হিন্দু ধর্ম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
মিলন বাবুর শিরদাঁড়া ও বৃক্কের সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তাই তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট ব্যায়াম করছেন। অপরদিকে প্রলয় বাবু দীর্ঘদিন ধরে পরিপাকজনিত জটিলতা ও লিভারের সমস্যায় ভুগছেন এবং আরোগ্যলাভের উদ্দেশ্যে বিশেষ একটি শরীর চর্চা করছেন।
- ক)(1)
যোগসাধনা কাকে বলে?
- খ)(2)
ধ্যানের উত্যুঙ্গ শিখরে উঠে সাধক কী লাভ করেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মিলন বাবুকে চিকিৎসকের দেওয়া নির্দিষ্ট ব্যায়ামটির ধারণা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
প্রলয় বাবুর আরোগ্যলাভের উদ্দেশ্যে অনুশীলনকৃত শরীর চর্চার প্রভাব পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সংযোগ ঘটানোর প্রচেষ্টা, অর্থাৎ যোগের মাধ্যমে ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের আরাধনার প্রক্রিয়াকে যোগসাধনা বলে।
- খ)
ধ্যানের অত্যুচ্চ শিখরে উঠে সাধক সমাধি লাভ করেন।
সমাধি অর্থ সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে চিত্তসমর্পণ। তখন পরমাত্মার মধ্যে জীবাত্মার নিবেশ ঘটে এবং সাধকের অন্বেষণের শেষ হয়। সাধক মনশূন্য, বুদ্ধিশূন্য ও অহংশূন্য অবস্থা প্রাপ্ত হন। তাঁর 'আমি' বা 'আমার' জ্ঞান থাকে না, ফলে তিনি প্রকৃত যোগ লাভ করেন। - গ)
মিলন বাবুর সমস্যা হলো শিরদাঁড়া ও বৃক্কের (কিডনি) রোগ এবং শরীরের ভারসাম্যহীনতা। এসব সমস্যায় উপকারী আসনটি হলো গরুড়াসন, যা তিনি অনুশীলন করছেন।
আসন অর্থ স্থির হয়ে সুখে অধিষ্ঠিত থাকা। দেহমনকে সুস্থ ও স্থির রাখার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেহভঙ্গিকে আসন বলে। যে আসনে দেহভঙ্গি গরুড় পাখির মতো হয়, তাকে গরুড়াসন বলে।
পদ্ধতি: দুই পা জোড়া করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। ডান হাত কনুইয়ের কাছে ভেঙে বাঁ কনুইয়ের নিচ দিয়ে নিয়ে ডান হাতের তালু বাঁ হাতের তালুতে নমস্কারের ভঙ্গিতে রাখতে হবে। এরপর বাঁ পা মাটিতে রেখে ডান পা দিয়ে বাঁ পা পেঁচিয়ে ধরতে হবে। স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিয়ে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। হাত-পা বদল করে আসনটি চারবার অভ্যাস করে শেষে শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে।
মিলন বাবুর শিরদাঁড়া, কিডনি ও ভারসাম্যের সমস্যা এ আসনের উপকারিতার সাথে মিলে যায়। তাই চিকিৎসক তাঁকে এটি অনুশীলনের পরামর্শ দিয়েছেন।
- ঘ)
প্রলয় বাবুর পরিপাকজনিত জটিলতা ও লিভারের (যকৃৎ) সমস্যা রয়েছে। এ রোগে উপকারী আসন অর্ধকূর্মাসন, যা তিনি অনুশীলন করছেন। নিয়মিত অনুশীলনে এর প্রভাব বহুমুখী।
'কূর্ম' অর্থ কচ্ছপ। এ আসনে দেহ কচ্ছপের পিঠের মতো দেখায় বলে একে অর্ধকূর্মাসন বলে। হাঁটু গেড়ে বসে দুই হাত মাথার ওপর জোড় করে তুলে নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে প্রণামের ভঙ্গিতে কপাল মাটিতে ঠেকাতে হয়।
১. পরিপাকতন্ত্রে প্রভাব: আসনটি পেটের অভ্যন্তরীণ অংশগুলোকে সবল ও সক্রিয় করে। ফলে অজীর্ণ, অম্ল, ক্ষুধামন্দ্য, কোষ্ঠকাঠিন্য ও আমাশয় দূর হয় এবং হজমশক্তি বাড়ে। প্রলয় বাবুর পরিপাকজনিত জটিলতা তাই কমবে।
২. যকৃতের সুস্থতা: আসনটি যকৃৎ ভালো রাখে। প্রলয় বাবুর লিভারের সমস্যায় এটি সরাসরি উপকারী।
৩. অন্যান্য শারীরিক উপকার: শরীর শিথিল হয়, মেরুদণ্ড সতেজ হয়, কাঁধ ও পায়ের পেশির ব্যথা সারে, পেট ও নিতম্বের চর্বি কমে এবং হাঁপানি ও ডায়াবেটিসে উপকার হয়। দেহে প্রাণশক্তি ও সুস্বাস্থ্য বৃদ্ধি পায়।
৪. মানসিক প্রভাব: মস্তিষ্ক শান্ত হয়, মন ধীর ও স্থির হয় এবং ভাবাবেগ, ভয়-ভীতি ও ক্রোধ আলগা হয়। সাধক সুখ-দুঃখ সমানভাবে গ্রহণ করতে পারেন।সুতরাং, অর্ধকূর্মাসন প্রলয় বাবুর শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকে আরোগ্য লাভে সহায়ক এবং যোগসাধনার জন্য তাঁকে প্রস্তুত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও