কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

আমাদের দেশের মাটি ও পানি উপযোগী এক ধরনের মাছ বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। মাছটি দ্রুত বর্ধনশীল এবং বাজারে এর চাহিদা অনেক। মাছটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, দেখতে মাছটি রূপালি ইলিশের ন্যায় চকচকে।

  1. ক)

    রাক্ষুসে মাছ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ফরমালিন দেয়া মাছ চেনার উপায় কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের মাছটি চাষ করা লাভজনক”—মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব মাছ স্বভাবগতভাবে মাংসাশী এবং সুযোগ পেলেই অন্যান্য ছোট মাছ ও মাছের পোনা খেয়ে সাবাড় করে ফেলে, তাদের রাক্ষুসে মাছ বলে (যেমন— বোয়াল, শোল, চিতল ইত্যাদি)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফরমালিন দেওয়া মাছ চেনার উপায়সমূহ হলো:
    ১. মাছের চোখ বসে যায় এবং ঘোলাটে বা ফ্যাকাসে দেখায়।
    ২. মাছের ফুলকা স্বাভাবিক লাল রঙের পরিবর্তে কালচে বা বিবর্ণ হয়ে যায়।
    ৩. মাছে কোনো স্বাভাবিক মাছের গন্ধ থাকে না, বরং রাসায়নিকের হালকা গন্ধ পাওয়া যায় এবং এতে মাছি বসে না।
    ৪. ফরমালিনযুক্ত মাছের শরীর অস্বাভাবিক শক্ত থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত মাছটি হলো 'সিলভার কার্প'। এটি একটি বহিরাগত (বিদেশি) কার্প জাতীয় মাছ। নিচে এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. বাহ্যিক গঠন: মাছটির দেহ চ্যাপ্টা এবং উপবৃত্তাকার। এর আঁইশ খুব ছোট এবং শরীর রূপালি ইলিশের মতো চকচকে।
    ২. খাদ্যাভ্যাস: সিলভার কার্প মূলত প্লাঙ্কটনভোজী। এরা পানির উপরিভাগে বাস করে এবং খাদ্য হিসেবে প্রধানত ফাইটোপ্লাঙ্কটন বা উদ্ভিজ্জ প্লাঙ্কটন গ্রহণ করে।
    ৩. বৃদ্ধি: এ মাছ অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল এবং পরিবেশের সাথে খুব দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে। অনুকূল পরিবেশে এক বছরে এরা এক থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত ওজনের হতে পারে।
    ৪. স্বভাব: এরা সাধারণত শান্ত স্বভাবের এবং পানির ওপর লাফানোর বিশেষ প্রবণতা রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের মাছটি চাষ করা লাভজনক”—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
    ১. দ্রুত বৃদ্ধি ও উৎপাদন: সিলভার কার্প অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কম সময়ে অধিক পরিমাণ মাংস উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় চাষি অল্প দিনেই লাভবান হতে পারে।
    ২. খাদ্যের সহজলভ্যতা ও কম খরচ: এরা পানির উপরিস্তরের ফাইটোপ্লাঙ্কটন খেয়ে বেঁচে থাকে। পুকুরে নিয়মিত সার প্রয়োগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন করেই এদের বড় করা যায়, ফলে কৃত্রিম খাদ্যের খরচ অনেক কম হয়।
    ৩. মিশ্র চাষের উপযোগী: রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের সাথে সিলভার কার্পের মিশ্র চাষ অত্যন্ত ফলপ্রসূ। এরা অন্যান্য মাছের খাদ্যে ভাগ বসায় না, ফলে জলাশয়ের ওপরের স্তরের খাদ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
    ৪. পানির পরিবেশ রক্ষা: অতিরিক্ত ফাইটোপ্লাঙ্কটন খেয়ে এরা পুকুরের পানির গুণাগুণ ঠিক রাখে এবং ব্লুম তৈরি হতে দেয় না।
    ৫. বাজারমূল্য ও চাহিদা: স্বল্প মূল্যের পুষ্টিকর মাছ হিসেবে সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

    অতএব, কম উৎপাদন খরচ, দ্রুত বৃদ্ধি এবং বাজারে ব্যাপক চাহিদার কারণে সিলভার কার্প চাষ করা অত্যন্ত লাভজনক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন