হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

সুজন ও ধীমান দুই ভাই। তারা ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন গুরুর কাছে শিক্ষা লাভ করেন। সুজন কোনো দেব-দেবীর উপাসনা না করে এক ঈশ্বর সাধনায় নিজেকে নিমগ্ন রাখেন। অপরপক্ষে ধীমান বাবু সাংসারিক সকল কামনা-বাসনা, আসক্তি ত্যাগ করে ঈশ্বর সাধনায় বেরিয়ে পড়েন। তিনি দেশ-বিদেশে ঘুরে-ঘুরে ভগবানের নাম বিতরণ করেন।

  1. ক)

    হিন্দুধর্মের মূলে কে?

    (1)
  2. খ)

    ভক্তি বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    সুজন বাবুর ঈশ্বর লাভের উপায় পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ধীমান বাবুর জীবন-যাপনের সাথে কোন আশ্রমের সাথে মিল রয়েছে, তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    হিন্দুধর্মের মূলে রয়েছেন ভগবান স্বয়ং।

  2. খ)

    ভগবানের প্রতি ঐকান্তিক প্রেম বা ভালোবাসাকে ভক্তি বলে। নারদীয় ভক্তিসূত্রে বলা হয়েছে, ভগবানে ঐকান্তিক প্রেমই ভক্তি।
    শাণ্ডিল্য সূত্রে বলা হয়েছে, ভগবানের পদে একান্ত রতি বা অনুরাগই ভক্তি। ভক্তির মূলে থাকে গভীর বিশ্বাস ও আত্মসমর্পণ। এটি মানব হৃদয়ের একটি সুকুমার বৃত্তি। ভক্তির মাধ্যমে ভক্ত ভগবানের অনুগ্রহ লাভ করেন।

  3. গ)

    সুজন বাবুর ঈশ্বর লাভের উপায় হলো নিরাকার উপাসনা বা জ্ঞানযোগ।

    ধারণা: 'নিরাকার' শব্দের অর্থ যার কোনো আকার নেই। এ উপাসনা ঈশ্বরের কোনো প্রতিকৃতিকে উদ্দেশ্য করে করা হয় না। নিরাকার ঈশ্বর অদৃশ্য অবস্থায় আছেন এবং তাঁকে উপলব্ধি করে তাঁর উপাসনা করা হয়। মূলত ধ্যান সাধনার মাধ্যমে এ উপাসনা করা হয়। জ্ঞানযোগ নিরাকার উপাসনার একটি অংশ। নিরাকারবাদী যোগীরা ওঙ্কারধ্যানের মাধ্যমে উপাসনা করেন। জ্ঞানী সাধকের কাছে ঈশ্বর ব্রহ্মরূপে প্রতিভাত হন।

    উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: সুজন বাবু কোনো দেব-দেবীর উপাসনা না করে এক ঈশ্বরের সাধনায় নিজেকে নিমগ্ন রাখেন। এতে বোঝা যায়, তিনি প্রতিমা বা প্রতীকের মাধ্যমে নয়, ধ্যান ও জ্ঞানের মাধ্যমে নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনা করেন।

    অতএব, সুজন বাবুর ঈশ্বর লাভের উপায় নিরাকার উপাসনা ও জ্ঞানযোগ।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ধীমান বাবুর জীবন-যাপনের সাথে সন্ন্যাস আশ্রমের মিল রয়েছে।

    হিন্দুধর্মে শতবর্ষের জীবনকে ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস, এই চার আশ্রমে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি আশ্রম গড়ে পঁচিশ বছরের।

    ১. সর্বত্যাগ: সন্ন্যাস শব্দের অর্থ সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ। সন্ন্যাসী জাগতিক সকল কর্ম পরিত্যাগ করে কেবল ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন থাকেন। উদ্দীপকে ধীমান বাবু সাংসারিক সকল কামনা-বাসনা ও আসক্তি ত্যাগ করে ঈশ্বর সাধনায় বেরিয়ে পড়েছেন।
    ২. একাকী ও সরল জীবন: এ আশ্রমে সন্ন্যাসী একাকী জীবনযাপন করেন, তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদ সাধারণ থাকে এবং তিনি অতীত জীবনের স্মৃতি পরিহার করেন। ধীমান বাবুর গৃহত্যাগ এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
    ৩. ভ্রমণ ও ঈশ্বরের নাম প্রচার: সন্ন্যাসীরা আশ্রয়হীন অবস্থায় মন্দির বা দেবালয়ে ক্ষণকাল আশ্রয় নেন। ধীমান বাবু দেশ-বিদেশে ঘুরে ভগবানের নাম বিতরণ করেন।
    ৪. আসক্তি ত্যাগের তাৎপর্য: গীতায় বলা হয়েছে, কর্মফলের বাসনা না করে যিনি কর্তব্যকর্ম করেন, তিনিই সন্ন্যাসী ও যোগী। ধীমান বাবু আসক্তি ত্যাগ করে এই আদর্শই অনুসরণ করেছেন।

    সুতরাং, সর্বত্যাগ, ঈশ্বরচিন্তা ও ভ্রমণশীল জীবনের কারণে ধীমান বাবুর জীবন-যাপন সন্ন্যাস আশ্রমের সাথে মেলে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন