বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
শহীদ ক্যাপ্টেন বাশার চট্টগ্রাম সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুহলে ক্যাপ্টেন বাশার সেনানিবাস পরিত্যাগ করে হালিশহরে অবস্থান নেন এবংপাকিস্তান আর্মির বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পাকিস্তানি বাহিনীএদেশীয় দালাল মারফত তাঁর অবস্থান শনাক্ত করলে তিনি ধৃত হন। তাঁকেক্যাম্পে বন্দি করে রাখা হয় এবং অমানুষিক নির্যাতন করে তথ্য আদায়ে ব্যর্থহয়ে গুলি করে হত্যা করে। এ রকম নির্যাতনেও দমে যায়নি মুক্তিপাগল বাংলারমানুষ। মুক্তিকামী জনতার সম্মিলিত সংগ্রামের ফলে এদেশ স্বাধীন হয়েছে।
- ক)(1)
কোম্পানির ঘুষখোর ডাক্তার কে?
- খ)(2)
“বৃটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা”-সংলাপটি বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের এদেশীয় দালাল ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন কোনচরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের জনতার সম্মিলিত সংগ্রামে এদেশ স্বাধীন হলেও‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে প্রতিরোধ না করে লোকজন মুর্শিদাবাদ ছেড়েপালিয়েছে।”- উক্তিটির সত্যাসত্য যাচাই কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোম্পানির ঘুষখোর ডাক্তার হলো ফোরথ (Dr. Forth)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি করেছিলেন ফরাসি সেনাপতি সাঁফ্রে। নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর এবং ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার ক্ষেত্রে ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ বাহিনীর আপাত পশ্চাদপসরণ বা দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থান দেখে ব্যঙ্গ করে সাঁফ্রে এ কথা বলেছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে পরাক্রমশালী ব্রিটিশরা যখন নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছিল, তখন তাদের কথিত শৌর্যবীর্যকে কটাক্ষ করে সাঁফ্রে রূপক অর্থে ‘বৃটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন’ মন্তব্যটি করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের এদেশীয় দালাল চরিত্রটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মীরজাফর, উমিচাঁদ, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ প্রমুখ বিশ্বাসঘাতক দেশীয় চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদারেরা এদেশীয় দালালদের সাহায্যে ক্যাপ্টেন বাশারের গোপন অবস্থান শনাক্ত করে এবং তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই দালালরা ছিল নিজ দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বিশ্বাসঘাতক।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকেও দেখা যায়, বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা না করে এদেশেরই প্রধান সেনাপতি মীরজাফর এবং অর্থলোভী জগৎশেঠ, উমিচাঁদ ও রাজবল্লভরা ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়ে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা নিজের দেশের নবাবের বিরুদ্ধে বিদেশি আগ্রাসী ইংরেজ বাহিনীকে সবরকম তথ্য ও সহায়তা দিয়ে পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয় নিশ্চিত করে। সুতরাং, উদ্দীপকের এদেশীয় দালালদের ভূমিকা ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মীরজাফর-জগৎশেঠদের বিশ্বাসঘাতক ভূমিকার সাথেই সম্পূর্ণভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের একটি বাস্তব সত্যকে তুলে ধরে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞের মুখেও বাঙালি জাতি দমে যায়নি। বরং মুক্তিকামী সাধারণ জনতার সম্মিলিত সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে। এখানে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গণপ্রতিরোধের চিত্র ফুটে উঠেছে।
পক্ষান্তরে, সিকান্দার আবু জাফর রচিত ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে দেখা যায়, পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের পর বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে চরম রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটে। ক্লাইভের বাহিনী যখন অল্পসংখ্যক সৈন্য নিয়ে মুর্শিদাবাদে প্রবেশ করে, তখন সেখানকার বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ কোনো সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি। তারা কেবল দূর থেকে নীরব দর্শকের মতো দৃশ্য অবলোকন করেছে অথবা নিজেদের প্রাণ ও সম্পদ বাঁচাতে মুর্শিদাবাদ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। স্বয়ং রবার্ট ক্লাইভও পরে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, সাধারণ মানুষ যদি কেবল ঢিল বা লাঠি নিয়েও দাঁড়াত, তবে ইংরেজদের পক্ষে সেখানে টিকে থাকা অসম্ভব হতো। কিন্তু সামগ্রিক রাজনৈতিক অসচেতনতা এবং ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বের অভাবে জনগণ প্রতিরোধ না করে শহর ছেড়ে পালিয়েছিল।
অতএব, উদ্দীপকের ঐক্যবদ্ধ জনযুদ্ধের বিপরীতে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে মুর্শিদাবাদের জনসাধারণের প্রতিরোধহীনতা ও পলায়নপরতার যে পার্থক্য দৃশ্যমান হয়, তার আলোকে উক্তিটি সম্পূর্ণ সত্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও