‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা কে?

    (1)
  2. খ)

    প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    'খ' রাষ্ট্রে কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, 'ক' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থা 'খ' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থার চেয়ে উত্তম? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রধান প্রবক্তা হলেন ফরাসি দার্শনিক ব্যারন ডি মন্টেস্কু (Montesquieu)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বলতে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তাদের গৃহীত যাবতীয় সিদ্ধান্ত, কার্যাবলি ও দায়িত্ব পালনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, আইনসভা এবং সর্বোপরি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকাকে বোঝায়।

    প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করতে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনিক জবাবদিহিতা অপরিহার্য। এর মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের মান ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'খ' রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।

    যে শাসনব্যবস্থায় শাসন বিভাগের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতিই প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী এবং তিনি তাঁর কাজের জন্য আইনসভার নিকট দায়ী থাকেন না, তাকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলে। এ ধরনের সরকারে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কঠোরভাবে অনুসৃত হয়।

    উদ্দীপকের 'খ' রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যে দেখা যায়—রাষ্ট্রপ্রধান প্রকৃত শাসক, মন্ত্রিসভা রাষ্ট্রপতির অনুগত এবং ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বিদ্যমান। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতি এককভাবে শাসন বিভাগের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হন এবং তিনি নিজের পছন্দমতো মন্ত্রী নিয়োগ করেন, যারা পুরোপুরি রাষ্ট্রপতির অনুগত থাকেন এবং আইনসভার সদস্য হন না। সুতরাং, বৈশিষ্ট্যগুলোর আলোকে এটি নিশ্চিতভাবেই রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি 'ক' রাষ্ট্রের সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা 'খ' রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার চেয়ে তুলনামূলকভাবে অধিক গণতান্ত্রিক ও উত্তম।

    উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রীদের আইনসভার সদস্য হওয়া এবং আইনসভার প্রাধান্য থাকার কথা বলা হয়েছে, যা সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে 'খ' রাষ্ট্রে বিদ্যমান ব্যবস্থাটি হলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা।

    'ক' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থা 'খ' রাষ্ট্রের চেয়ে উত্তম হওয়ার পেছনে নিম্নোক্ত যুক্তিগুলো বিবেচনা করা যায়:
    ১. জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা: সংসদীয় পদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাকে তাদের যাবতীয় কাজের জন্য প্রত্যক্ষভাবে আইনসভার কাছে এবং পরোক্ষভাবে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। আইনসভা অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে পারে, যা রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় সম্ভব নয়।
    ২. স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধ: রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতির হাতে একক ও অপরিসীম ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে, ফলে অনেক সময় স্বৈরাচারী মনোভাব গড়ে ওঠার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু সংসদীয় সরকারে ক্যাবিনেটের যৌথ দায়িত্বশীলতা থাকায় স্বৈরাচার হওয়ার সুযোগ কম।
    ৩. আইন ও শাসন বিভাগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক: সংসদীয় পদ্ধতিতে আইন ও শাসন বিভাগের মধ্যে সুসম্পর্ক ও সহযোগিতা থাকে, যার ফলে আইন প্রণয়ন ও শাসনকার্য পরিচালনা সহজ হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের ফলে উভয় বিভাগের মধ্যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।

    অতএব, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে 'ক' রাষ্ট্রের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা 'খ' রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থার চেয়ে নিঃসন্দেহে অধিক গ্রহণযোগ্য ও উত্তম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন