বাংলা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মসজিদের ইমাম সাহেব রাস্তার পাশে ধূমপানরত একদল মুসলিম যুবককে ধূমপান না করে ভালোভাবে পড়ালেখা করার ও মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার উপদেশ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই যুবকরা বিভিন্নভাবে ইমাম সাহেবকে অপমান করার চেষ্টা করে চলে যায়। কিন্তু তাদের আচরণে রাগ না করে ইমাম সাহেব তাদের হেদায়েতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। এতে বিস্মিত হন ইমাম সাহেবের সাথে থাকা মুরব্বি লোকটি। তিনি তাদের বিরুদ্ধে এলাকার চেয়ারম্যানের কাছে নালিশ করার কথা বললেও ইমাম সাহেব তা করতে চাননি। পরদিন ভোরবেলা মসজিদে যাওয়ার পথে ওই যুবকদের দ্বারা আক্রান্ত হন ইমাম সাহেব। এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
- ক)(1)
কার শিথিল অঙ্গ মাটিতে লুটাইল?
- খ)(2)
'আমি রাজা নই, সম্রাট নই, মানুষের প্রভু নই।'
- গ)(3)
উদ্দীপকের যুবকদের আচরণ মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের যে দিকটির ইঙ্গিত বহন করে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের ইমাম সাহেব যেন মুহাম্মদ (স.) এর আদর্শেরই অনুসারী” – মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
হযরত ওমরের (রা.) শিথিল অঙ্গ মাটিতে লুটাইল।
- খ)
এ উক্তিটি মহানবী হযরত মুহম্মদ (স.)-এর। তিনি নিজেকে কখনো রাজা, সম্রাট বা মানুষের প্রভু মনে করতেন না, বরং সাধারণ মানুষের একজন মনে করতেন। যারা তাঁর কাছে ভয় ও সম্ভ্রমে সংকুচিত হতো, তাদের তিনি এভাবে অভয় দিতেন। এতে তাঁর বিনয়, সাম্যবোধ ও মানবিকতা ফুটে ওঠে। তিনি জীবনে সরল ও সাধারণ জীবনযাপন করেছেন এবং আল্লাহর বান্দা ও রাসুল হিসেবেই নিজের পরিচয় দিয়েছেন।
- গ)
উদ্দীপকের যুবকদের আচরণ 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের সত্যের প্রতি অজ্ঞতা, অসহিষ্ণুতা ও কল্যাণকামীর প্রতি শত্রুতার দিকটির ইঙ্গিত বহন করে।
প্রবন্ধে দেখা যায়, মহানবী (স.) যখন মানুষকে কল্যাণের পথে আহ্বান জানান, তখন মক্কার অনেকে তাঁকে অপমান ও নির্যাতন করেছে। উদ্দীপকেও ইমাম সাহেব যুবকদের ধূমপান ছেড়ে নামাজ ও পড়ালেখায় মনোযোগী হতে উপদেশ দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে অপমান করে এবং পরদিন আক্রমণও করে। এ আচরণে সদুপদেশের প্রতি তাদের অসহিষ্ণুতা ও শত্রুতা প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
উদ্দীপকের ইমাম সাহেব ক্ষমা, ধৈর্য ও কল্যাণকামনার ক্ষেত্রে মহানবী (স.)-এর আদর্শের অনুসারী, উক্তিটি যথার্থ।
১. ক্ষমা ও সহনশীলতা: মহানবী (স.) নির্যাতনকারীদের প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা করেছেন, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ মক্কা বিজয়ের দিন শত্রুদের ক্ষমা। ইমাম সাহেবও যুবকদের অপমানে রাগ না করে ধৈর্য ধরেছেন।
২. কল্যাণ কামনা: নবীজি (স.) শত্রুর হেদায়েতের জন্যও দোয়া করতেন। ইমাম সাহেব তেমনি যুবকদের হেদায়েতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন।
৩. প্রতিশোধ থেকে বিরত থাকা: মুরব্বি লোকটি চেয়ারম্যানের কাছে নালিশ করতে চাইলেও ইমাম সাহেব তা চাননি, যা নবীজির উদার ও ক্ষমাশীল চরিত্রের প্রতিফলন।সুতরাং, ধৈর্য, ক্ষমা ও কল্যাণ কামনার গুণে ইমাম সাহেব মহানবী (স.)-এর আদর্শের যথার্থ অনুসারী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও