বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মোহনার মা মোহনাকে নিয়ে সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. জলিলের চেম্বারে গেলে ডা. জলিল মোহনাকে জিজ্ঞাসা করে, "তোমার কপালে পোড়া দাগ কীসের?" মোহনার মা বললেন, স্যার আমি বলছি, গত বছর তিনেক থেকেই মেয়েটিকে আলগা এক রোগে পেয়েছে। প্রায় সে অজ্ঞান হয়ে যায়। তার শ্বাসকষ্ট হয়। দম আটকে যায়। হাতে পায়ে খিঁচুনি হতে থাকে অবিরত, বিড়বিড় করে কথা বলতে থাকে। তাই শীতলপুর গ্রামের এক পিরের কাছে মোহনাকে নিয়ে গিয়েছিলাম। তিনটে কালো মোরগ, দুইটি জালালি কবুতর, এক কেজি পোলাউয়ের চাল আর এক দানা মশুরের ডাল নিয়ে। পির বাবায় একটা সুই, পানি পড়া আর মুখের লালাপড়া দিলেন। বাড়িতে ফেরার পর মোহনা আবার অজ্ঞান হলে পির বাবার কথামতো আমরা মোহনার হাত ও পা বেঁধে সুইটা আগুনে পুড়িয়ে লাল করে ওর কপালে 'সুঁই পড়া দেই' এই দাগটা স্যার সুই দিয়ে পোড়ানোর।
- ক)(1)
আক্কাসের বাবার নাম কী?
- খ)(2)
'দলিল-দস্তাবেজ জাল হয়, কিন্তু খোদাতালার কালাম জাল হয় না।'-এ কথার তাৎপর্য কী?
- গ)(3)
'লালসালু' উপন্যাসের কোন কোন ঘটনার সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শীতলপুরের পির এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের লোক ঠকানোই পেশা -উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আক্কাসের বাবার নাম মোদাব্বের মিয়া।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা মজিদ গ্রামবাসীকে আল্লাহর বাণীর অলঙ্ঘনীয়তা ও অভ্রান্ততার দোহাই দিয়ে নিজের আধিপত্যকে প্রশ্নাতীত করতে চেয়েছে।
উপন্যাসে মজিদ গ্রামে প্রবেশ করেই একটি প্রাচীন কবরকে 'মোদাচ্ছের পিরের মাজার' বলে প্রচার করে। সে জমি ও বিষয়-সম্পত্তির দলিলের মতো পার্থিব বস্তুর সাথে তুলনা টেনে বলে যে মানুষের তৈরি দলিল জাল হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর কালাম বা বিধান চিরসত্য। এই কথার মাধ্যমে সে ধর্মভীরু গ্রামবাসীকে ভীতসশ্রদ্ধ করে তোলে এবং মাজার ও নিজের অলৌকিক কর্তৃত্বকে ধর্মীয় সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার এবং ভণ্ড পিরের অপচিকিৎসা ও শোষণের যে রূপ প্রকাশ পেয়েছে, তার সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের ভণ্ডামি ও তাহেরের বাপের ওপর প্রয়োগ করা কুসংস্কারমূলক চিকিৎসার সাদৃশ্য রয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, মজিদ ধর্মের নামে মহব্বতনগর গ্রামের সরল মানুষদের কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের জালে বন্দি করে রাখে। তাহের ও কাদেরের পিতা হাসুনির নানাকে শোধরানোর জন্য মজিদ মাজারের সাথে সংশ্লিষ্ট করে অলৌকিক ভীতি সৃষ্টি করে এবং তাকে দিয়ে অদ্ভুত ধরনের কাজ করায়। আবার অসুস্থতা ও পারিবারিক অশান্তিতে মজিদ পানি পড়া, দোয়া-তাবিজ ইত্যাদি দিয়ে গ্রামবাসীর মানসিকতাকে নিয়ন্ত্রণ করত এবং বিনিময়ে ধান-চাল ও অর্থ গ্রহণ করত।
উদ্দীপকে মোহনার মানসিক রোগকে জিন-ভূতের 'আলগা রোগ' ভেবে শীতলপুরের পিরের কাছে নেওয়া হয়। পির বাবা মুরগি, কবুতর, চাল ইত্যাদি হাদিয়া নিয়ে রোগমুক্তির নামে কপালে আগুনে পোড়া সুইয়ের দাগ দেয়, যা অপচিকিৎসা ও অন্ধবিশ্বাসের চরম রূপ। এই কুসংস্কারাচ্ছন্ন কর্মকাণ্ড ও পিরপ্রথার শোষণ 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের অপকৌশল ও ভণ্ডামির সাথেই ঘনিষ্ঠভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শীতলপুরের পির এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের লোক ঠকানোই পেশা—উক্তিটি যথার্থ ও সত্য।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ জীবিকার সন্ধানে ভাগ্যবিড়ম্বিত হয়ে মহব্বতনগর গ্রামে আসে। অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে সে একটি বেওয়ারিশ কবরকে মিথ্যা অলৌকিক শক্তির আবরণ দিয়ে 'মোদাচ্ছের পিরের মাজার' ঘোষণা করে। ধর্মভীরু, অশিক্ষিত গ্রামীণ মানুষকে পরকালের ভয় ও ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাসে আচ্ছন্ন করে সে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করে। তাহেরের বাপকে মানসিক নির্যাতন করা, আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ধূলিসাৎ করা, কিংবা জমিলার মতো কিশোরীকে ধর্মের নামে শিকলবন্দি করার পেছনে ছিল মজিদের কর্তৃত্ব ও লোক ঠকানোর অশুভ উদ্দেশ্য। ধর্মীয় আবরণকে ব্যবহার করে নিজের রুটি-রুজির স্থায়ী বন্দোবস্ত করাই ছিল মজিদের মূল লক্ষ্য।
উদ্দীপকের শীতলপুরের পিরও মোহনার জটিল মানসিক রোগ বা খিঁচুনিকে 'আলগা রোগ' আখ্যা দিয়ে মোরগ, কবুতর ও চাল হাতিয়ে নেয়। চিকিৎসা হিসেবে সে যে আগুনে পোড়া সুইয়ের ছ্যাঁকা ও থুতু বা লালাপড়া দেয়, তা কোনো চিকিৎসা নয় বরং চরম প্রতারণা ও অমানবিক লোক ঠকানো।
উভয় চরিত্রই মানুষের অজ্ঞতা, ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস ও নিরুপায় অবস্থাকে পুঁজি করে ভণ্ডামির ব্যবসা ফেঁদে বসেছে। দুজনের কারও মধ্যেই মানবিকতা বা সত্যের লেশমাত্র নেই; বরং সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে নিজের স্বার্থ হাসিল করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য ও পেশা। তাই বলা যায়, উভয়ের ক্ষেত্রেই উক্তিটি পুরোপুরি সত্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও