জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
লালা কী?
- খ)(2)
BMI বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে A অংশটির পরিপাকে ভূমিকা উল্লেখ করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত B অংশটিতে যান্ত্রিক পরিপাক প্রক্রিয়া উল্লেখ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত সামান্য অম্লীয়, বর্ণহীন এবং এনজাইম ও মিউকাসযুক্ত তরল ক্ষরণকে লালা বা লালারস (Saliva) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
BMI (Body Mass Index) বা দেহভর সূচক হলো মানবদেহের উচ্চতার সাথে ওজনের সামঞ্জস্য পরিমাপের একটি আন্তর্জাতিক নির্দেশক।
কোনো ব্যক্তির ওজনকে (কিলোগ্রামে) তার উচ্চতার (মিটারে) বর্গ দিয়ে ভাগ করলে BMI পাওয়া যায়। অর্থাৎ,
এর স্বাভাবিক মান ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ kg/m²। এর মাধ্যমে মানুষের পুষ্টির অবস্থা এবং স্থূলতা বা অপুষ্টি নির্ণয় করা যায়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে চিহ্নিত 'A' অংশটি হলো যকৃতের পিত্তথলি বা যকৃত। পরিপাকে যকৃত ও এর ক্ষরণ পিত্তরসের ভূমিকা অপরিসীম:
১. পিত্তরস ক্ষরণ ও চর্বি ইমালসিফিকেশন: যকৃতে উৎপন্ন এবং পিত্তথলিতে জমা থাকা পিত্তরস ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে আসে। পিত্তলবণ (সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট ও সোডিয়াম টারোকোলেট) চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে ইমালসিফাই (সাবানীকরণ) করে, যা লাইপেজ এনজাইমের কাজের উপযোগী ক্ষেত্র তৈরি করে।
২. অম্লভাব প্রশমন ও ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি: পাকস্থলী থেকে আসা অম্লীয় কাইমকে পিত্তরসের ক্ষারীয় উপাদান ক্ষারীয় মাধ্যমে রূপান্তর করে। ফলে অগ্ন্যাশয় ও আন্ত্রিক রসের উৎসেচকগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে।
৩. শোষণ সহায়তা ও বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশন: পিত্তলবণ ফ্যাটি এসিড, গ্লিসারল এবং চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (A, D, E, K) শোষণে সহায়তা করে। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর পদার্থ নির্গমনে ভূমিকা রাখে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' অংশটি হলো পাকস্থলী (Stomach)। পাকস্থলীতে খাদ্যের যান্ত্রিক পরিপাক প্রক্রিয়া নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. খাদ্য ধারণ ও পেশির সংকোচন: মুখবিবর থেকে খাদ্যমণ্ড গ্রাসনালি অতিক্রম করে কার্ডিয়াক স্ফিংটার দিয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছায়। পাকস্থলীর প্রাচীর তিন স্তরের অনৈচ্ছিক পেশি (তির্যক, বৃত্তাকার এবং অনুদৈর্ঘ্য পেশিস্তর) দ্বারা গঠিত।
২. পেরিস্টালসিস ও মন্থন ক্রিয়া (Churning movement): পাকস্থলীর পুরু ও পেশিবহুল প্রাচীর পর্যায়ক্রমে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়, যাকে পেরিস্টালসিস বা মন্থন গতি বলে। এই তীব্র মন্থন গতির ফলে ভেতরে থাকা কঠিন খাদ্য পিষ্ট ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়।
৩. গ্যাস্ট্রিক জুসের সাথে মিশ্রণ: পেশল প্রাচীরের ক্রমাগত আলোড়নের ফলে পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত গ্যাস্ট্রিক জুস (যাতে HCl এবং এনজাইম থাকে) খাদ্যের সাথে গভীরভাবে মিশ্রিত হয়। এর ফলে খাদ্য দ্রবীভূত হয়ে ঘন লেই বা স্যুপের মতো মণ্ডে পরিণত হয়, যাকে কাইম (Chyme) বা পাকমণ্ড বলে।
৪. কাইম নির্গমন: কাইম তৈরি হওয়ার পর পাকস্থলীর শেষ প্রান্তের পাইলোরিক স্ফিংটার ক্ষণিকের জন্য খুলে গিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে অল্প অল্প করে খাদ্যমণ্ড ডিওডেনামে প্রবেশ করায়।
এভাবেই পাকস্থলীতে মূলত পেশীয় আলোড়ন ও পেরিস্টালসিসের মাধ্যমে খাদ্যবস্তুর সফল যান্ত্রিক পরিপাক সম্পন্ন হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও