কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর আমাদের এই দেশ। এদেশে রয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন যা সারা বিশ্বের একটি ঐতিহ্য। এদেশে কৃত্রিমভাবেও বিভিন্ন ধরনের বনায়ন কার্যক্রম রয়েছে। যেমন সড়কের ধারে, প্রতিষ্ঠান চত্বরে, বসতবাড়ির পাশে ও কৃষিক্ষেত্রেও এক ধরনের বন দেখা যায়।

  1. ক)

    জীববৈচিত্র্য কী?

    (1)
  2. খ)

    পরিবেশ সংরক্ষণে বন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথম অংশে উল্লিখিত বনের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে দ্বিতীয় অংশে উল্লিখিত বনের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পৃথিবীর বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রে বসবাসকারী উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীভসহ সকল প্রকার জীবের বিভিন্নতা ও প্রাচুর্যকে জীববৈচিত্র্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিবেশ সুরক্ষায় বন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারণ এটি বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং প্রাণিকুলের জন্য অপরিহার্য অক্সিজেন সরবরাহ করে বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য বজায় রাখে। এছাড়া বনভূমি ভূমিক্ষয় রোধ করে, মাটির উর্বরতা রক্ষা করে, বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথম অংশে উল্লিখিত বনটি হলো পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন—'সুন্দরবন'। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর: এখানকার মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকায় উদ্ভিদের মূলের বিশেষ শাখা মাটির ওপর খাড়াভাবে উঠে আসে, যা দিয়ে গাছ শ্বাসকার্য চালায়।
    ২. জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম: গাছে ফল থাকা অবস্থাতেই ফলের ভেতর বীজের অঙ্কুরোদগম ঘটে এবং তা কাদামাটিতে সরাসরি গেঁথে গিয়ে নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়।
    ৩. ঠেসমূল ও অধিমূল: জোয়ার-ভাটার টান ও নরম কাদামাটিতে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য গাছের কাণ্ড থেকে ঠেসমূল সৃষ্টি হয়।
    ৪. লবণাক্ততা সহনশীলতা: এ বনের উদ্ভিদসমূহ (যেমন- সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া) লবণাক্ত পানিতে বেঁচে থাকার বিশেষ অভিযোজন ক্ষমতা ধারণ করে।
    ৫. উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৈচিত্র্য: এটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, কুমিরসহ অসংখ্য দুর্লভ বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের অনন্য প্রাকৃতিক আবাসস্থল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে সড়কের ধার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চত্বর, বসতবাড়ি এবং কৃষিক্ষেত্রে গড়ে ওঠা বনায়নের কথা বলা হয়েছে, যা মূলত সামাজিক বনায়ন ও কৃষিবনায়নের অন্তর্ভুক্ত। দেশের আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বনায়নের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম:

    ১. কাঠ ও জ্বালানির চাহিদা পূরণ: বসতবাড়ি ও সড়কের ধারের বৃক্ষরোপণ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাঠ, আসবাবপত্র ও জ্বালানির সিংহভাগ চাহিদা পূরণ করে।
    ২. ফলমূল ও পুষ্টির জোগান: বসতবাড়ির আঙিনায় ও প্রতিষ্ঠানে ফলদ গাছ রোপণের ফলে মানুষের দৈনন্দিন পুষ্টি ও ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হয়।
    ৩. অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান: সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং গাছ বিক্রির লভ্যাংশ পেয়ে প্রান্তিক মানুষ স্বাবলম্বী হয়।
    ৪. কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও ঝুঁকি হ্রাস: কৃষিবনায়নে একই জমিতে শস্য, বৃক্ষ ও পশুপাখি পালন করা যায়, যা মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং বহুমুখী আয়ের উৎস সৃষ্টি করে ঝুঁকি কমায়।
    ৫. স্থানীয় পরিবেশ উন্নয়ন ও ছায়া প্রদান: রাস্তার পাশে গাছ লাগানো হলে তা পথচারীদের ছায়া দেয়, মাটির ক্ষয়রোধ করে এবং স্থানীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

    সুতরাং, দেশের প্রাকৃতিক বনের ওপর চাপ কমাতে এবং টেকসই উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে উদ্দীপকে বর্ণিত বনায়ন কার্যক্রমের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন