পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
‘ক’ রাষ্ট্রের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার ৪টি মূলনীতি রাখা হয়েছে। এগুলো হলো জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা।
- ক)(1)
মৌলিক অধিকার কী?
- খ)(2)
ন্যায়পাল বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো সংবিধানের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধান জনগণের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে—বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৌলিক অধিকার হলো নাগরিকের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য সংবিধানে স্বীকৃত এবং আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য অপরিহার্য অধিকারসমূহ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ন্যায়পাল (Ombudsman) হলেন সংবিধিবদ্ধ বা সাংবিধানিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত একজন নিরপেক্ষ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যিনি সরকারের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত করেন। সুইডেনে ১৮০৯ সালে সর্বপ্রথম ন্যায়পাল ব্যবস্থার প্রবর্তন ঘটে। ন্যায়পালের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের অধিকার রক্ষা করা এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে ১৯৭২ সালে প্রণীত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের পূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ গণপরিষদে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান গৃহীত হয় এবং একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়। এই সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং অনুচ্ছেদ ৮(১)-এ রাষ্ট্রের পরিচালনার চারটি মৌলিক নীতি ঘোষণা করা হয়। এই মূলনীতিগুলো হলো—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানেও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অবিকল এই চারটি মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আদর্শগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত্তিস্বরূপ। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানটির সাথে বাংলাদেশের সংবিধানের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলাদেশের সংবিধান সুস্পষ্টভাবে জনগণের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে—বক্তব্যটি সম্পূর্ণ বাস্তব ও যথার্থ।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান একটি গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী দলিল। এর প্রস্তাবনায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, এই সংবিধান রচিত ও গৃহীত হয়েছে জনগণের পক্ষে গণপরিষদের মাধ্যমে। সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে—"প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে।"
এছাড়া, সংবিধানে প্রত্যক্ষ ও সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে। সংবিধানে জনগণের মৌলিক অধিকারসমূহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রের কোনো কর্তৃপক্ষ যাতে এই অধিকার লঙ্ঘন করতে না পারে, সেজন্য উচ্চ আদালতের মাধ্যমে তা বলবৎকরণের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগকে জনগণের কাছে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে দায়বদ্ধ রাখার ব্যবস্থা সংবিধানে বিদ্যমান।
অতএব, সংবিধানের মূলনীতি, জনগণের মালিকানা সংক্রান্ত সুস্পষ্ট ঘোষণা এবং গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার আলোকে নিঃসংশয়ে বলা যায় যে উদ্দীপকে নির্দেশিত বাংলাদেশের সংবিধানে জনগণের সর্বোচ্চ সার্বভৌমত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও