হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: মিঠুন জানতে পারে আধুনিক গবেষকদের মতে 'ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনক' খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে বর্তমান ছিলেন। তিনি বর্তমান বারণবাসী নগরে গঙ্গার তীরে বাস করতেন এবং চিকিৎসাবিদ্যা চর্চা করতেন।দৃশ্যকল্প-২: মিঠুন আরও জানতে পারে 'ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক' ব্যাধিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট দূর করার জন্য চররূপে পৃথিবীতে মুনির পুত্র হয়ে খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে আবির্ভূত হন। তিনি প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রে যে বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন তা আটটি ভাগে বিভক্ত।
- ক)(1)
বিশ্বামিত্রের পুত্রের নাম কী?
- খ)(2)
অদ্বৈতবাদ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মিঠুনের জানা 'ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনকের' চিকিৎসা বিজ্ঞানে অবদান বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের জনকের অবদান মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বিশ্বামিত্রের পুত্রের নাম সুশ্রুত।
- খ)
অদ্বৈতবাদ হলো শ্রীশঙ্করাচার্যের প্রচারিত দার্শনিক মতবাদ, যা তাঁর ধর্মের মূল কথা। অদ্বৈত অর্থ দ্বৈত নয় বা এক। এই মতবাদে বলা হয়, 'ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা। জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই।' অর্থাৎ জীব ও ব্রহ্ম অভিন্ন, ব্রহ্মই একমাত্র সত্য। শঙ্করাচার্য পাণ্ডিত্য ও বাগ্মিতা দিয়ে কুমারিল ভট্ট, মণ্ডন মিশ্র প্রভৃতি পণ্ডিতদের পরাজিত করে এ মত প্রতিষ্ঠা করেন।
- গ)
মিঠুনের জানা 'ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনক' হলেন সুশ্রুত। চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাঁর অবদান অসামান্য।
সুশ্রুত প্রাচীন ভারতের একজন মহান চিকিৎসক। তাঁর পিতা বিশ্বামিত্র মুনি। দেববৈদ্য ধন্বন্তরী কাশীরাজের পুত্র দিবোদাস হয়ে জন্মালে বিশ্বামিত্র সুশ্রুতকে তাঁর কাছে আয়ুর্বেদ শিক্ষার জন্য পাঠান। আধুনিক গবেষকদের মতে তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দে ছিলেন এবং বর্তমান বারাণসী নগরে গঙ্গার তীরে বাস করতেন।
তাঁর অবদানগুলো হলো,
১. আয়ুর্বেদ শিখে তিনি চিকিৎসা-সংক্রান্ত গ্রন্থ 'সুশ্রুতসংহিতা' রচনা করেন।
২. তিনি প্রধানত শল্যবিদ্যার চর্চা করতেন, তাই তাঁকে ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনক বলা হয়।
৩. তিনি তাঁর গ্রন্থে শল্যবিদ্যার ৩০০ প্রকার পদ্ধতি এবং ১২০টি চিকিৎসাযন্ত্রের বর্ণনা দিয়েছেন। পাশ্চাত্যে বর্তমানে এই যন্ত্রগুলোর আধুনিকায়ন ঘটেছে।
৪. সুশ্রুতসংহিতা চারটি ভাগে বিভক্ত, সূত্রস্থান, শারীরস্থান, চিকিৎসিতস্থান ও কল্পস্থান। এতে শল্যতন্ত্র, রসায়নতন্ত্র, ঔষধ, অস্থি, রোগের লক্ষণ ও পথ্যাপথ্য বর্ণিত হয়েছে।এভাবে সুশ্রুত সুশ্রুতসংহিতা রচনা করে মানবজাতির বিশেষ মঙ্গল সাধন করেছেন।
- ঘ)
দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত 'ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক' হলেন চরক। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানেও তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান।
পাঠ্যবই অনুযায়ী চরক খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে মুনিপুত্ররূপে আবির্ভূত হন। মানুষের ব্যাধির কষ্ট দূর করতে তাঁর পৃথিবীতে আগমন। তাঁর রচিত 'চরকসংহিতা' আটটি ভাগে বিভক্ত, সূত্রস্থান, নিদানস্থান, বিমানস্থান, শারীরস্থান, ইন্দ্রিয়স্থান, চিকিৎসাস্থান, কল্পস্থান ও সিদ্ধিস্থান।
১. রোগ প্রতিরোধের গুরুত্ব : চরক বলেছেন, রোগের চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা বেশি জরুরি। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে (যেমন টিকা, স্বাস্থ্যবিধি) অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
২. দেহের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে ধারণা : তিনিই প্রথম মানবদেহের পরিপাক, বিপাক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে বলেন। শরীরের কার্যকারিতার জন্য তিনি বাত, পিত্ত ও কফ, এই তিন দোষ বা উপাদানের কথা বলেছেন। এর সামঞ্জস্য নষ্ট হলে শরীর অসুস্থ হয়।
৩. দেহতত্ত্ব ও রোগনির্ণয় : তিনি মানবদেহে দাঁতসহ ৩৬০টি অস্থি আছে বলেছেন। হৃদপিণ্ডকে তিনি দেহের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বলেছেন, যা ১০টি পথে সমগ্র শরীরের সাথে যুক্ত। তিনি প্রজনন বিদ্যা সম্পর্কেও জানতেন। রোগীর চিকিৎসার আগে রোগের কারণ ও পরিবেশ সম্পর্কে ভাবতে বলাও আধুনিক রোগনির্ণয়ের নীতির সাথে মেলে।
৪. আন্তর্জাতিক প্রভাব : চরকসংহিতা ও সুশ্রুতসংহিতা ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে আরবি ভাষায় অনূদিত হয় এবং এর মাধ্যমে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোপের অনেক চিকিৎসক ভারতে এসে এই বিদ্যা শেখেন। বর্তমানেও আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় এর গুরুত্ব আছে।
সুতরাং চরক রোগ প্রতিরোধ, দেহতত্ত্ব ও চিকিৎসা-পদ্ধতিতে যে ভিত্তি তৈরি করেছেন, তা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্যও মূল্যবান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও