জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
সোলেমান স্যার জীববিজ্ঞান ক্লাসে দুটি প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। প্রথম প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভিদের বিভাজনক্ষম অংশ উপযুক্ত আবাদ মাধ্যমে নিয়ে চারা উৎপাদন করা যায়। দ্বিতীয়টির মাধ্যমে কাঙ্খিত অন্য জীবে স্থানান্তর করে উন্নত জীব সৃষ্টি করা যায়।
- ক)(1)
GM ফসল কী?
- খ)(2)
জীব নিরাপত্তা প্রয়োজন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রথম প্রযুক্তির ধাপসমূহ ধারাবাহিকভাবে লেখো।
- ঘ)(4)
কৃষি ও চিকিৎসাক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় প্রযুক্তির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্য কোনো জীবের কাঙ্ক্ষিত জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত করে উদ্ভাবিত ফসলকে GM (Genetically Modified) ফসল বা ট্রান্সজেনিক ফসল বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জেনেটিক্যালি মডিফায়েড জীব (GMO) বা এদের উপাদান ব্যবহারের ফলে মানবস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষার জন্য জীব নিরাপত্তা (Biosafety) প্রয়োজন। জীব নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে অনিয়ন্ত্রিত রোগজীবাণুর বিস্তার, বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যহীনতা এবং অপ্রত্যাশিত অ্যালার্জি বা বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রথম প্রযুক্তিটি হলো উদ্ভিদ টিস্যু কালচার প্রযুক্তি। এর ধাপসমূহ ধারাবাহিকভাবে নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. মাতৃউদ্ভিদ ও এক্সপ্লান্ট নির্বাচন: সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত উৎকৃষ্ট উদ্ভিদের বিভাজনক্ষম অংশ (যেমন- শীর্ষমুকুল, কচি পাতা) নির্বাচন করা।
২. কালচার মাধ্যম বা পুষ্টি মাধ্যম তৈরি: উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাক্রো ও মাইক্রো উপাদান, ভিটামিন, সুক্রোজ এবং পিএইচ (pH) নিয়ন্ত্রণ করে জেলিং এজেন্ট (আগার) সহযোগে পুষ্টি মাধ্যম প্রস্তুত করা।
৩. নির্বীজকরণ বা অটোক্লেভিং: পুষ্টি মাধ্যম ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিকে অটোক্লেভ যন্ত্রে নির্দিষ্ট চাপ (১৫ পাউন্ড/বর্গইঞ্চি) ও তাপমাত্রায় (১২১° সে.) নির্বীজ করা।
৪. মাধ্যমে এক্সপ্লান্ট স্থাপন (ইনো瓢কুলেশন): জীবাণুমুক্ত পরিবেশে ল্যামিনার এয়ার ফ্লোর ভেতরে এক্সপ্লান্টটিকে পুষ্টি মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা।
৫. ক্যালাস সৃষ্টি ও অণুচারা উৎপাদন: নির্দিষ্ট আলো-তাপমাত্রায় ইনকিউবেটরে রেখে এক্সপ্লান্ট থেকে কোষপিণ্ড বা ক্যালাস সৃষ্টি এবং পরবর্তীতে অঙ্গজ প্রস্ফুটনের মাধ্যমে অণুচারা তৈরি করা।
৬. মূল উৎপাদক মাধ্যমে স্থানান্তর: অণুচারায় মূল না থাকলে মূল তৈরির জন্য নির্দিষ্ট হরমোনযুক্ত মাধ্যমে স্থানান্তর।
৭. চারা টবে স্থানান্তর ও প্রাকৃতিক পরিবেশে অভিযোজন: পুষ্টি মাধ্যম ধুয়ে চারাগুলোকে টবের মাটিতে রোপণ এবং ধাপে ধাপে প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তি। কৃষি ও চিকিৎসাক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম:
কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্ব:
১. কীটপতঙ্গ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন: ব্যাসিলাস থুরিনজিয়েনসিস (Bt) ব্যাকটেরিয়ার জিন ফসলে স্থানান্তর করে বিটি-তুলা, বিটি-বেগুন ইত্যাদি পেস্ট-প্রতিরোধী ফসল উদ্ভাবন করা হয়েছে।
২. ভাইরাস ও রোগ প্রতিরোধী জাত: পেঁপে, আলু ও তামাকের ক্ষেত্রে ভাইরাস প্রতিরোধী জাত সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে।
৩. পুষ্টিমান উন্নয়ন: ভিটামিন-এ ও আয়রন সমৃদ্ধ গোল্ডেন রাইস (Golden Rice) উদ্ভাবন কৃষিতে একটি বৈপ্লবিক অগ্রগতি।
৪. প্রতিকূলতা সহনশীল জাত: লবণাক্ততা, খরা ও বন্যা সহনশীল ফসল উদ্ভাবনে এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।চিকিৎসাক্ষেত্রে গুরুত্ব:
১. রিকম্বিন্যান্ট ইনসুলিন উৎপাদন: ব্যাকটেরিয়া (E. coli) ব্যবহার করে মানবদেহের উপযোগি ইনসুলিন বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হচ্ছে, যা ডায়াবেটিস চিকিৎসায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে।
২. ইন্টারফেরন ও হরমোন উৎপাদন: ভাইরাস সংক্রমণ ও ক্যান্সার প্রতিরোধে ইন্টারফেরন এবং বামনত্ব দূরীকরণে মানুষের বৃদ্ধি হরমোন (HGH) উৎপাদন করা হচ্ছে।
৩. টিকা ও অ্যান্টিবডি তৈরি: হেপাটাইটিস-বি সহ বিভিন্ন রোগের নিরাপদ রিকম্বিন্যান্ট ভ্যাকসিন এবং ডায়াগনসিসের জন্য মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি তৈরি করা হচ্ছে।
৪. জিন থেরাপি: বংশগত ও জিনঘটিত দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময়ে ত্রুটিপূর্ণ জিনের পরিবর্তে সুস্থ জিন প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে।অতএব, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও মানব স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও