‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব xx ও জনাব yy দেশের দুটি সম্মানজনক পদে অধিষ্ঠিত। সরকারের সকল নির্বাহী ক্ষমতা জনাব xx এর নামে গৃহীত হলেও তিনি কোনো ক্ষেত্রেই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন না। এমনকি দেশের সাংবিধানিক পদে নিয়োগ দানের জন্যও তাকে জনাব yy এর সাথে পরামর্শ করতে হয়।

  1. ক)

    কোরাম কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেন প্রয়োজন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব xx এর সাথে বাংলাদেশের শাসন বিভাগের কোন ব্যক্তির মিল আছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব yy এর পদ মর্যাদা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সংসদ বা আইনসভার অধিবেশন পরিচালনার জন্য ন্যূনতম যতজন সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হয়, তাকে কোরাম বলে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের কোরামের জন্য কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি আবশ্যক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অপরিহার্য। বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে পারে এবং নাগরিকরা তাদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। নিরপেক্ষভাবে বিরোধ মীমাংসা করা, সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে ভূমিকা পালন করা এবং পক্ষপাতহীন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ ও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত এবং স্বাধীন রাখা প্রয়োজন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব 'xx'-এর সাথে বাংলাদেশের শাসন বিভাগের 'রাষ্ট্রপতি'র মিল রয়েছে।

    সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক বা নামমাত্র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের সকল নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নামে পরিচালিত হয়, তবে তিনি কেবল আনুষ্ঠানিক বা নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হিসেবে কাজ করেন। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে, কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাঁর অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য থাকেন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব 'xx'-এর নামে সরকারের সকল নির্বাহী ক্ষমতা গৃহীত হলেও তিনি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না এবং সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগ দানের জন্য তাঁকে জনাব 'yy'-এর সাথে পরামর্শ করতে হয়। এই বৈশিষ্ট্যটি বাংলাদেশের সংবিধানের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলির সাথে হুবহু মিলে যায়। সুতরাং, জনাব 'xx' বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধিত্ব করেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব 'yy' হলেন সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার প্রকৃত নির্বাহী প্রধান, যিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে 'প্রধানমন্ত্রী'র পদমর্যাদাকে নির্দেশ করেন। নিম্নে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তাঁর পদমর্যাদা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সরকারের প্রধান ও প্রকৃত শাসক: বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা থাকবে এবং শাসন সংক্রান্ত যাবতীয় প্রকৃত ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত থাকে। রাষ্ট্রপতি কেবল নিয়মতান্ত্রিক প্রধান, পক্ষান্তরে প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারের মূল চালিকাশক্তি।

    ২. মন্ত্রিসভার নেতা: প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা গঠন করেন, মন্ত্রীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করেন এবং প্রয়োজনে যে কাউকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা রাখেন। তাঁর পদত্যাগের সাথে সাথে সমগ্র মন্ত্রিসভার পতন ঘটে, তাই তাঁকে মন্ত্রিসভার মধ্যমণি বলা হয়।

    ৩. সংসদ নেতা: জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা নির্বাচিত হন। সংসদের আইন প্রণয়ন, বাজেট পাস ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাঁর নির্দেশনায় পরিচালিত হয়।

    ৪. রাষ্ট্রপতির সাথে সংযোগকারী: তিনি রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার মধ্যে সংযোগ রক্ষা করেন। উদ্দীপকে যেমন দেখা যায় যে জনাব 'xx'-কে সকল সিদ্ধান্তে জনাব 'yy'-এর সাথে পরামর্শ করতে হয়, সংবিধানেও অনুরূপভাবে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমেই অন্যান্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে হয়।

    সুতরাং, উদ্দীপকের জনাব 'yy' হলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, যিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী, সরকারপ্রধান এবং শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন