বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৬
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
আনিকা তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ছোটবেলায় সে ভাষা আন্দোলনের কথা বইয়ে পড়েছে। খুব ছোটবেলায় সে তার বাবার সঙ্গে শহিদ মিনারে ফুল দিতে যায়। শহিদ মিনারে ফুল দেওয়ার দৃশ্যও সে খুব মজা করে দেখে। কিন্তু হঠাৎ তার বাবার দিকে ফিরে দেখে বাবার চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় পানি ঝরছে। তখন সে বোঝেনি বাবা কেন কাঁদছে। বড় হয়ে জানতে পারে তার দাদা বাংলা ভাষার মিছিলে আত্মাহুতি দিয়েছে।
- ক)(1)
গল্পকথক শেষবারের মতো তপুকে কোথায় দেখেছিলেন?
- খ)(2)
“তপু না মরে আমি মরলেই ভালো হতো।”—রাহাত এ কথা কেন বলেছিলো? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আনিকার বাবার সঙ্গে ‘একুশের গল্প’-এর কোন চরিত্রের সঙ্গে মিল আছে? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের আনিকার দাদার আত্মাহুতি ‘একুশের গল্প’ এর তপুর জীবনদান একই চেতনায় উৎসারিত।”—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো。
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- খ)
তপুর মতো সাহসী, দেশপ্রেমিক ও মেধাবী তরুণের মৃত্যু রাহাতের কাছে ছিল অপূরণীয় ক্ষতি। ভাষার দাবিতে তপু প্রাণ দিয়েছে, অথচ রাহাত বেঁচে আছে—এই বেদনা ও আত্মগ্লানি থেকেই সে কথাটি বলেছিল। রাহাতের মনে হয়েছিল, তপুর বেঁচে থাকা দেশ ও মানুষের জন্য বেশি দরকার ছিল। তাই গভীর শোক ও ভালোবাসা থেকে সে নিজের মৃত্যু কামনা করেছিল।
- গ)
উদ্দীপকের আনিকার বাবার সঙ্গে ‘একুশের গল্প’ গল্পের শহিদের স্বজন ও সহযোদ্ধা চরিত্র, বিশেষ করে রাহাতের মিল রয়েছে। আনিকার বাবা শহিদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে নিজের পিতার আত্মত্যাগের কথা ভেবে অঝোরে কাঁদেন। তেমনি রাহাত প্রিয় বন্ধু তপুর আত্মত্যাগের স্মৃতিতে শোকাভিভূত হয়ে পড়ে। দুজনের কান্নাতেই ভাষা-শহিদদের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে আনিকার দাদা বাংলা ভাষার মিছিলে আত্মাহুতি দিয়েছেন, আর ‘একুশের গল্প’-এ তপুও ভাষার দাবিতে প্রাণ দিয়েছে।
১. মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা: দুজনই মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
২. নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ: ব্যক্তিস্বার্থ নয়, জাতির অধিকার আদায়ই ছিল তাঁদের লক্ষ্য।
৩. স্বজনদের শোক ও শ্রদ্ধা: আনিকার বাবার অশ্রু ও রাহাতের বেদনায় বোঝা যায়, এই আত্মদান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্মরণীয়।সুতরাং, আনিকার দাদার আত্মাহুতি ও তপুর জীবনদান একই ভাষাপ্রেম ও আত্মত্যাগের চেতনা থেকে উৎসারিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও