হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

প্রীতির মায়ের ডায়াবেটিস। প্রীতি যাতে এ রোগে আক্রান্ত না হয় সেজন্য সে নিয়মিত একটি আসন অনুশীলন করে। যে আসনটি দেখতে লাঙ্গলের মতো দেখায়। প্রীতির প্রতিবেশী স্মৃতির হাত-পা কাঁপে, হাঁটতে অসুবিধা হয়। প্রীতির পরামর্শে সেও অন্য একটি আসন অনুশীলন করে। যা দেখতে বৃক্ষের মতো দেখায়। অনুশীলনের ফলে স্মৃতি এখন পায়ে জোর পায় এবং চলাফেরায় ক্ষমতা বেড়েছে।

  1. ক)

    হিন্দুধর্মশাস্ত্রে 'যোগ' মানে কী?

    (1)
  2. খ)

    অপরিগ্রহ' ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    প্রীতির অনুশীলনকৃত আসনটির অনুশীলন পদ্ধতি তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত স্মৃতির আসনটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    হিন্দুধর্মশাস্ত্রে 'যোগ' মানে মিলন, অর্থাৎ সংযমপূর্বক সাধনার মাধ্যমে আত্মাকে পরমাত্মার সাথে যুক্ত করে সমাধি লাভ।

  2. খ)

    অপরিগ্রহ অষ্টাঙ্গ যোগের প্রথম ধাপ যমের একটি অঙ্গ। অপরিগ্রহ মানে গ্রহণ না করা। অপ্রয়োজনীয় বস্তু যেমন গ্রহণ করা যাবে না, তেমনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত বস্তুও নয়। বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম ধন, বস্ত্র প্রভৃতি গ্রহণ করে গৃহে সন্তুষ্ট থেকে ঈশ্বর আরাধনা করাই অপরিগ্রহ।

  3. গ)

    প্রীতির নিয়মিত অনুশীলনকৃত আসনটি, যা দেখতে লাঙ্গলের মতো, তা হলাসন।

    হলাসনের ধারণা: 'হল' শব্দের অর্থ লাঙ্গল। এই আসনে দেহভঙ্গি অনেকটা লাঙ্গলের মতো দেখায় বলে একে হলাসন বলে।

    অনুশীলন পদ্ধতি:
    ১. প্রথমে পা দুটো সোজা করে চিৎ হয়ে শুতে হবে। উরু, হাঁটু ও পায়ের পাতা জোড়া থাকবে। হাত দুটো সোজা করে শরীরের দুই পাশে রাখতে হবে।
    ২. এবার নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে জোড়া ও সোজা অবস্থায় পা দুটো ধীরে ধীরে ওপরে তুলতে হবে।
    ৩. পা দুটো মাথার পেছনে যতদূর সম্ভব দূরে নিতে হবে, যাতে পায়ের আঙুলগুলো মাটি স্পর্শ করে।
    ৪. শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে।
    ৫. এরপর আস্তে আস্তে পা নামিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে হবে এবং শবাসনে ৩০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিতে হবে।
    ৬. এভাবে আসনটি তিনবার অনুশীলন করতে হবে।

    সতর্কতা: যাদের আমাশয়, হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপ আছে এবং প্লীহা বা যকৃৎ অস্বাভাবিক বড়, তাদের এই আসন করা উচিত নয়। উদ্দীপকে প্রীতি ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য এটি করে, যা হলাসনের একটি উপকারিতা।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে স্মৃতির হাত-পা কাঁপে এবং হাঁটতে অসুবিধা হয়। প্রীতির পরামর্শে সে যে আসনটি অনুশীলন করে, যা দেখতে বৃক্ষের মতো, তা বৃক্ষাসন। এ আসনের প্রভাব বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় কেন স্মৃতি উপকার পেয়েছে।

    আসন হলো দেহ-মনকে সুস্থ ও স্থির রাখার জন্য নির্দিষ্ট দেহভঙ্গি। এটি শরীরে দৃঢ়তা আনে এবং শরীরকে নীরোগ ও লঘুভার করে। বৃক্ষাসন বিশেষভাবে পা ও ভারসাম্যের জন্য উপকারী।

    ১. পায়ের জোর ও চলাফেরার ক্ষমতা: বৃক্ষাসনে পায়ের পেশির দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়ে। পায়ে জোর পাওয়া যায় এবং চলাফেরা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপকে স্মৃতি এখন পায়ে জোর পায় এবং তার চলাফেরার ক্ষমতা বেড়েছে।

    ২. হাত-পা কাঁপা দূর করে: পাঠ্যবই অনুযায়ী যাঁদের হাত-পা কাঁপে এবং পা দুর্বল, তাঁদের এ আসনে খুব উপকার হয়। এতে স্মৃতির মূল সমস্যাটি দূর হয়েছে।

    ৩. ভারসাম্য ও স্নায়ুতন্ত্র: শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ে। হাঁটু, কনুই ও বগলের স্নায়ুতন্ত্রে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং গ্রন্থিগুলো সবল ও নমনীয় হয়।

    ৪. বাত ও ধমনীর সমস্যা প্রতিরোধ: এ আসনে পায়ে বাত হয় না এবং ধমনীতে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমা রোধ হয়। এছাড়া কোমর ও মেরুদণ্ডের শক্তি বাড়ে।

    সুতরাং, বৃক্ষাসন স্মৃতির পায়ের দুর্বলতা ও কাঁপুনি দূর করে তাকে সবল ও চলাফেরায় সক্ষম করে তুলেছে। তাই নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এই আসন সুস্থ জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন