‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর গুরুত্ব অপরিসীম। এজন্যই পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের মতো বাংলাদেশেও কর্মচারী নিয়োগ এর জন্য সাংবিধানিকভাবে একটি প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করা হয়েছে।

  1. ক)

    কে অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়োগ দেন?

    (1)
  2. খ)

    মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যের শর্ত সম্পর্কে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে যে প্রতিষ্ঠানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তার ক্ষমতা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মেধাভিত্তিক প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ঐ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা পর্যালোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়োগ দেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (CAG) কার্যের প্রধান শর্ত হলো তিনি প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব এবং সকল আদালত, কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তার হিসাব নিরীক্ষা করবেন এবং সে সম্পর্কে রিপোর্ট প্রস্তুত করবেন। তিনি তাঁর দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের অধীন নন। সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক যে কারণ ও পদ্ধতিতে অপসারিত হন, সে কারণ ও পদ্ধতি ব্যতীত তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা যায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠানটি হলো 'বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন' (Bangladesh Public Service Commission - BPSC), যা একটি সাংবিধানিক সংস্থা। সংবিধানের ১৩৭ থেকে ১৪১ অনুচ্ছেদে এর গঠন ও ক্ষমতা বর্ণিত রয়েছে। BPSC-এর প্রধান ক্ষমতা ও কার্যাবলি নিম্নরূপ:

    ১. নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনা: প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী বাছাইয়ের জন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা (যেমন- বিসিএস) ও সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা।
    ২. নিয়োগ ও পদোন্নতিতে পরামর্শ প্রদান: প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের যোগ্যতা, শর্তাবলী এবং পদোন্নতি ও বদলির বিষয়ে সরকারকে সাংবিধানিক পরামর্শ দেওয়া।
    ৩. শৃঙ্খলাবিষয়ক বিষয়ে মতামত প্রদান: সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলামূলক বিষয় ও পেনশন সংক্রান্ত বিষয়ে মতামত প্রদান করা।
    ৪. বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ: প্রতি বছর কমিশন তার কাজের বিবরণ সংবলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি দক্ষ, দুর্নীতিমুক্ত ও মেধাভিত্তিক প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (BPSC) ভূমিকা অপরিসীম:

    ১. মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ: বিপিএসসি প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীর মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে নিয়োগের সুপারিশ করে। এতে আত্মীয়করণ বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ বন্ধ হয়।
    ২. স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষা: একটি সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিপিএসসি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে যোগ্যতম প্রার্থীদের বাছাই করতে পারে।
    ৩. উপযুক্ত কর্মপরিবেশ ও নীতি নির্ধারণ: সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগ বিধিমালা, পদোন্নতির নীতিমালা এবং জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে সরকারকে বস্তুনিষ্ঠ পরামর্শ দিয়ে যোগ্য কর্মকর্তাদের যথাযোগ্য পদ নিশ্চিত করে।
    ৪. আধুনিকায়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি: রাষ্ট্র পরিচালনায় আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুগোপযোগী পাঠ্যসূচি প্রণয়ন ও আধুনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের মেধা শনাক্ত করে প্রশাসনে অন্তর্ভুক্ত করে।

    সুতরাং, সৎ, যোগ্য ও মেধাভিত্তিক জনবল নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিপিএসসি আধুনিক ও জবাবদিহিতামূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন