বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

'বিদেশি সেনার কামান বুলেটে বিদ্ধ নারী শিশু আর যুবক-জোয়ান-বৃদ্ধ শত্রু সেনারা হত্যার অভিযানে মুক্তিবাহিনী প্রতিরোধ উত্থানে মুক্তির পথ যুদ্ধেও রয় জেনে ঘাতক ধ্বংস করেছে অস্ত্র হেনে।'

  1. ক)

    ‘ওয়েলডিং ওয়ার্কশপ' অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    মিন্টু কোন বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'বিদেশি সেনা' 'রেইনকোট' গল্পের কাদের সাথে তুলনীয়? পাঠ্যগল্পে তাদের তৎপরতার সাথে উদ্দীপকের বর্ণনার মিলগুলো তুলে ধরো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকটির 'মুক্তিবাহিনী'র সাথে 'রেইনকোট' গল্পে বর্ণিত মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষশক্তির বর্ণনা অনেকটা সাদৃশ্যযুক্ত হলেও বৈসাদৃশ্যও রয়েছে।" মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘ওয়েলডিং ওয়ার্কশপ’ অর্থ হলো ঝালাইয়ের কারখানা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মিন্টু তার ভগ্নিপতি নূরুল হুদার বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল।

    মিন্টু ছিল নূরুল হুদার শ্যালক। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সে দেশের স্বাধীনতার জন্য সক্রিয় যুদ্ধে অংশ নিতে একদিন কাউকে কিছু না বলে গোপনে নূরুল হুদার বাসা ছেড়ে চলে যায় এবং মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'বিদেশি সেনা' 'রেইনকোট' গল্পের দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে তুলনীয়।

    'রেইনকোট' গল্পে পাকিস্তানি সেনারা বাংলাদেশে নিরীহ মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। উদ্দীপকে যেমন বিদেশি সেনাদের কামান ও বুলেটে নারী, শিশু, যুবক ও বৃদ্ধ নির্বিশেষে নিহত হওয়ার চিত্র রয়েছে, ঠিক তেমনি গল্পেও পাকিস্তানি বাহিনীর ত্রাস, মিলিটারি ক্যাম্প স্থাপন এবং সাধারণ বাঙালিদের ধরে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন ও গণহত্যার রূপটি উন্মোচিত হয়েছে। গল্পে দেখা যায়, কলেজের পিয়ন ইসহাক মিয়া থেকে শুরু করে নূরুল হুদাসহ সাধারণ নাগরিকরা সবসময় মিলিটারির মৃত্যুভয়ে সন্ত্রস্ত থাকত। পাকিস্তানি হানাদাররা নির্বিচারে বাঙালি নিধনে মেতে উঠেছিল, যা উদ্দীপকের বিদেশি সেনাদের বর্বর হত্যাকান্ডের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকটির 'মুক্তিবাহিনী'র সাথে 'রেইনকোট' গল্পে বর্ণিত মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষশক্তির বর্ণনা অনেকটা সাদৃশ্যযুক্ত হলেও বৈসাদৃশ্যও রয়েছে"— মন্তব্যটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে মুক্তিবাহিনীর প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে অস্ত্র হেনে শত্রুসেনাদের ধ্বংস করার বীরত্বপূর্ণ রূপটি সরাসরি বর্ণিত হয়েছে।

    'রেইনকোট' গল্পেও মুক্তিবাহিনীর প্রতিরোধ স্পৃহা বিদ্যমান। সেখানে ঢাকা শহরের বুকে গেরিলা আক্রমণের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা ইলেকট্রিক সাব-স্টেশন উড়িয়ে দেয় এবং হানাদারদের ক্যাম্পের কাছাকাছি আক্রমণ চালিয়ে তাদের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। মিন্টুর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন—এগুলো উদ্দীপকের সাথে গভীর সাদৃশ্য তৈরি করে।

    তবে বৈসাদৃশ্যটি হলো, উদ্দীপকে মুক্তিবাহিনীর প্রত্যক্ষ যুদ্ধ ও ঘাতক নিধনের সরাসরি দৃশ্য প্রাধান্য পেয়েছে। পক্ষান্তরে, 'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযোদ্ধাদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের লড়াইয়ের চেয়ে তাদের গেরিলা তৎপরতার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর কেমন ছিল, তা ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে একজন সাধারণ ভিতু কলেজ শিক্ষক নূরুল হুদা কীভাবে শ্যালক মিন্টুর রেখে যাওয়া রেইনকোট গায়ে দিয়ে অবচেতনভাবেই মুক্তিযোদ্ধার সাহসী চেতনায় রূপান্তরিত হয় এবং মিলিটারির অকথ্য নির্যাতন সহ্য করেও মাথা নত না করে আত্মিক মুক্তি পায়—সেই মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তরটিই গল্পের মূল বিষয়। ফলে উদ্দীপকের প্রত্যক্ষ রণক্ষেত্রের বর্ণনার সাথে গল্পের মনস্তাত্ত্বিক ও পরোক্ষ প্রতিরোধের ভিন্নতা রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন