ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
পিতৃসুলভ নেতৃত্ব কী?
- খ)(2)
একজন নেতার দূরদৃষ্টি থাকা অত্যাবশ্যকীয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ডায়াগ্রাম ১ দ্বারা কোন ধরনের যোগাযোগকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ডায়াগ্রামদ্বয়ে উপস্থাপিত নেতৃত্বের কোন ধরনটিকে তুমি সুপারিশ করবে? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে নেতৃত্ব ব্যবস্থায় নেতা অনুসারীদের সাথে পিতার মতো স্নেহশীল ও অভিভাবকসুলভ আচরণ প্রদর্শন করেন এবং তাদের কল্যাণে কাজ করেন, তাকে পিতৃসুলভ নেতৃত্ব বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা, সমস্যা ও সুযোগসমূহ আগে থেকেই অনুধাবন করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একজন নেতার দূরদৃষ্টি থাকা অত্যাবশ্যক।
দূরদৃষ্টি বা প্রজ্ঞা হলো বর্তমানের অবস্থান থেকে ভবিষ্যতের ঘটনাবলিকে অনুমান করার মানসিক ক্ষমতা। প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। নেতা যদি পরিবর্তিত পরিস্থিতি আগে থেকে আঁচ করতে না পারেন, তবে সঠিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান সম্ভব হয় না। ফলে লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হয়। তাই সঠিক কৌশল প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য নিশ্চিত করতে নেতার দূরদৃষ্টি অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ডায়াগ্রাম-১ দ্বারা নিম্নগামী যোগাযোগ বা একমুখী যোগাযোগকে নির্দেশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে যখন কোনো আদেশ, নির্দেশ, তথ্য বা নীতিমালা নিচের স্তরের কর্মীদের কাছে প্রেরণ করা হয় এবং সেখানে অধস্তনদের কোনো প্রতিক্রিয়া বা মতামতের সুযোগ থাকে না, তাকে নিম্নগামী বা একমুখী যোগাযোগ বলা হয়।
উদ্দীপকের ডায়াগ্রাম-১-এ দেখা যায়, যোগাযোগ ব্যবস্থাটি চক্রাকারে কেন্দ্রস্থিত 'ব্যবস্থাপক' থেকে একমুখী তীরের মাধ্যমে চারপাশের 'কর্মী'দের দিকে প্রসারিত হয়েছে। এখানে কর্মীরা কেবল ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে নির্দেশনা গ্রহণ করছে, কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে ব্যবস্থাপকের কাছে কোনো তথ্য বা মতামতের প্রবাহ নেই। এটি পুরোপুরি ওপর থেকে নিচে তথ্যের একমুখী প্রবাহ ঘটাচ্ছে। অতএব, ডায়াগ্রাম-১ মূলত নিম্নগামী (বা একমুখী) যোগাযোগকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ডায়াগ্রামদ্বয়ে উপস্থাপিত নেতৃত্বের মধ্যে আমি ডায়াগ্রাম-২-এ প্রতিফলিত 'গণতান্ত্রিক বা অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব'কে সুপারিশ করব।
উদ্দীপকের ডায়াগ্রাম-১-এ দেখা যায় তথ্য ও আদেশের প্রবাহ কেবল ব্যবস্থাপক থেকে কর্মীদের দিকে গেছে, যা মূলত 'স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব'র চিত্র। পক্ষান্তরে, ডায়াগ্রাম-২-এ ব্যবস্থাপক ও কর্মীদের মধ্যে দ্বিমুখী যোগাযোগ (উভমুখী তীর) বিদ্যমান, যা 'গণতান্ত্রিক বা অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব'কে নির্দেশ করে।
গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে নেতা সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে অধস্তন কর্মীদের সাথে খোলামেলা আলোচনা ও পরামর্শ করেন। নিচে এ নেতৃত্ব সুপারিশ করার যৌক্তিক কারণসমূহ দেওয়া হলো:
১. মনোবল ও কাজের আগ্রহ বৃদ্ধি: কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দিলে তারা প্রতিষ্ঠানকে নিজের মনে করে এবং তাদের মনোবল বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।
২. সঠিক ও গুণগত সিদ্ধান্ত: সকলের মতামত ও চিন্তাধারা প্রতিফলিত হওয়ায় ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্ভাবনা কমে যায়।
৩. কর্মীদের সৃজনশীলতার বিকাশ: দ্বিমুখী যোগাযোগের ফলে কর্মীরা নতুন ধারণা প্রকাশ করতে পারে, যা তাদের মেধার বিকাশ ঘটায়।
৪. সহজ বাস্তবায়ন: নিজেদের অংশগ্রহণে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে এবং কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলে না।
৫. সুসম্পর্ক বজায় থাকা: এতে মালিক ও কর্মচারীর মধ্যে দূরত্ব কমে সৌহার্দ্যপূর্ণ শিল্প সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।অপরদিকে, ডায়াগ্রাম-১ এর স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বে কর্মীদের মতামত প্রকাশের কোনো সুযোগ না থাকায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয় এবং কাজের প্রতি অনিহা তৈরি হয়। তাই সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য ও স্থায়ী উন্নয়নের স্বার্থে ডায়াগ্রাম-২ এর গণতান্ত্রিক নেতৃত্বই সর্বোত্তম ও সুপারিশযোগ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও