সাহিত্য পাঠ • মানব-কল্যাণ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
'সিডর'-এ সব হারিয়ে কৃষক কেরামত আলী একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলো। কেরামত নিরুপায় হয়ে বন্ধু হাসমত মিয়ার বাড়ি গিয়ে উঠলো সাহায্যের জন্য। বন্ধু তাকে নিরাশ করেনি। সে তাকে এক জোড়া হালের গরু, লাঙল ও জোয়াল কিনতে টাকা দিলো এবং চাষাবাদ আরম্ভ করতে বললো। কেরামত তার বন্ধুর এ সহায়তা পেয়ে প্রচুর পরিশ্রমের ফলে নিজের অবস্থার পরিবর্তন করতে সক্ষম হলো।
- ক)(1)
একমুষ্ঠি ভিক্ষা দেওয়াকে আমরা কী মনে করো?
- খ)(2)
"ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ" ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের কোন দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূলভাব একসূত্রে গাঁথা"-উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একমুঠো ভিক্ষা দেওয়াকে আমরা সাধারণত মানব-কল্যাণ মনে করে থাকি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ"— কথাটি দিয়ে দাতার মহত্ত্ব এবং গ্রহীতার পরনির্ভরশীলতার হীনমন্যতার বিষয়টি নির্দেশ করা হয়েছে।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বুঝিয়েছেন যে, দান গ্রহণের মাধ্যমে গ্রহীতা হাত পেতে নিজেকে হীন ও পরনির্ভরশীল করে তোলে। পক্ষান্তরে, যে হাত দান করে বা সাহায্য জোগায় (ওপরের হাত), সে থাকে মর্যাদার আসনে। তবে লেখক এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, নিছক ভিক্ষা দেওয়া আসল কল্যাণ নয়; মানুষকে এমনভাবে সাহায্য করতে হবে যেন তার হাত আর কারও নিচে না যায়, বরং সে মর্যাদাবান মানুষে পরিণত হতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে আলোচিত মানুষের স্বাবলম্বন সৃষ্টি এবং মানবিক মর্যাদাবোধ অক্ষুণ্ন রেখে স্থায়ী কল্যাণের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন যে, কোনো মানুষকে সাময়িক কিছু দান বা ভিক্ষা দেওয়া প্রকৃত মানব-কল্যাণ নয়। বরং মানুষকে পরমুখাপেক্ষিতা ও দৈন্য থেকে মুক্ত করে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও স্বাবলম্বী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই হলো সত্যিকারের মানব-কল্যাণ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সিডরে নিঃস্ব হওয়া কৃষক কেরামতকে তার বন্ধু হাসমত সাময়িক ভিক্ষা না দিয়ে গরু, লাঙল ও জোয়াল কেনার ব্যবস্থা করে দেয়। ফলে কেরামত নিজের শ্রম দিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে এবং তার অর্থনৈতিক মুক্তির সাথে সাথে মানবিক মর্যাদাও পুনরুদ্ধার হয়। এটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের স্থায়ী উন্নয়ন ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার দর্শনের সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূলভাব একসূত্রে গাঁথা"— উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
আবুল ফজল তাঁর 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, অনুগ্রহ বা ভিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে মানুষের মনুষ্যত্বকে অপমানিত করা হয়। প্রকৃত মানব-কল্যাণের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত করা, তার সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানো এবং সমাজে তাকে পূর্ণ মর্যাদায় স্বাবলম্বী করে তোলা।
উদ্দীপকের হাসমত মিয়া তার বন্ধু কেরামত আলীর চরম বিপদে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী কোনো অনুকম্পা বা সাময়িক দান করেনি। সে কেরামতকে উৎপাদনমুখী উপকরণ (গরু, লাঙল ও জোয়াল) দিয়ে কর্মসংস্থানের স্থায়ী সুযোগ তৈরি করে দেয়। এর ফলে কেরামত কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করে এবং সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধেও লেখক ঠিক এই দৃষ্টিভঙ্গির ওপরই জোর দিয়েছেন। তিনি মানুষকে অবমাননা থেকে রক্ষা করে মানবমর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সামগ্রিক মানবিক চেতনাকে জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। হাসমত মিয়ার সাহায্য কেরামতের আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ন করেনি, বরং তাকে উৎপাদক শক্তিতে পরিণত করেছে।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের কৃষকের পুনর্বাসন ও স্বাবলম্বী হওয়ার চিত্র এবং প্রবন্ধে বর্ণিত প্রকৃত মানবকল্যাণের মূল দর্শন একে অপরের পরিপূরক। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও