পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'X' রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই রাষ্ট্রটি সরকার একটি অঞ্চলের জনগণের ওপর শোষণ নির্যাতন চলছে। এরকম পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য জনপ্রিয় নেতা সরকারের নিকট কিছু দাবি পেশ করেন।
- ক)(1)
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক কী ছিল?
- খ)(2)
ভাষা আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন কর্মসূচির সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত কর্মসূচি ছিল বাঙালের মুক্তির সনদ -বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাতৃভাষা বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় যে রক্তক্ষয়ী গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তাকে ভাষা আন্দোলন বলে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি' (১৯৬৬)-র সাদৃশ্য রয়েছে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ওপর চরম রাজনৈতিক আধিপত্য, অর্থনৈতিক শোষণ ও বঞ্চনা চালিয়ে আসছিল। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর পূর্ব বাংলার চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৬৬ সালে লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বায়ত্তশাসন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' রাষ্ট্রের নিপীড়ন ও বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে জনপ্রিয় নেতা কর্তৃক পেশকৃত দাবির সাথে ছয় দফা আন্দোলনের পটভূমি ও উদ্দেশ্যের প্রত্যক্ষ মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত কর্মসূচি অর্থাৎ ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি যথার্থ অর্থেই ছিল 'বাঙালির মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনা কার্টা'। ছয় দফা কর্মসূচির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু পূর্ববাংলার মানুষের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক স্বাধিকারের একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা পেশ করেন। প্রথম দফায় লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়। তৃতীয় দফায় দুই অঞ্চলের জন্য পৃথক মুদ্রা ব্যবস্থা অথবা সহজ বিনিময় ব্যবস্থার কথা বলা হয়, যা পূর্ববাংলার সম্পদ পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হওয়া রোধ করার নিশ্চয়তা দেয়। চতুর্থ ও পঞ্চম দফায় রাজস্ব আদায় ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষমতা প্রদেশকে দেওয়ার দাবি জানানো হয় এবং ষষ্ঠ দফায় পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য প্যারা-মিলিটারি বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়। এই দাবিগুলো পূরণ হলে পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের অবসান ঘটত। ছয় দফা বাঙালি জাতির মধ্যে স্বাধিকার ও স্বাধীনতার বীজ গভীরভাবে প্রোথিত করে, যার ফলশ্রুতিতে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। তাই ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও