অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
শিপলু বিদেশে বসবাস করে। সে দেশের সরকার জনগণের নিকট থেকে উচ্চ হারে কর আদায় করে এবং সেই দেশের আয়ের প্রধান খাত করো। দেশটি উন্নত না হওয়ায় প্রতি বছর অন্য দেশ থেকে অনুদান ও ঋণ গ্রহণ করে। দেশটি সামান্য-পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রী অন্য দেশে রপ্তানিও করে।
- ক)(1)
কর কত প্রকার ও কী কী?
- খ)(2)
সরকারি আয়ের উল্লেখযোগ্য উৎসসমূহ কী কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির সরকারের আয়ের খাতসমূহ কী কী?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির সাথে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের খাতের মিল আছে কি? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কর প্রদানের বাধ্যবাধকতা ও প্রকৃতির ভিত্তিতে কর মূলত দুই প্রকার; যথা— প্রত্যক্ষ কর (Direct Tax) এবং পরোক্ষ কর (Indirect Tax)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকারি আয়ের উল্লেখযোগ্য উৎসসমূহকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়: কর রাজস্ব এবং কর-বহির্ভূত রাজস্ব।
১. কর রাজস্ব: এর মধ্যে প্রধান উৎসগুলো হলো আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট), কাস্টমস ও আমদানি শুল্ক, আবগারি শুল্ক এবং সম্পূরক শুল্ক।
২. কর-বহির্ভূত রাজস্ব: এর প্রধান উৎসগুলো হলো সরকারি প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ ও মুনাফা, সুদ, ডাক ও তার বিভাগ, ফি, জরিমানা ও বাজেয়াপ্তকরণ এবং সরকারি সম্পত্তি থেকে অর্জিত আয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির সরকারের আয়ের প্রধান খাতসমূহ হলো:
১. কর রাজস্ব (Tax Revenue): উদ্দীপকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সে দেশের সরকার জনগণের নিকট থেকে উচ্চ হারে কর আদায় করে এবং সেই দেশের আয়ের প্রধান খাত হলো কর। এই কর প্রত্যক্ষ (যেমন—আয়কর, সম্পত্তি কর) বা পরোক্ষ (যেমন—ভ্যাট, শুল্ক) উভয় প্রকারের হতে পারে।
২. বৈদেশিক অনুদান ও ঋণ (Foreign Grants and Loans): উদ্দীপকের দেশটি উন্নত না হওয়ায় উন্নয়ন ও প্রশাসনিক ব্যয় মেটানোর জন্য প্রতি বছর অন্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে অনুদান ও ঋণ গ্রহণ করে, যা দেশটির সরকারের আয়ের অন্যতম বাহ্যিক উৎস।
৩. রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত শুল্ক বা আয়: উদ্দীপকে উল্লেখিত দেশটি সামান্য পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রী অন্য দেশে রপ্তানি করে, যেখান থেকে সামান্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বা শুল্ক রাজস্ব সরকারের তহবিলে জমা হয়।
অতএব, দেশটির আয়ের প্রধান খাতগুলো হলো কর রাজস্ব, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এবং সীমিত রপ্তানি আয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির সাথে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের খাতের কাঠামোগত দিক থেকে যথেষ্ট মিল রয়েছে।
প্রথমত, উদ্দীপকের দেশটির আয়ের প্রধান খাত হলো 'কর'। বাংলাদেশ সরকারেরও প্রধান রাজস্ব আয়ের উৎস হলো কর রাজস্ব। বাংলাদেশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর মাধ্যমে আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট), আমদানি-রপ্তানি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্কের মতো কর আদায়ের মাধ্যমে মোট বাজেটের সিংহভাগ অর্থ সংস্থান করে থাকে।
দ্বিতীয়ত, উদ্দীপকের দেশটি উন্নয়নশীল/অনুন্নত হওয়ায় প্রতি বছর অন্য দেশ থেকে অনুদান ও ঋণ গ্রহণ করে। বাংলাদেশও একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) ও মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা প্রভৃতি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো থেকে সহজ শর্তে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান গ্রহণ করে থাকে।
তৃতীয়ত, উদ্দীপকের দেশটির রপ্তানি খাত সীমিত হলেও বৈদেশিক বাণিজ্যের উপস্থিতি রয়েছে। বাংলাদেশও তৈরি পোশাক, চামড়া, পাটজাত দ্রব্য ইত্যাদি রপ্তানির মাধ্যমে আয় করে, যদিও বাংলাদেশের রপ্তানি খাত উদ্দীপকের দেশটির তুলনায় কিছুটা বিস্তৃত।
সুতরাং, অভ্যন্তরীণ প্রধান উৎস হিসেবে কর রাজস্ব এবং ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতার দিক থেকে উদ্দীপকের দেশটির সরকারের আয়ের কাঠামোর সাথে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের খাতের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও