গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৭
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন
দশম শ্রেণির ছাত্রী ঐশী। সে মোটা হওয়ার ভয়ে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করে না। ভাত, রুটি, আলু প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম খায়। এমনকি সে দুধও পছন্দ করে না। সে প্রায়ই অসুস্থ থাকে এবং স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। পড়াশোনায় ঠিকমতো মনোযোগ দিতে পারে না। সামান্য পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ডাক্তার তাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন।
- ক)(1)
স্টার্চ কী?
- খ)(2)
ডিহাইড্রেশন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
ঐশীর অসুস্থ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ঐশীর অবস্থার উত্তরণে কার্যকরী খাদ্য উপাদানই একমাত্র সহায়ক। ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
স্টার্চ বা শ্বেতসার হলো গ্লুকোজের বহু অণু যুক্ত হয়ে গঠিত জটিল শর্করা (পলিস্যাকারাইড), যা ভাত, রুটি, আলু ও গমে প্রচুর পাওয়া যায়।
- খ)
দেহ থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বেরিয়ে গিয়ে দেহে পানির ঘাটতি দেখা দেওয়াকে ডিহাইড্রেশন (পানিশূন্যতা) বলে।
ডায়রিয়া, বমি, অতিরিক্ত ঘাম বা জ্বরের কারণে এমন হতে পারে। এতে মুখ ও জিহ্বা শুকিয়ে যায়, প্রস্রাব কমে যায়, দেহ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চামড়া কুঁচকে যায়। দ্রুত খাবার স্যালাইন বা পানি খাওয়ালে এটি প্রতিরোধ করা যায়।
- গ)
ঐশী মোটা হওয়ার ভয়ে ভাত, রুটি, আলু (শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট) প্রয়োজনের তুলনায় কম খায় এবং দুধ পছন্দ করে না। এ কারণে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
১. শর্করার অভাব: শর্করা দেহের প্রধান শক্তির উৎস। এটি কম খাওয়ায় ঐশী শক্তি পায় না, তাই সামান্য পরিশ্রমে ক্লান্ত হয় এবং পড়ায় মনোযোগ দিতে পারে না (মস্তিষ্কের প্রধান জ্বালানি গ্লুকোজ)।
২. আমিষের ব্যবহার: শর্করা কম পেলে দেহ শক্তির জন্য আমিষ পুড়িয়ে ফেলে, ফলে দেহগঠন ও ক্ষয়পূরণ ব্যাহত হয়।
৩. দুধ না খাওয়া: দুধ থেকে আমিষ, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন পাওয়া যায়। এটি বাদ দেওয়ায় দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।এসব কারণেই ঐশী প্রায়ই অসুস্থ থাকে ও স্কুলে অনুপস্থিত হয়।
- ঘ)
উদ্দীপকে ডাক্তার ঐশীকে পর্যাপ্ত শর্করা (কার্বোহাইড্রেট) খেতে পরামর্শ দিয়েছেন। ঐশীর অবস্থার উন্নতিতে শর্করা জাতীয় খাদ্য উপাদানই সবচেয়ে কার্যকরী ও প্রধান সহায়ক, যা নিচের বিশ্লেষণে বোঝা যায়।
১. শক্তির জোগান: ১ গ্রাম শর্করা থেকে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি তাপশক্তি পাওয়া যায়। ভাত, রুটি, আলু খেলে ঐশীর ক্লান্তি কমে এবং সে কাজে শক্তি পাবে।
২. মস্তিষ্কের কাজ: মস্তিষ্ক প্রধানত গ্লুকোজ থেকে শক্তি পায়। তাই পর্যাপ্ত শর্করা পেলে ঐশী পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারবে।
৩. আমিষ সাশ্রয়: শর্করা শক্তির চাহিদা মেটালে আমিষ দেহগঠন ও ক্ষয়পূরণের কাজে ব্যবহৃত হয়, ফলে দেহ সুস্থ থাকে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
৪. হজম সহায়তা: আঁশযুক্ত শর্করা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।সুতরাং, ঐশীর উত্তরণে শর্করাই মূল সহায়ক। তবে সে যেন মোটা হওয়ার ভুল ভয় ছেড়ে পরিমিত পরিমাণে দুধসহ অন্যান্য খাবারও খায়, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও