখন চাহিদা সৃষ্টি ও ধরে রাখার লক্ষ্যে বিক্রেতারা মূল্য ছাড় বা মৌসুমি বাট্টা প্রদান করে থাকে। এর ফলে মন্দা সময়েও বিক্রয়ের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং প্রতিষ্ঠানের স্থির ব্যয় মেটানো ও জনবলের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
উদ্দীপকে লক্ষ্য করা যায়, স্যুট সাধারণত শীতকালীন পোশাক হওয়ায় গ্রীষ্মকালে এর চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘মেট্রো টেইলরস অ্যান্ড ফেব্রিকস’ গ্রীষ্মকালে স্যুটের কাপড়ে ১০% এবং মেকিং চার্জের ওপর ২০% ছাড় দেয়। এই মূল্য ছাড়ের কারণে গ্রীষ্মকালেও ক্রেতারা স্যুট তৈরি করতে আগ্রহী হয়, ফলে স্যুটের কাপড়ের ধারাবাহিক বিক্রয় বজায় থাকে। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটির দক্ষ কারিগরদের অলস সময় কাটাতে হয় না এবং তাদের কর্মসংস্থান সচল থাকে।
সুতরাং, অফ-সিজনে চাহিদা স্থিতিশীল রাখা, বিক্রয় অব্যাহত রাখা এবং উৎপাদন ক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহারের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির গৃহীত এই মূল্য ছাড়ের কৌশলটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যথার্থ হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও