জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

রহিম সাহেব শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা নিয়ে ডাক্তারের নিকট গেল। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে ডাক্তার বললেন—বক্ষ গহ্বরের দুই ফুসফুসের মাঝে অবস্থিত মোচাকৃতির অঙ্গটির রক্তনালিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

  1. ক)

    রক্ত তঞ্চন কী?

    (1)
  2. খ)

    কার্ডিয়াক চক্র বলতে কী বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটির লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন কর।

    (3)
  4. ঘ)

    রহিম সাহেবের সমস্যাটি জটিল অপারেশন ছাড়াই নিরসন করা সম্ভব কি না—বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে জটিল জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য ক্ষতস্থানে তরল রক্ত জেলির মতো থকথকে পিণ্ডে বা জমাটে পরিণত হয়, তাকে রক্ত তঞ্চন বা রক্ত জমাট বাঁধা (Blood Clotting) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হৃৎপিণ্ডের একটি স্পন্দনে এর অলিন্দ ও নিলয়ের পর্যায়ক্রমিক সংকোচন (সিস্টোল) ও প্রসারণের (ডায়াস্টোল) যে চক্রাকার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাকে কার্ডিয়াক চক্র বলে। একটি স্বাভাবিক মানব হৃৎস্পন্দনে এই চক্র সম্পন্ন হতে প্রায় ০.৮ সেকেন্ড সময় লাগে। কার্ডিয়াক চক্র প্রধানত চারটি ধাপে বিভক্ত: অলিন্দের ডায়াস্টোল (০.৭ সেকেন্ড), অলিন্দের সিস্টোল (০.১ সেকেন্ড), নিলয়ের সিস্টোল (০.৩ সেকেন্ড) এবং নিলয়ের ডায়াস্টোল (০.৫ সেকেন্ড)।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত অঙ্গটি হলো মানব হৃৎপিণ্ড। নিচে মানব হৃৎপিণ্ডের লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র ও বর্ণনা দেওয়া হলো:

    [পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা: খাতায় মানব হৃৎপিণ্ডের লম্বচ্ছেদের একটি পরিষ্কার চিত্র অঙ্কন করে নিম্নলিখিত অংশগুলো চিহ্নিত করতে হবে:]
    ১. ডান অলিন্দ (Right Atrium) ও বাম অলিন্দ (Left Atrium)
    ২. ডান নিলয় (Right Ventricle) ও বাম নিলয় (Left Ventricle)
    ৩. কপাটিকাসমূহ: ট্রাইকাসপিড, বাইকাসপিড (মাইট্রাল) এবং সেমিলুনার কপাটিকা
    ৪. রক্তনালিসমূহ: ঊর্ধ্ব ও নিম্ন মহাশিরার প্রবেশপথ, ফুসফুসীয় ধমনি (Pulmonary Artery), ফুসফুসীয় শিরা (Pulmonary Vein), এবং মহাধমনি (Aorta)
    ৫. আন্তঃনিলয় পর্দা বা ইন্টারভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাম।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রহিম সাহেবের হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিতে (করোনারি ধমনিতে) চর্বি জমে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যাকে করোনারি হৃদরোগ বা করোনারি আর্টারি ডিজিজ (CAD) বলা হয়।

    হ্যাঁ, রহিম সাহেবের সমস্যাটি কোনো জটিল ও উন্মুক্ত অপারেশন (যেমন- ওপেন হার্ট সার্জারি বা করোনারি আর্টারি বাইপাস গ্রাফটিং - CABG) ছাড়াই আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিরসন করা সম্ভব। নিচে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

    ১. এনজিওপ্লাস্টি (Angioplasty): এটি কোনো বড় ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়া ব্লকেজ অপসারণের একটি অত্যন্ত কার্যকর নন-সার্জিক্যাল পদ্ধতি।
    ক. বেলুন এনজিওপ্লাস্টি: কুঁচকি বা হাতের রক্তনালির মধ্য দিয়ে একটি সূক্ষ্ম ক্যাথেটার করোনারি ধমনির ব্লকযুক্ত স্থানে পৌঁছে ফুলিয়ে ধমনির পথ প্রশস্ত করা হয়।
    খ. করোনারি স্টেন্টিং (রিং পরানো): সাধারণত বেলুন দিয়ে পথ তৈরি করার পর সেখানে একটি স্প্রিং বা স্টেন্ট (Stent) স্থাপন করা হয়, যাতে ধমনি পুনরায় সংকুচিত না হতে পারে। বর্তমানে ওষুধযুক্ত স্টেন্ট (Drug-eluting stent) ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
    গ. অ্যাথেরেক্টমি: বিশেষ ক্যাথেটার ব্যবহার করে ধমনির ভেতরের শক্ত চর্বি কেটে বা গুঁড়ো করে বের করে আনা হয়।

    ২. ওষুধ প্রয়োগ (Pharmacotherapy): প্রাথমিক ও মাঝারি ব্লকেজের ক্ষেত্রে রক্ত পাতলা রাখার ওষুধ (অ্যাসপিরিন, ক্লোপিডোগ্রেল), রক্তের কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ (স্ট্যাটিন) এবং নাইট্রেট জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়।

    ৩. জীবনযাত্রার পরিবর্তন: সুষম ও চর্বিমুক্ত খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত হাঁটা বা শারীরিক ব্যায়াম, ধূমপান পরিহার এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেও এই জটিলতা রোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

    সুতরাং, করোনারি এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্টিং প্রযুক্তি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে জটিল ওপেন হার্ট সার্জারি ছাড়াই রহিম সাহেবের রক্তনালির ব্লকেজ নিরসন করা পুরোপুরি সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন