ভূগোল ১ম পত্র • জলবায়ুর উপাদান ও নিয়ামক • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মেঘ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    আপেক্ষিক আর্দ্রতা কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক' বায়ুপ্রবাহটির বিবরণ দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'খ' অঞ্চলে বায়ুটি প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বায়ুমণ্ডলে ভাসমান অতি ক্ষুদ্র জলকণা ও বরফকণার সমষ্টিকে মেঘ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প উপস্থিত থাকে এবং ওই উষ্ণতায় বায়ুটিকে সম্পৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্পের প্রয়োজন হয়, এ দুইয়ের অনুপাতকে শতকরায় প্রকাশ করলে তাকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে।

    আপেক্ষিক আর্দ্রতা মূলত বায়ুর জলীয় বাষ্প ধারণক্ষমতা এবং তাতে উপস্থিত প্রকৃত জলীয় বাষ্পের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা বাড়লে বায়ুর জলীয় বাষ্প ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ফলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কমে যায়। বিপরীতভাবে, তাপমাত্রা কমলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেড়ে যায়। এটি সর্বদা শতকরা (%) হারে প্রকাশ করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রে 'ক' চিহ্নিত বায়ুপ্রবাহটি হলো উত্তর গোলার্ধের অয়ন বায়ু বা উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু।

    কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় (প্রায় ২৫°-৩৫° উত্তর অক্ষাংশ) থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের (০°-৫° অক্ষাংশ) দিকে সারাবছর নিয়মিতভাবে প্রবাহিত বায়ুকে উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু বলে। ফেরেলের সূত্র অনুসারে, পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে উত্তর গোলার্ধে বায়ু সরাসরি উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত না হয়ে ডান দিকে বেঁকে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়। এজন্য একে উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু বলা হয়। এ বায়ুর গতিবেগ সাধারণত ঘণ্টায় প্রায় ১৬ থেকে ২২ কিলোমিটার হয়ে থাকে। প্রাচীনকালে পালতোলা বাণিজ্য জাহাজগুলো এই বায়ুর অনুকূলে চলাচল করত বলে একে 'বাণিজ্য বায়ু' বা 'Trade Wind' বলা হয়। জলভাগের ওপর দিয়ে আসার সময় এ বায়ু প্রচুর জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে মহাদেশের পূর্ব উপকূলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, তবে মহাদেশের পশ্চিম অংশে পৌঁছাতে পৌঁছাতে এটি শুষ্ক হয়ে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'খ' দ্বারা দক্ষিণ গোলার্ধের ৪০° থেকে ৪৭° (বা ৪০°-৬০°) দক্ষিণ অক্ষাংশের পশ্চিমা বায়ু অঞ্চলকে নির্দেশ করা হয়েছে। এ অঞ্চলে পশ্চিমা বায়ু অত্যন্ত প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ার কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. জলভাগের প্রাধান্য: উত্তর গোলার্ধে বিস্তীর্ণ স্থলভাগ বিদ্যমান থাকলেও দক্ষিণ গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ খুবই কম এবং প্রায় সম্পূর্ণ অংশই উন্মুক্ত মহাসাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত। স্থলভাগের অভাবে কোনো রূপ ভূ-প্রাকৃতিক বাধা (যেমন- পর্বতমালা বা বনভূমি) সৃষ্টি হয় না, ফলে ঘর্ষণজনিত বাধা থাকে না বললেই চলে। এর ফলে বায়ু অবাধে ও তীব্র বেগে প্রবাহিত হতে পারে।

    ২. তীব্র বায়ুচাপ ঢাল (Pressure Gradient): ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে উপমেরুদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সৃষ্ট চাপের ঢাল বা নতিমাত্রা দক্ষিণ গোলার্ধে অত্যন্ত তীব্র। এ উচ্চ চাপপার্থক্যের কারণে বায়ুর প্রবাহের গতি প্রবল হয়।

    ৩. পৃথিবীর আবর্তন গতি ও কোরিওলিস বল: পৃথিবীর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অবিরাম ঘূর্ণনের ফলে সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে এ বায়ু দক্ষিণ গোলার্ধে বামে বেঁকে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অত্যন্ত দ্রুত ও তীব্র বেগে ধাবিত হয়।

    এসব কারণে দক্ষিণ গোলার্ধের ৪০° থেকে ৪৭° অক্ষাংশে পশ্চিমা বায়ু সারা বছর গর্জন করে প্রচণ্ড বেগে প্রবাহিত হয়। এ কারণে নাবিকরা এই অঞ্চলটিকে 'গর্জনশীল চল্লিশা' (Roaring Forties) নামে অভিহিত করেছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন