হিন্দু ধর্ম • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
শিক্ষক বিমল বাবু দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হিন্দুধর্ম ক্লাসে ধর্ম ও অধর্ম সম্পর্কে আলোচনা করেন। সেখানে মনুসংহিতায় বর্ণিত ধর্মের লক্ষণসমূহের দ্বারা ধর্ম ও অধর্মের পার্থক্য ভালোভাবে বুঝিয়ে শ্রেণিপাঠ সমাপ্ত করেন। অপরদিকে, রহিত ছিল ন্যায়পরায়ণ। সে পিতাকে খুবই ভালোবাসতো। পিতার সকল আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করত। অন্যের সুখের জন্য নিজের প্রাণপ্রিয় কোনো কিছুকে ত্যাগ করতে দ্বিধাবোধ করতো না।
- ক)(1)
ঋষি আরুণির পুত্রের নাম কী?
- খ)(2)
উপনিষদকে রহস্যবিদ্যা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
শিক্ষক বিমল বাবু হিন্দুধর্ম ক্লাসে ধর্ম ও অর্ধমের পার্থক্য যে লক্ষণসমূহের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রহিত পিতার আদেশ পালনের জন্য পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত মূল্যবোধ ও নৈতিকতা গঠনের যে কাহিনি বর্ণিত আছে তার শিক্ষা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ঋষি আরুণির পুত্রের নাম শ্বেতকেতু।
- খ)
উপনিষদ অতিশয় গভীর ও দুর্জ্ঞেয় ব্রহ্মবিদ্যার শাস্ত্র। এই ব্রহ্মবিদ্যাকে সাধারণ বিদ্যার মতো যত্রতত্র সবার কাছে প্রকাশ করা হতো না। যাঁরা শ্রদ্ধাযুক্ত চিত্তে ব্রহ্মনিষ্ঠ ধর্মশাস্ত্রের বাণী শ্রবণ করতে ব্রতী হতেন, একমাত্র তাঁরাই বেদান্ততত্ত্ব অন্তরে উপলব্ধি করতে পারতেন। এই গোপনীয়তা ও দুর্বোধ্যতার কারণে উপনিষদের আরেক নাম রহস্য এবং উপনিষদ ও রহস্য শব্দ দুটি সমার্থক হয়ে গেছে।
- গ)
শিক্ষক বিমল বাবু ধর্ম ও অধর্মের পার্থক্য বোঝাতে মনুসংহিতায় বর্ণিত ধর্মের দশটি বাহ্য লক্ষণ ব্যবহার করেছেন।
লক্ষণসমূহ: মনুসংহিতায় বলা হয়েছে—'ধৃতিঃ ক্ষমা দমোঽস্তেয়ং শৌচমিন্দ্রিয়নিগ্রহঃ। ধীর্বিদ্যা সত্যমক্রোধো দশকং ধর্মলক্ষণম্॥' এই দশটি লক্ষণ হলো—
১. ধৃতি: সহিষ্ণুতা বা ধৈর্য।
২. ক্ষমা: অপরাধীকে ক্ষমা করার মনোভাব।
৩. দম: দয়া বা সংযম।
৪. অস্তেয়: চুরি না করা।
৫. শৌচ: শুচিতা বা পবিত্রতা।
৬. ইন্দ্রিয়-নিগ্রহ: ইন্দ্রিয় সংযম।
৭. ধী: শুদ্ধ বুদ্ধি।
৮. বিদ্যা: জ্ঞান।
৯. সত্য: সত্যনিষ্ঠা।
১০. অক্রোধ: ক্রোধহীনতা।ধর্ম ও অধর্মের পার্থক্য: এই দশটি লক্ষণ যাঁর জীবনে প্রকাশ পায়, তিনি ধর্মের পথে আছেন। যা ধর্মের বিপরীত, তা-ই অধর্ম। যেমন চুরি না করা ধর্ম, সুতরাং চুরি করা অধর্ম। অধর্ম নৈতিকতা-বিরোধী, আর ধর্ম নৈতিক শিক্ষার সহায়ক। এছাড়া মনুসংহিতার অপর শ্লোকে বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের বাণী—এই চারটিকে ধর্মের বিশেষ লক্ষণ বলা হয়েছে।
বিমল বাবু এসব লক্ষণ উদাহরণসহ বুঝিয়ে শিক্ষার্থীদের ধর্ম ও অধর্মের পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন।
- ঘ)
উদ্দীপকের রহিত পিতার আদেশ পালনের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করে, তার সঙ্গে রামায়ণে বর্ণিত রামচন্দ্রের পিতৃসত্য পালনের কাহিনি মিলে যায়। এ কাহিনির শিক্ষা মূল্যবোধ ও নৈতিকতা গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কাহিনি: আদি কবি বাল্মীকি রচিত রামায়ণে আছে—রাজা দশরথ কৈকেয়ীর কাছে সত্যবদ্ধ ছিলেন। কৈকেয়ীর চক্রান্তে রাজা দশরথের সত্য রক্ষার জন্য রাম রাজত্ব ত্যাগ করে চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসে যান। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী সীতা ও ভাই লক্ষ্মণও বনে যান।
১. পিতার প্রতি পুত্রের কর্তব্য: রাম পিতার আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। তিনি রাজসুখ ছেড়ে কষ্টকর বনবাস বেছে নিয়েছেন। রামায়ণ আমাদের শেখায় যে পিতার প্রতি পুত্রের কর্তব্য ও আনুগত্য অপরিসীম। রহিতও পিতার সকল আদেশ পালন করে এ আদর্শই অনুসরণ করে।
২. সত্যনিষ্ঠা ও ত্যাগ: পিতার সত্য রক্ষার জন্য রাম নিজের অধিকার ত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত সুখের চেয়ে সত্য ও কর্তব্যকে বড় করে দেখা নৈতিকতার মূল কথা। উদ্দীপকের রহিত অন্যের সুখের জন্য নিজের প্রাণপ্রিয় জিনিস ত্যাগ করতে দ্বিধা করে না—এটি একই ধরনের ত্যাগের মানসিকতা।
৩. ভ্রাতৃপ্রেম ও পতিপ্রেম: রামের সঙ্গে সীতা ও লক্ষ্মণের বনবাস গমন পতিপ্রেমের পরাকাষ্ঠা এবং ভ্রাতৃপ্রেমের জ্বলন্ত উদাহরণ। এতে পারিবারিক বন্ধন ও পারস্পরিক ভালোবাসার শিক্ষা পাওয়া যায়।
৪. ন্যায়পরায়ণতা: রামায়ণে আছে আদর্শ রাজার কথা, ধর্মের জয় ও অধর্মের পরাজয়ের কথা এবং দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের কথা। ন্যায়পরায়ণ রহিতও এই আদর্শের অনুসারী।অতএব, রামায়ণের এই কাহিনি পিতৃভক্তি, সত্যনিষ্ঠা, ত্যাগ ও ন্যায়পরায়ণতা শেখায়। রহিতের মতো এসব গুণ অর্জন করলে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও