পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
আফ্রিকা মহাদেশের একটি বৃহৎ অঞ্চলে পাশাপাশি দুটি প্রধান সম্প্রদায় বসবাস করে। এখানে দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্বেষী শাসন বিদ্যমান থাকায় দু’সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগেই থাকে। শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলেও তা সমাধান হয়নি। পরিশেষে, কর্তৃপক্ষ দু’সম্প্রদায়কে আলাদা করার চিন্তা করে এবং পার্লামেন্টে একটি আইন পাস করে। এ আইন অনুযায়ী দু’সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে।
- ক)(1)
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা কে?
- খ)(2)
দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে তোমার পঠিত কোন আইনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আইনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা হলেন অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম (এ. ও. হিউম)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা বলতে এমন একটি শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে একই শাসনব্যবস্থায় সরকারের ক্ষমতা বা বিষয় দুটি পৃথক কর্তৃপক্ষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতের প্রাদেশিক শাসনে এটি প্রবর্তন করা হয়, যেখানে বিষয়সমূহকে 'হস্তান্তরিত' (জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে) ও 'সংরক্ষিত' (গভর্নর ও তার নির্বাহী পরিষদের হাতে) এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে আমার পঠিত '১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
ব্রিটিশ ভারতে হিন্দু ও মুসলিম এই দুই প্রধান সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলছিল। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সংস্কার আইন এনে সমঝোতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরিশেষে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের দাবির মুখে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে 'ভারত স্বাধীনতা আইন, ১৯৪৭' পাস করা হয়। এ আইনের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালের আগস্টে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক স্বাধীন ও সার্বভৌম ডোমিনিয়ন বা রাষ্ট্র গঠিত হয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, পাশাপাশি বসবাসকারী দুটি প্রধান সম্প্রদায়ের দীর্ঘ দ্বন্দ্ব নিরসনে কর্তৃপক্ষ পার্লামেন্টে আইন পাস করে তাদের জন্য দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। এটি ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মূল পদক্ষেপের সাথে হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আইন অর্থাৎ '১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন'-এর তাৎপর্য ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে অপরিসীম।
প্রথমত, এই আইনের মাধ্যমেই ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় দুইশত বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে। ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
দ্বিতীয়ত, এ আইনের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তানের জনগণের হাতে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌমত্ব হস্তান্তর করা হয়। গভর্নর-জেনারেলের ভেটো ক্ষমতা সীমিত করা হয় এবং ব্রিটিশ রাজশক্তির 'ভারত সম্রাট' উপাধি বিলুপ্ত হয়। উভয় দেশের জন্য গণপরিষদ গঠন করে নিজ নিজ সংবিধান রচনার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
তবে এই আইনের ফলে দেশভাগ হওয়ার সাথে সাথে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, রক্তপাত এবং লাখ লাখ মানুষের উদ্বাস্তু হওয়ার মতো চরম মানবিক সংকটও তৈরি হয়। কাশ্মীরসহ বহু অমীমাংসিত সীমান্ত সমস্যার জন্ম দেয় এই আইন।
পরিশেষে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল এবং এটি ঔপনিবেশিক মুক্তির ইতিহাসে একটি অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও