বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
বিশিষ্ট শিল্পপতি গণি মিয়া তার স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে ব্যবসায়ের কাজে নিয়োজিত করেন। তার ধারণা টাকাই জীবনের সব। অপরদিকে রহিম মিয়া তাঁর ছেলেকে আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য অনেক কষ্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করান। তার আশা ছেলে শিক্ষাজীবন শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবে।
- ক)(1)
লেফাফাদুরস্তি কী?
- খ)(2)
'অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়ে মুক্তি বড়'-উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের গণি মিয়ার মাঝে 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের যে দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের রহিম মিয়ার কার্যক্রমে শিক্ষার অপ্রয়োজনীয় দিকটাই প্রতিফলিত হয়েছে"- 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
লেফাফাদুরস্তি হলো বাইরের চাকচিক্য, বাহ্যিক ভদ্রতা ও আড়ম্বর, যেখানে ভেতরের সারবত্তা থাকে না।
- খ)
অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্য মানুষের বস্তুগত প্রয়োজন মেটায়, কিন্তু মানুষের প্রকৃত মর্যাদা মনের স্বাধীনতা ও মুক্ত চিন্তার ওপর নির্ভর করে। যে মানুষ খাওয়া-পরায় সচ্ছল কিন্তু মানসিকভাবে পরাধীন বা সংকীর্ণ, সে প্রকৃত অর্থে মুক্ত নয়। তাই মনের মুক্তি ও আত্মিক স্বাধীনতাকে বস্তুগত প্রাচুর্যের চেয়ে বড় বলা হয়েছে।
- গ)
উদ্দীপকের গণি মিয়ার মাঝে 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের বস্তুবাদী ও অর্থকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, অর্থাৎ মনুষ্যত্বহীন শিক্ষাভাবনার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা: প্রবন্ধে বলা হয়েছে, শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল জীবিকা বা বিত্ত অর্জন নয়, বরং প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠা। উদ্দীপকে গণি মিয়া মনে করেন টাকাই জীবনের সব। তাই তিনি স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে লেখাপড়ার বদলে ব্যবসায়ের কাজে লাগান। এতে শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব বিকাশের চেয়ে অর্থ উপার্জনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা প্রবন্ধের মূল ভাবের বিপরীত।
- ঘ)
উদ্দীপকের রহিম মিয়ার কার্যক্রমে শিক্ষার অপ্রয়োজনীয় দিকটাই প্রতিফলিত হয়েছে, উক্তিটি যথার্থ নয়। বরং তাঁর কাজে শিক্ষার প্রকৃত ও প্রয়োজনীয় দিকই ফুটে উঠেছে।
১. আদর্শ শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব: 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে শিক্ষাকে মনুষ্যত্ব বিকাশের মাধ্যম বলা হয়েছে। রহিম মিয়া অনেক কষ্ট করেও ছেলেকে আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান। এতে এই ভাবনারই প্রকাশ ঘটেছে।
২. দেশ ও জাতির কল্যাণ: প্রবন্ধে শিক্ষিত মানুষের কাছে সমাজ ও জাতির কল্যাণে অবদানের আশা করা হয়েছে। রহিম মিয়ার প্রত্যাশা, ছেলে শিক্ষা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবে।
৩. বস্তুবাদী চিন্তার বিপরীত: গণি মিয়ার মতো তিনি টাকাকেই সব মনে করেননি। বরং জ্ঞান ও মূল্যবোধকে বড় করে দেখেছেন।সুতরাং, রহিম মিয়ার কার্যক্রমে শিক্ষার অপ্রয়োজনীয় নয়, বরং প্রয়োজনীয় ও আদর্শ দিকই প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও