বাংলা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
7.1.
তোমার কলেজ জীবনের কোনো তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করো।
7.2.
অথবা, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের ভেজাল প্রবণতা বিষয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন রচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-লিখিত কাল্পনিক নমুনা। প্রশ্নে না-দেওয়া নাম, তারিখ, যোগাযোগ, সংখ্যা ও জরিপ/সাক্ষাৎকারের বিবরণ উদাহরণভিত্তিক অনুমান; বাস্তবে তথ্যসংগ্রহ করা হয়েছে এমন দাবি নয়।
৭.১. কলেজ জীবনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা:
একটি অবিস্মরণীয় দিন: রক্তদান কর্মসূচির স্মৃতি
কলেজ জীবন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বর্ণিল ও শিক্ষণীয় অধ্যায়। এই জীবনে বহু ঘটনা ঘটে যায়, যার মধ্যে কিছু স্মৃতি চিরকাল মনের মণিকোঠায় অম্লান থাকে। আমার কলেজ জীবনের এমনই এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময়।
তারিখটি ছিল ২১শে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আমাদের কলেজের রোভার স্কাউটস ও রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে একটি স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর আগে কখনোই রক্তদান করার সুযোগ বা সাহস আমার হয়নি। ভেতরে এক ধরনের অজানা ভয় কাজ করছিল—ইনজেকশনের সূঁচের ব্যথা কেমন হবে, রক্ত দিলে দুর্বল হয়ে পড়ব কি না ইত্যাদি।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন আমাদের কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয়। তিনি তাঁর বক্তব্যে বললেন, "এক ব্যাগ রক্ত মানে একটি মানুষের নতুন জীবন। আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসাই শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য।" শিক্ষকের এই বাণী আমার ভেতরের দ্বিধা ও ভয় মুহূর্তেই দূর করে দিল। আমি লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম পূরণ করলাম এবং চিকিৎসকের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে রক্তদানের জন্য বেডে শুয়ে পড়লাম।
কিছুক্ষণের মধ্যেই খুব সহজে এক ব্যাগ রক্ত নেওয়া সম্পন্ন হলো। সামান্যতম যে ভয় ছিল, রক্তদানের পর মনটা এক স্বর্গীয় তৃপ্তিতে ভরে গেল। কিছুক্ষণ পরই শুনতে পেলাম, স্থানীয় একটি হাসপাতালে মুমূর্ষু এক প্রসূতি মাকে রক্ত দেওয়ার জন্য রক্তের প্রয়োজন ছিল এবং আমার দেওয়া 'ও পজিটিভ' রক্তটি তাঁর জন্য পাঠানো হলো। তখন যে আত্মতৃপ্তি ও আনন্দ আমি অনুভব করেছিলাম, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
সেই ঘটনাটি আমার দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল। আমি বুঝতে পেরেছিলাম, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে নিজের সামান্যতম ত্যাগও কত বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে। কলেজ জীবনের সেই দিনটি আজও আমাকে মানবিক কাজে যুক্ত হতে প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা যোগায়।
অথবা,
৭.২. নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের ভেজাল প্রবণতা বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:
শিরোনাম: নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যে ভেজালের বিষবাষ্প: জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মেশানো একটি ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক জাতীয় সমস্যায় রূপ নিয়েছে। বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য অপরিহার্য, কিন্তু সেই খাদ্যই যদি বিষাক্ত উপাদানে ভরে ওঠে, তবে জাতির ভবিষ্যৎ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে বাধ্য। সাম্প্রতিক সময়ে বাজার পরিদর্শনে বেরিয়ে এসেছে খাদ্যদ্রব্যে ভেজালের এক লোমহর্ষক চিত্র।
বাজারের বর্তমান চিত্র ও ভেজালের ধরন:
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি ভোগ্যপণ্যে ভেজাল মিশিয়ে অসাধু চক্র মুনাফা লুটছে। চালকে উজ্জ্বল ও চকচকে করতে রাসায়নিক দিয়ে পালিশ করা হচ্ছে। ডালে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত কৃত্রিম রং। সর্ষের তেলের ঝাঁঝ বাড়াতে দেওয়া হচ্ছে ঝাঁঝালো কেমিক্যাল ও অন্যান্য সস্তা পাম অয়েল। সবচেয়ে মারাত্মক অবস্থা দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে; সেখানে ডিটারজেন্ট, ফরমালিন ও মেলামাইন ব্যবহারের অভিযোগ নিয়মিত উঠছে। এছাড়া শাকসবজি ও ফলমূল দীর্ঘস্থায়ী করতে বিপজ্জনক ফরমালিন এবং দ্রুত পাকাতে কার্বাইড ব্যবহার যেন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। মাছ-মাংসেও অ্যান্টিবায়োটিক ও বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ভেজাল মেশানোর মূল কারণ:
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাতারাতি অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন এবং অধিক ওজন ও স্থায়িত্ব পাওয়ার লোভই এই ভেজাল সংস্কৃতির মূল কারণ। এছাড়া বাজারে নিয়মিত তদারকির অভাব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতার ঘাটতি এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
জনস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব:
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিকযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে কিডনি বিকল, লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার, পাকস্থলীর আলসার এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো প্রাণঘাতী রোগের প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এটি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি সাধন করছে।
প্রতিকার ও সুপারিশ:
১. নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত ও কঠোর বাজার মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।
২. খাদ্য আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি ও জরিমানা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. প্রতিটি বাজারে মাননিয়ন্ত্রণ গবেষণাগার স্থাপন করে নিয়মিত খাদ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. ভোক্তাদের সচেতন হতে হবে এবং সন্দেহজনক খাদ্যের বিরুদ্ধে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
উপসংহার:
খাদ্যে ভেজাল দেওয়া কেবল অপরাধ নয়, এটি একটি মানবতাবিরোধী কাজ। জাতির স্বাস্থ্য ও মেধা রক্ষায় এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক পঙ্গু ও রুগ্ন জাতিতে পরিণত হবে। তাই সরকারের পাশাপাশি সর্বস্তরের নাগরিকদের এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
প্রতিবেদকের নাম: শাহরিয়ার হোসেন
পদবি: নিজস্ব প্রতিবেদক
তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
স্থান: ঢাকা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও